লিগ্যাল এইড’র কর্মশালায় জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান: বিচারের বাণী যেন নিরবে না কাঁদে


প্রকাশিত : আগস্ট ২৪, ২০১৯ ||

বদিউজ্জামান ও আব্দুল ওহাব: জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান বলেছেন, বিচারের বাণী যেন নিরবে না কাঁদে। তিনি আরও বলেন, গরীব-অসহায় মানুষ যাতে সত্যিকার অর্থে ন্যায় বিচার পায় সেজন্য আমরা কাজ করতে চাই। বিচার শুধু ধনীর জন্য নয়, গরীবেরও বিচার পাওয়ার অধিকার আছে, আমরা সেই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে চাই।
শনিবার বেলা ১১টায় দেবহাটা উপজেলা মুক্তমঞ্চে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সাথে উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজনে এবং উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সহায়তায় অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, দেবহাটা উপজেলা চেয়্যারম্যান আব্দুল গণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নবাগত পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ, দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরিন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. এম শাহ আলম, সরকারী কৌশুলী সরকার যামিনি কান্ত ও পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) তপন কুমার দাস।
জেলা ও দায়রা জজ তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে আরও বলেন, আমরা একটি মানবিক মহাসমাজ গড়তে চাই-এই জন্য ধনী-দরিদ্র সকলকে এক মঞ্চে আনতে হবে। তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলাকে বাংলাদেশের মডেল জেলায় রূপান্তর করতে হবে, এ জেলায় সত্য সুন্দর কল্যানকর ও আনন্দঘন বিচার ব্যবস্থা আমরা দেখতে চাই। শেখ মফিজুর রহমান আরও বলেন, আমরা যদি স্বাধীনতার সুফল পেতে চাই তাহলে আমাদের সকলকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি শেখ মফিজুর রহমান বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আসা চেয়ারম্যান, মেম্বর, মহিলা মেম্বর, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা ও ইমামদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।
এছাড়া কর্মশালায় উপস্থিত অতিথিগণ তাঁদের বক্তব্যে বৃটিশ আমলের পুরাতন কারাবিধি সংস্কার করে কারাবন্দিদের সকালের নাস্তায় খিঁচুড়ি ভাতের ব্যবস্থা করার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে লিগ্যাল এইড আইন-২০০০ এর উপর সাধারণ আলোচনা করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন নাহার।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মোস্তাফিজুর রহমান আদালতকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে আসার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, লিগ্যাল এইড’র কার্য্যক্রমের ফলে সাধারণ বিচারপ্রার্থী মানুষ আইনী সেবা থেকে আর বঞ্চিত হবেনা। তারা তাদের নায্য অধিকার ফিরে পাবে। তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা জেলাকে বাল্য-বিবাহ ও মাদক মুক্ত করতে চাই। তিনি কিছু অসাধু আইনজীবী কাম নোটারি পাবলিককে উদ্দেশ্য করে বলেন, যারা এফিডেভিটের মাধ্যমে অন্যায় ভাবে বিবাহ পড়ান এবং বয়স সংশোধন করেন তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ অত্যান্ত কঠোর অবস্থানে আছে, এ ধরনের কোন খবর পেলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে। পুলিশ সুপার জেলাকে মাদক ও জঙ্গীবাদ মুক্ত করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং লিগ্যাল এইড কার্য্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, পুলিশ ও আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভীতি আছে, সেটাকে কাটিয়ে উঠতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসাবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষ আইনের আশ্রয় নিতে আদালতের কাছে যায়, আর আজকে সেই আদালতই সাধারণ মানুষের কাছে এসেছে- এটা নিশ্চয় আমাদের সকলের জন্য সু-খবর।
এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাল্য বিবাহের কুফল সম্পর্কে সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন বলেন, মেয়েদের দেহের গঠন শুরু হয় ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সে। এ সময় বিয়ের জন্য একটি মেয়ে শারিরিক ভাবে আনফিট থাকে। অপরিণত বয়সে বিয়ে হলে ওই মা অসুস্থ্য সন্তানের জন্ম দেয়, ফলে মা ও শিশু উভয়েরই জীবনের ঝুকি বেড়ে যায়। তিনি ইউনিসেফে’র একটি তথ্য তুলে ধরে বলেন, অপরিণত বয়সে মেয়েদের বিয়ে না দিলে প্রতি বছর ২৩ হাজার শিশুকে রক্ষা করা যেত। ডা. আবু শাহিন আরও বলেন, আমাদের দেশে ১৮ বছরের আগে ৫২.০৩ শতাংশ মেয়ের বিবাহ হয়ে যাচ্ছে, ফলে তারা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে থেকেই যাচ্ছে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ বলেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মানুষ কেবল সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পাচ্ছে তা নয়, এ অফিসের দায়িত্ব প্রাপ্ত একজন দক্ষ অফিসার কাম বিচারকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ মামলা না করেও তাদের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তিরও সুযোগ পাচ্ছেন। সমগ্র কর্মশালাটি পরিচালনা করেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র জেলা জজ সালমা আক্তার।