শ্যামনগরে সরকারি খাল এখন ভূমিদস্যুদের দখলে: নির্দেশ অমান্য করে গাছ কর্তন


প্রকাশিত : আগস্ট ২৪, ২০১৯ ||

মুন্সিগঞ্জ (শামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি খাল এখন ভূমিদস্যুদের দখলে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে চলছে গাছ কর্তন। উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুর্গাবাটীতে আবারো সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ভূমি দখলে মেতে উঠেছে ভূমিদস্যুরা। শ্যামনগর দুর্গাবাটী গ্রামের ৩৫নং সরকারি ভামিয়া পোড়াকাটলা প্রাইমারী স্কুলের সামনে রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কর্তন করে অবৈধভাবে খাল দখলে মত্ত স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহল। অনুসন্ধানে দেখা যায়, দুর্গাবাটী গ্রামের মৃত সুরেন মন্ডলের ছেলে ভোলা মন্ডল (৪২) ও সুশীল মন্ডলের ছেলে মৃনাল (৫২) এর নেতৃত্বে কতিপয় ব্যক্তি তাদের নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থে অবৈধভাবে সরকারি গাছ নিধন ও খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে। ইতোপূর্বে শ্যামনগর সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর নির্দেশক্রমে সংশ্লি¬ষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শেখ আবু সুফিয়ান অবৈধ ভূমি দখল দোকানঘর উচ্ছেদের নোটিশ প্রদান করেন। সরকারি নোটিশ অমান্য করে, সম্পূর্ণ গায়ের জোরে গত শনিবার মধ্যরাতে পূর্বদুর্গাবাটী ব্রিজের পশ্চিম পাশে মন্দির সংলগ্ন সরকারি খালপাড়ের গাছপালা কর্তন ও খালের উপর অবৈধভাবে দখল করে দখলদাররা। স্থানীয়রা বলছেন, আমাদের এলাকায় একটিমাত্র সরকারি খাল। এভাবে খাল পাড়ের গাছপালা উজাড় ও অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে দখল হতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে অত্র এলাকায় উপকূলীয় পরিবেশ নির্মল ও পরিবেশ দূষিত হয়ে উপকূলীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দুর্বিসহ হয়ে উঠবে। এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে সংশি¬ষ্ট ইউনিয়ন সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তা আবু সুফিয়ানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি গাছ ও খাল দখলের সত্যতা পেয়েছি। দখলদারদের অবৈধ স্থাপনা নিজ নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ এবং অফিসিয়াল নোটিশ করেছি। তিনি আরো বলেন, তারা অফিসিয়াল নোটিশ অমান্য করলে আমি সেখানে উচ্ছেদ অভিযানে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য আমাকে ফোন করেন। নোটিশ অমান্য করে পুনরায় গাছ কর্তন ও খাল দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরোও বলেন, আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে জানিয়েছি, যথা সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল বলেন, নায়েব সাহেব উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে গেলে স্থানীয় লোকজন আমাকে ফোন দেয়। আমি বিষয়টি স্থানীয় সালিশীর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার কথা বলি। রাতের আঁধারে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছ কেটেছে আমি লোকমুখে শুনেছি কিন্তু আমি দেখিনি, যদি কেউ সরকারি গাছ কেটে থাকে তাহলে তারা খুবই অন্যায় করেছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এদিকে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল ২২ আগস্ট ‘জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নাগরিক সংলাপ’ শীর্ষক সভায় তিনি বলছেন, জেলার জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য সকল খাল ও নদী দখলমুক্ত করা হবে। সেই লক্ষ্যে আজ থেকে জেলার সকল সরকারি খাল ও নদী ইজারা বাতিল করা হয়েছে। এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত এলাকার চিহ্নিত ভূমি দখলদারদের হাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কর্তনকারীদের ও নেপথ্যে থাকা অন্যায় কাজের সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।