ডেঙ্গু প্রতিরোধে কম্বিং অপারেশন শুরু: যে ওয়ার্ডে মিলবে লার্ভা সেই ওয়ার্ডের সদস্যের পদ স্থগিত, গৃহকর্তার জরিমানা


প্রকাশিত : আগস্ট ২৫, ২০১৯ ||

সাখাওয়াত উল্যাহ ও নিয়াজ কাউছার তুহিন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনে এবার বাড়ি বাড়ি কম্বিং অপারেশন শুরু করেছেন জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক নিজেই মাঠে নেমেছেন লিফলেট হাতে নিয়ে। গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে বিতরণ করছেন লিফলেট। বাড়ির আঙিনাসহ আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সাধারণ মানুষের দোর গোড়ায় পৌছে যাচ্ছেন তিনি। যেখানেই সমস্যা, সেখানেই সমাধানের বার্তা নিয়ে হাজির হচ্ছেন জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। জেলার সাতটি উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়ন আর দুটি পৌরসভার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছেন নিরন্তর। জেলার জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, চিকিৎসক, কৃষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে আলাপ-আলোচনা করে জেলার উন্নয়নে এবং মানুষের সেবায় নিজকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ডেঙ্গু ও জলাবদ্ধতা নিরসনে পথের ক্লান্তি ভুলে এক প্রকার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন জনবান্ধব কর্মবীর এই প্রশাসক।
এদিকে শনিবার দুপুর অনুমান ১টার দিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মোস্তফা কামাল, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কুশুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে ওই এলাকার বাড়ি বাড়ি ডেঙ্গু বিরোধী অভিযানে নামেন। কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দুপুর গ্রামে জনৈক সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। গৃহকর্তা একজন স্কুল শিক্ষক এবং তাদের কন্যা মেডিকেল কলেজের ছাত্রী। অভিযান পরিচালনাকালে তিনি দেখতে পান ওই বাড়ির বিভিন্ন স্থানে পানি জমা হয়ে আছে এবং সেখান থেকে মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গৃহকর্তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এরপর বেলা ২টার দিকে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল।
এসময় তিনি বলেন, জেলার অন্যান্য স্থানের তুলনায় কালিগঞ্জে বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে। একারণে এ উপজেলায় জনসচেতনতা সৃষ্টির কোন বিকল্প নেই। এজন্য সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করুক এটা আমি শুনতে চাইনা। আমি শুনতে চাই না ডেঙ্গু আক্রান্ত আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক।
এসময় তিনি জনপ্রতিধিদের সতর্ক করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের যে ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের পদ স্থগিত করতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে। যে বাড়িতে লার্ভা মিলবে সেই বাড়ির মালিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা প্রদান করা হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, গ্রামপুলিশ এক্ষেত্রে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন রতনপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুল হোসেন খোকন, কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান আকলিমা খাতুন লাকি, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রিয়াজ উদ্দিন, মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন, কুশুলিয়া ইউপি’র (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান শেখ সিরাজুল ইসলাম, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি প্রশান্ত কুমার সরকার প্রমুখ। এসময় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, ইউপি সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল উপজেলার তারালী, কুশুলিয়া ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে লিফলেট বিতরণ, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীকলা গ্রামের মৃত নুর উদ্দীনের ছেলে শিক্ষক রেজাউল ইসলামের বাড়ির গৃহপালিত গরুর পানি খাওয়া পরিত্যক্ত পাত্রে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়।
তাৎক্ষণিক মশক নিধন মেডিসিন স্প্রে করে লার্ভা নষ্ট করা হয় এবং বাড়ির মালিক রেজাউল ইসলামকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।