তালার কোমরখালী বিলে ১৫০ বিঘা ফসলি জমি ও মৎস ঘের পানির নিচে


প্রকাশিত : আগস্ট ২৪, ২০১৯ ||

তালা (সদর) প্রতিনিধি: তালায় অপরিকল্পিতভাবে নেট-পাটা দিয়ে মৎস ঘের করায় পানির নিচে তলিযে গেছে প্রায় ১৫০ বিঘা ফসলি জমি ও মৎস ঘের। উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারুইহাটি গ্রামের কোমরখালি বিলের একমাত্র পানি নিষ্কাশনের পথের মুখে একই গ্রামের মৃত তফেল উদ্দীন জোয়ার্দ্দারের পুত্র ইলিয়াস জোয়ার্দ্দার ও মৃত নুর আলী সরদারের পুত্র বিল্লাল সরদার নেট-পাটা দিয়ে মৎস ঘের করায় কৃত্রিম এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের বৃষ্টিতে কৃত্তিম এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে স্থানীয় জনগণ মৌখিকভাবে বারবার কোমরখালি বিলের একমাত্র পানি নিষ্কাশনের পথ থেকে নেট-পাটা অপসারণের জন্য বললেও তারা কোন গুরুত্ব দেয়নি। অবশেষে উপয়ান্তু না পেয়ে স্থানীয় জনগণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর ২০১৮ সালে জুলাই মাসে একটি আবেদন দেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আগস্ট মাসের ৮ তারিখ গণশুনানির আদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। গণশুনানী শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর স্মারক নং-০৫.৪৪.৮৭৯০০. ১৯.০০৪. ১৮.১২২৪ তারিখ-১৪-০৮-২০১৮ তে উল্লেখ করা হয় আগামী দু’দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে জলাবদ্ধতা নিরাসনের জন্য তাদের ঘেরের পাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ আদেশ জারীর পরও তারা কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে সরেজমিন পরিদর্শ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। কিছু দিন পার হতে না হতেই আবরো তারা তাদের ঘেরের মুখে নেট-পাটা দিয়ে বহাল তবিয়তে মৎস চাষ শুরু করে। যার ফলে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কৃত্রিম এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় হাসেম আলী জমাদ্দার ও হারুনার রশিদ বলেন, বারুইহাটি গ্রামের কোমরখালি বিলের একমাত্র পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে ইলিয়াস জোয়ার্দ্দার ও বিল্লাল সরদার এই বিলে কৃত্রিম এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছেন। তারা কখনো আইনের প্রতি শ্রোদ্ধাশীল নয়। তাদেরকে বারবার বলা হলেও তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অদেশ অমান্য করে গায়ের জোরে ঐ বিলের পানি আটকে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। গত বছরও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশ প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে খালের পানি নিষ্কাশনের জন্য ইলিয়াস জোয়ারদ্দারের নেট পাটা অপসারণ করা হয়েছিলো। এ বছরও তাই করতে হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন বলেন, কোমরখালী বিলের পানি নিষ্কাসনের ব্যাপারে আমার কাছে একটা আবেদন এসেছে। সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক অবশ্যই প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।