৮৪ বছরের জয়নাল আবেদিন সাতক্ষীরা থেকে সাইকেলে রাজশাহীতে

নিজস্ব প্রতিনিধি: হালকা পাতলা শরীর। মাথায় কাঁচা পাকা চুল। শে^ত শুভ্র শ্মশ্রু চোখের ভ্রু। গায়ের চামড়া ঝুলে গেছে। তবু মনের জোরই তার কাছে বড়। দেহে শক্তিরও কমতি নেই। এ অবস্থায় সাইকেলে রাজশাহী যাবেন ৮৪ বছরের বৃদ্ধ জয়নাল আবেদিন।
সাথে কয়েকটি রুটি, কিছু চিড়া, গুড় ও পানি। আছে স্যালাইন আর ব্যথার ট্যাবলেট। আরও আছে ছাতা ও একটি টর্চলাইটও। পকেটে সামান্য কিছু টাকা। এসব নিয়ে নিজের বাইসাইকেলে জয়নাল আবেদিন উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা ছেড়েছেন।
আজ সোমবার ভোরে তার গ্রাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাওনডাঙ্গা থেকে সাইকেলে চেপে রওনা হয়েছেন তিনি। বৃদ্ধ জয়নাল ২০০৪ সাল থেকে প্রতিবছরই যান রাজশাহীতে। ২৭৫ কিলোমিটারেরও বেশি দুরে অবস্থিত বিভাগীয় সিটি রাজশাহী তার গন্তব্যস্থল। সেখানে আহলে হাদিসের ইজতেমা অথবা কর্মী সম্মেলনকে লক্ষ্য করেই তার এই সাইেকেলযাত্রা অভিযান।
কষ্ট হয় কিনা জানতে চাইলে জয়নাল বলেন, না কোনো কষ্ট হয় না। অসুবিধাও হয়না। বৃষ্টি নামলে থেমে থাকি। বৃষ্টি ছাড়লে আবার সাইকেল চড়ি। চলতি পথে রাত্রিকালিন যাত্রা বিরতি হয় কোনো মসজিদে অথবা মাদ্রাসায়। কর্মসূচি শেষে আগামি শনিবার জয়নাল বাড়ির উদ্দেশ্যে ফের রওনা হবেন রাজশাহী থেকে।
জয়নাল আবেদিন সব বাঁধা বিপত্তি রোদ ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়েও সাইকেলে চলেছেন। তিনি বলেন, যতদিন শরীর চাইবে ততদিন এভাবেই রাজশাহী যাতায়াত করতে চান তিনি। মনের জোরই বেশি। আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভালো, তাই কোনো কষ্ট বোধ নেই। বরং আনন্দ লাভ করি বললেন জয়নাল আবেদিন।

আশাশুনিতে উপজেলা উন্নয়ন-সমন্বয় কমিটির সভা

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনি উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন-সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম। উপজেলা নির্র্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজার উপস্থাপনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী, মোসলেমা খাতুন মিলি, সহকারি কমিশনার (ভূমি) পাপিয়া আক্তার, স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. অরুন কুমার ব্যাণার্জী, প্রকৌশলী আক্তার হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান, প.প. কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দারুস সালাম, কৃষি অফিসার রাজিবুল হাসান, সমবায় অফিসার কারিমুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এসএম আজিজুল হক, সমাজসেবা কর্মকর্র্তা সুমনা শারমীন, ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল, ম. মোনায়েম হোসেন, সম সেলিম রেজা মিলন, শেখ জাকির হোসেন, আব্দুল আলিম, দিপঙ্কর সরকার, প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় উপজেলার সকল এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সকল খালের নেটপাটা অপসারণ, প্রতাপনগরের মুজিব কেল্লা স্থাপনের খামখেয়ালি রিপোর্ট দেওয়ায় তহশীলদারের বিরুদ্ধে তদন্ত, বড়দলের নজরুলসহ অন্যান্যদের ইটভাটায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, কেয়ারগাতি ও প্রতাপনগরের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের সিদ্ধান্তসহ বিভিন্ন প্রকার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অপরাধ করলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামি

দেবহাটা ব্যুরো: অপরাধ সংঘটিত করলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কালীগঞ্জ সার্কেল জামিরুল ইসলাম জামি। সোমবার বেলা ১২টায় দেবহাটা থানা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওপেন হাউজ ডে’র সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন তিনি। এএসপি জামি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিংসহ সকল অপরাধ নির্মুলে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছেন। অপরাধ কর্মকান্ড নির্মুলে সরকারের সেই জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে অন্যান্য সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতোই পুলিশ বাহিনীও আন্তরিকতার সাথে নিরালস কাজ করে চলেছে। ইতোমধ্যেই সাতক্ষীরা থেকে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের অন্যতম মুল হোতাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মুলেও প্রতিনিয়ত পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন ও ইভটিজিং প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। অপরাধীরা যতোই ক্ষমতাধর হোক, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বাহিনীবদ্ধ পরিকর। এসময় দেবহাটা প্রেসক্লাব নিয়ে বিভ্রান্ত সৃষ্টিসহ একাধিক নাম সর্বস্ব কমিটি গঠিত হওয়া এবং প্রেসক্লাব ভবনটি দীর্ঘ প্রায় সাত মাস যাবৎ তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি দু:খজনক উল্লেখ করে প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শাওন উত্থাপন করলে প্রেসক্লাব প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম জামি বলেন, সাংবাদিক সমাজ একটি জাতির চতুর্থ স্তম্ভ এবং প্রেসক্লাব একটি পবিত্র সংগঠন। প্রেসক্লাব মাসের পর মাস তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে থাকা এবং প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের কর্মকান্ড বিঘিœত হওয়া অত্যন্ত দু:খজনক। একটি স্বার্থন্বেসী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্যই সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে প্রেসক্লাবটি নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে। অবিলম্বে প্রশাসনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে প্রেসক্লাবের চলমান পরিস্থিতি নিষ্পত্তির জন্য উপস্থিত দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দদের প্রতি আহবান জানান তিনি। ওপেন হাউজ ডে’র আলোচনা সভায় দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) উজ্জল কুমার মৈত্র, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী, পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম।
এসময় বক্তব্য রাখেন দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শাওন, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সাহেব আলী, দেবহাটা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিজয় ঘোষ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সুমন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান কবীর প্রমুখ।

আশাশুনির খাজরায় রমজান বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা হলেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ: হুমকি অব্যাহত

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির খাজরায় রমজান বাহিনীর বিরুদ্ধে মারপিট ও ভাংচুরের ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের হয়েছে। গুরুতর আহত সাবেক ইউপি সদস্য কবীর হোসেনের ভাই মহাসিন সরদার বাদি হয়ে শনিবার আশাশুনি থানায় হামলাকারিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট, লুটপাটসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলা দায়ের হলেও কোন আসামী গ্রেপ্তার হয়নি এবং হামলাকারীরা হুমকি অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী। প্রতক্ষ্যদর্শী ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাত্তার গাজী জানান, উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের চেউটিয়া গ্রামের লতিফ সরদারের পুত্র কবির হোসেন খালিয়া মৌজায় ৮বিঘা জমিতে দীর্ঘদিন মৎস্য চাষ করেন। কাপসন্ডা গ্রামের সুন্দর আলি মোড়লের পুত্র চাঁদাবাজি, ঘের লুটপাটসহ ডজ্জনাধিক মামলার রমজান বাহিনীর প্রধান রমজান মোড়লের নেতৃত্বে তার বাহিনীর সদস্য খোকা, নুরুল্লাহসহ আরও ১০/১৫ জন গত ২০ আগস্ট কবিরের ঘেরে হাজির হয়ে তার কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে ২৪ ঘন্টা সময় বেঁদে দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে কবির ও মিলন সাতক্ষীরা রওয়ানা হয়ে কাপসন্ডা গ্রামে আমারাত হোসেনের বাড়ির সামনে পৌঁছান মাত্র রমজানের নেতৃত্বে তার বাহিনীর লোকজন দা, ঢাল, সড়কি, হাত বোমাসহ দেশিয় অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দলবেধে তাদের পথরোধ করে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এরপর তারা কোন রকমে পাশে সাত্তার গাজীর বাড়িতে আশ্রয় নিলে সে বাড়িতেও ঢুকে কুপিয়ে ও মারপিট করে। সাত্তার গাজী বাঁধা দিলে তাকে, তার ভাই সামাদ, স্ত্রী রোকেয়া ও মেয়ে ডালিয়াকেও পিটিয়ে-কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম ও শ্লীলতাহানি ঘটায়। হামলাকারীরা সাত্তারদের দু’টি বসতঘর ও ঘরের মালামাল ভাংচুর করে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করেছে সাত্তারের পরিবার সূত্রে জানাগেছে। এ খবরে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত সামাদকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কবীর হোসেনের ভাই মহাসিন সরদার বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক আরো ৮/১০ কে অজ্ঞাতনামা রেখে ২৩ (০৮)১৯ নং মামলা দায়ের হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। অপরদিকে হামলাকারীরা মুঠোফোনে ও বিভিন্নভাবে প্রান নাশের হুমকি অব্যহত রেখেছে বলে আহতদের পরিবার জানান। এ ব্যাপারে অনতি বিলম্বে আসামীদের গ্রেপ্তারপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে ভূক্তভোগীদের পরিবার পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আশাশুনিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি সভা

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সাড়ে ১০টার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্র্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। এ সময় বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী, মোসলেমা খাতুন মিলি, সহকারি কমিশনার (ভূমি) পাপিয়া আক্তার, স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. অরুন কুমার ব্যানার্জী, প্রকৌশলী আক্তার হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান, প. প. কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দারুস সালাম, কৃষি অফিসার রাজিবুল হাসান, সমবায় অফিসার কারিমুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এসএম আজিজুল হক, সমাজসেবা কর্মকর্র্তা সুমনা শারমীন, প্রধান শিক্ষক আশরাফুন্নাহার নার্গিস, সুপার আবুল হাসান, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এসএম আহসান হাবিব, ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিল, ম. মোনায়েম হোসেন, শেখ জাকির হোসেন, আব্দুল আলিম, দিপঙ্কর সরকার, প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় ১১টি ইউনিয়ন ও স্ট্রা একটি দল তৈরী করে ১২ দলের খেলা দরগাপুর শেখ রাসেল শিশু স্টেডিয়ামে উদ্বোধন হবে আগামী ০১ সেপ্টেম্বর’১৯ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। খেলা দুটি জোনে দরগাহপুর ও চাপড়া হিন্দোল যুব সংঘের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ক্রয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আশাশুনিতে ইয়াবাসহ মাদক স¤্রাট গডেল ও তার সহযোগী ফের আটক

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির কুখ্যাত মাদক স¤্রাট গডেলসহ তার সহযোগীকে ফের ইয়াবাসহ আটক করেছে থানা পুলিশ। থানা সূত্রে জানাগেছে, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসআই বিজন কুমার সরকার ও এএসআই শাহ জামাল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলা কাদাকাটি এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় কাদাকাটি বাজার এলাকা থেকে কাদাকাটি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের মোন্তাজ সানার ছেলে ফজলুর রহমান ওরফে গডেল (৪২) ও তার সহযোগি খরিয়াটি গ্রামের সাফের গাজীর ছেলে সিরাজুল (৩০)কে মাদক বিক্রির সময় ফের হাতেনাতে আটক করে। পরে তাদের দেহ তল্লাসি করে ২১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে আশাশুনি থানায় ৩২(০৮)১৯ নং মামলা দায়ের হয়েছে। প্রসঙ্গতঃ গডেল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যাবসা করে আসছে। ইতোপূর্বে গডেল বহুবার মাদকসহ পুলিশের খাচায় বন্ধি হয়ে হাজত বাস করেছে। বার বার আটক হলেও আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে জেল থেকে বেরিয়ে দ্বিগুন উৎসাহে আবারও মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও করে চলেছে। তার বিরুদ্ধে ডজনাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।

শ্যামনগরে অপহৃত রিমা উদ্ধার: প্রতারক হাফিজুর পলাতক

পত্রদূত ডেস্ক: শ্যামনগরে গত ৭দিন ধরে অপহৃত রিমাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণকারী লম্পট হাফিজুর রহমান পলাতক রয়েছেন।
উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পশ্চিম শৈলখালি গ্রামের মো. হযরত আলীর স্কুল পড়ুয়া কন্যা মামনি আক্তার রিমা (১৪) গত ১৮ আগস্ট নিজ বাসা থেকে সন্ধ্যার পর হারিয়ে যায়। মেয়েটির দাদা মো. নহোর আলী নিখোঁজ রিমাকে খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা কামনা করে শ্যামনগর থানায় ১৯-০৮-১৯ তারিখে একটি জিডি করেন। যার নং ৭৪৯। আইনের পুলিশ গত ৭দিন ধরে রিমাকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে ২৬ আগস্ট প্রথম প্রহর রাত দেড়টার দিকে শ্যামনগর সদরস্থ গোপালপুর গ্রামের প্রবাসী রঞ্জুর বাড়ি থেকে রিমাকে উদ্ধার করে।
মামনি আক্তার রিমার ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার সাথে পরিচয় হয় শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাদকাসক্ত হাফিজুর রহমান হাফিজের সাথে। সেখান থেকেই হাফিজুর প্রেম নিবেদন করে। এক পর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে গোপালপুর রঞ্জুর বাড়িতে আটকে রেখে গত কয়েকদিন ধরে জোরপূর্বক তার সাথে অবৈধ শারিরীক সম্পর্ক (যৌন হয়রানি) করে। এবং এই কাজে সহযোগিতা করে প্রবাসী রঞ্জুর ২য় স্ত্রী আয়েশা খাতুন।
শ্যামনগর থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক ১০/১২ জন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রঞ্জুর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে বহু বিয়ের হোতা বর্তমান রঞ্জুর ২য় স্ত্রী আয়েশা খাতুনসহ রিমাকে উদ্ধার করতে পারলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চিহ্নিত লম্পট ও প্রতারক হাফিজুর ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বাড়িতে মালিকরা না থাকার সুবাদে প্রায় সময় অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা যায়। তাছাড়া হাফিজুরসহ শ্যামনগরে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা এই বাড়িতে সর্বক্ষণ আসা যাওয়া করে।

কালিগঞ্জ ও শ্যামনগরে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত

কালিগঞ্জে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত হয়েছে। সুশীলন নবযাত্রা প্রকল্পের আওতায় দিবসটি উপলক্ষে যুব র‌্যালি বের করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন। পরে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক সুকুমার দাস বাচ্চু। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দিপালী রানী ঘোষ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সেলিম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. জামিরুল হায়দার, উপজেলা ক্রেডিট এ্যান্ড মার্কেটিং অফিসার নিলুফা ইয়াসমীন প্রমুখ। অনুরূপভাবে বুড়িগোয়ালিনী আন্তর্জাতিক যুব দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কাশিমাড়ীতে পারিবারিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধিতে অধিবেশন

কাশিমাড়ী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ীতে নবযাত্রা প্রকল্পের আওতায় পারিবারিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধিতে পুরুষের সম্পৃক্ততা বিষয়ক ছয় মাসব্যাপী অধিবেশনের সমাপনীর সনদ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ১১টায় কাশিমাড়ী ক্লাস্টার অফিসে এ সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মাস্টার সওকাত হোসেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান রওশানারা বিথী। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য সীতা রানী বৈদ্য, সাংবাদিক রবিউল ইসলাম, নবযাত্রা প্রকল্পের কাশিমাড়ী ইউনিয়ন জেন্ডার অর্গানাইজার সুচিত্রা রানী, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর কুমকুম মুস্তারী, মিনা খাতুন প্রমুখ।
এতে ২১ দম্পতি উপকারভোগীর মাঝে পারিবারিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধিতে পুরুষের সম্পৃক্ততা বিষয়ক সমাপনীর সনদ বিতরণ করা হয়।

জেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলাব্যাপী পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে মাদক মামলার ৩ জনসহ ২৭ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশ ২২১ পিস ইয়াবা ও ১০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে।
রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ৮টি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১ জন, কালিগঞ্জ থানা থেকে ৮ জন, শ্যামনগর থানা থেকে ১২জন, আশশুনি থানা থেকে ৫ জন, পাটকেলঘাটা থানা থেকে ১ জনসহ ২৭ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামীদের বিরুদ্ধে মাদক ও নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন থানায় গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে ৩টি মাদকের মামলা হয়েছে।

দেবহাটার সরকারি খালগুলো জবর দখলের মহোৎসব

দেবহাটা ব্যুরো: দেবহাটায় সরকারি খালগুলো জবর দখলের মহোৎসব বিরাজ করছে। যে যখন যেখানে পারছে সেখানে নেট-পাটা দিয়ে দখল করে নিচ্ছে। এতে করে একদিকে প্রতিনিয়ত চরমভাবে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। অন্য দিকে পানির প্রবাহ না থাকায় তলদেশ ভরাট হওয়ার সাথে সাথে নব্যতা হারিয়ে গতিহীন হয়ে পড়ছে খালগুলো। তাছাড়া পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় বর্ষার মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই উপজেলার নি¤œাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টির কারণে পানিবন্ধি হয়ে পড়ছে স্ব স্ব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কর্তৃক সকল সরকারি খালের ইজারা বাতিলসহ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা তথা খালগুলোর পানি প্রবাহের ধারা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ নেট-পাটা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালিত হলেও দেবহাটার খালগুলো এখনও রয়ে গেছে অবৈধ দখলদার আর নেট-পাটার কবলে। কোথাও আবার ইজারার নামে খালের মুখে মাটির বাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে প্রভাবশালীরা। বছরের পর বছর ইজারাদার চক্রের স্বেচ্ছাচারিতা, জবর দখলকারীদের খাল দখল প্রবনতা ও খালে অজ¯্র নেট-পাটা বসিয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তি স্বার্থে অবৈধভাবে মাছ চাষ করা হলেও তাদেরকে উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসন কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় বর্তমানে নাব্যতা হারিয়ে অনেকটা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়েছে দেবহাটার খালগুলো। সরেজমিনে দেখা গেছে, দেবহাটার কুলিয়া ইউনিয়নসহ আশেপাশের কয়েকটি এলাকার পানি নিষ্কাশন লাবণ্যবতী খালের ওপরেই নির্ভরশীল। যুগ যুগ ধরে লাবণ্যবতী খালের মাধ্যমে বহু এলাকার পানি নিষ্কাশিত হয়ে আসছে ইছামতি নদীতে। লাবণ্যবতী খালটি হাড়দ্দাহ স্লুইস গেইট থেকে ইছামতি নদীর সাথে সংযুক্ত। আবার সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের ও কলকাতা খাল থেকে শাখা খাল হিসেবে চরবালিথা খাল, কদমখালী খাল, ঝিনুকঘাটা খাল এসে মিশেছে লাবণ্যবতীতে। আবার কুলিয়া বাঁধের মুখ থেকে লাবণ্যবতীর দুটি শাখা কামটপাড়া সুবর্ণাবাদ ও শশাডাঙ্গা হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পাশ্ববর্তী এলাকাগুলোতে। লাবণ্যবতী খালের কামটপাড়া এলাকার খালটির একটি শাখা মুখ ইজারার নামে মাটির বেড়িবাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহ বন্ধ করে ঘেরে পরিণত করেছে স্থানীয় ময়নুদ্দীনের ছেলে ইব্রাহিম। আর লাবণ্যবতীর অন্যান্য শাখা খালগুলোর মধ্যে সুবর্ণাবাদ, টিকেট, পুটিমারী হয়ে প্রবাহিত খালের কয়েক মিটার অন্তর শত শত অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে মাছ চাষের নামে খালের পানি প্রবাহ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাঁধাগ্রস্ত করে চলেছে এলাকাগুলোর শতাধিক প্রভাবশালী, সুবিধাবাদীরা। দেবহাটার পারুলিয়া সখিপুরের পানি নিষ্কাশনের সাপমারা খালেও দুই পাশের জমি জবরদখল ও ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণসহ ময়লা-আবর্জনার স্তুপের কারণে অনেকটাই নাব্যতা হারিয়ে ক্রমশ মরা খালে পরিণত হচ্ছে। ফলে এসব এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চরমভাবে বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহের ধারা গতিহীন হয়ে পড়েছে। ইতোপুর্বে সাপমারা খালটি থেকে বেশ কয়েকটি শাখা হলদারখালী, চেংমারী, মাঝেরহাটি হয়ে প্রবাহিত হলেও বর্তমানে অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ে খালগুলো মৎস্য ঘেরে পরিণত হয়েছে। এসব এলাকার দখলদাররা খাল বন্ধ করে ছোট ছোট মৎস্য ঘের হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে। অপরদিকে দেবহাটার চরশ্রীপুর ইছামতি নদী থেকে সদর ইউনিয়নের গোপাখালী হয়ে সখিপুর ইউনিয়নের কেওড়াতলার মধ্য দিয়ে তিরকুড়া পর্যন্ত প্রবাহিত মতিঝিল খালটিও ইজারাদার নামের ভূমিদস্যুদের কবলে পড়েছে। খালটির বিভিন্ন স্থানে এপার থেকে ওপার পর্যন্ত অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে খালটির পানি প্রবাহ ব্যহত করে চলেছে অসাধু একটি চক্র। তাছাড়া খালের দু’পাশ ভরাট করে অবৈধ ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। খালটির কেওড়াতলা নামক স্থানে চিনেডাঙ্গা গ্রামের মৃত মোহর আলীর ছেলে মধু অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে খালটিকে প্রায় মৎস্য ঘেরে পরিনত করেছে। তাছাড়া সখিপুররের মাঘরী চন্ডীপুরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত মাঝের খাল এবং সদর ইউনিয়নের শ্রীপুর হয়ে রতেœশ্বরপুরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খাল দু’টির বিভিন্ন স্থানের নেট-পাটা দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাঁধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। শুধু পানি নিষ্কাশন বাঁধাগ্রস্ত নয়, রতেœশ্বরপুরের শেষের দিকে খালটিকে স্থানীয় প্রভাবশালী ওয়াহেদ ঢালী ও তার ছেলে সুজা, মনিরুলসহ বেশ কয়েকজন খালটির মুখ মাটির বাঁধ দিয়ে সম্পূর্ণ খালটি মৎস্য ঘেরের মধ্যে দখল করে নিয়েছে। সবশেষে রয়েছে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চাঁদপুরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত ধাঁপার খাল। খালটি বয়সা, বাবুরাবাদ, ঢেপুখালী, দাইবুড়ি, সন্যাসীতলা, বড়হুলা, কামিনীবসুসহ এলাকা ভিত্তিক একাধিক নামে প্রবাহিত। নওয়াপাড়া বিভিন্ন এলাকার পানি এই খালটির মাধ্যমে মূলত সখিপুরের সাপমারা খালের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয় যুগ যুগ ধরে। কিন্তু অবৈধ নেট-পাটা, দখলদারিত্ব আর ইজারার নামে মৎস্য ঘের হিসেবে বেশ কিছু প্রভাবশালীর ব্যবহারের কারণে নাব্যতা হারানোর পাশাপাশি বর্তমানে চরমভাবে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে বেশ কয়েকটি এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহের ধারা। দীর্ঘদিন ধরে দেবহাটা উপজেলার এসকল সরকারি খাল প্রভাবশালী, সুবিধাবাদীদের অপব্যবহারের ফলে নাব্যতা হারাতে বসলেও, খালগুলোর অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদ ও নেট-পাটা অপসারণে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ক্রমশ মানুষের মাঝে খাল দখলের প্রবনতা বেড়েই চলেছে। আর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পানির প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হওয়ায় তলদেশ ভরাট হয়ে খালগুলো নাব্যতা হারিয়ে গতিহীন হয়ে পড়ায় প্রতিনিয়ত জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে জনদুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ। তাই অবিলম্বে খাল দখলের মহোৎসব বন্ধসহ অবৈধ নেট-পাটা অপসারনে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয়ার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলাবাসী।

অকৃতজ্ঞ সভ্যতা ও দগ্ধ আমাজন বন

পাভেল পার্থ:
পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে আমাজন বন। বলা ভাল এক করপোরেট নয়াউদারবাদী দুনিয়া খুন করে চলেছে দুনিয়ার এই বৃহত্তম বর্ষারণ্য। গলে পুড়ে ঝলসে যাচ্ছে শুধু কী গাছপালা লতাগুল্ম ? পাখি পতঙ্গ সরীসৃপ স্তন্যপায়ী? নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে জানা অজানা এক ঐতিহাসিক অরণ্য সভ্যতা। খানখান হয়ে যাচ্ছে আমাজন জংগলের আদিবাসী জীবন। শত সহস্্র বছর ধরে আমাজনের আদিবাসী মানুষেরাই এই জংগলের রক্তনালী জীবন্ত রেখে চলেছে। মানুষ হিসেবে এই বনের সাথে খবরদারি করেনি, বরং নিজেদের ভেবেছে বনের এক নগণ্য অংশ হিসেবে। আমাজন বনের আদিবাসী মানুষের এই জটিল অরণ্য-দর্শনকে দুমড়েমুচড়ে এক করপোরেট দুনিয়া হামলে পড়লো জংগলের ওপর। অরণ্যের গিলা-কলিজা-রক্তনালী ছিঁড়েখুঁড়ে তুলে আনতে শুরু করলো খনিজ। কাঠবাণিজ্যের জন্য লাগাতার খুন হলো গাছগাছালি। নির্দয় ধনীর দুলালেরা পিৎজা হাট, ম্যাগডোনাল্ড কী কেএফসির দশাসই খাবার গুলো গিলবে বলে মাংশ দরকার। গতরে আহাম্মকী মাংশ জমাতে ঘাস দরকার। ঘাসের জন্য জমিন দরকার। করপোরেট কোম্পানির ঘাস চাষের জন্য বিরান হলো জংগলের পর জংগল। আমাজনের উপর করেপোরেট খুন ধর্ষণ থামানোই যাচ্ছে না। জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর বাণিজ্য দরবারকে আড়ালে রেখে আমাজন বন নিশ্চিহ্ন করে করে তৈরি হলো বায়োডিজেল প্রকল্প। কেবল জংগল নয়, নয়াউদারবাদী উন্নয়নের নামে প্রতিদিন উদ্বাস্তু আর নিরুদ্দেশ হতে লাগলো আমাজনের আদিবাসী সভ্যতা। যে সর্বগ্রাসী উন্নয়ন দুনিয়ার বৃহত্তম জংগলের বাসিন্দাদের নিরুদ্দেশ করছে নিরন্তর, নিদারুণভাবে এই উন্নয়ন প্রক্রিয়াই প্রশ্নহীনভাবে ডাকাতি করেছে আমাজনের আদিবাসী বিজ্ঞান। গবেষণা আর উন্নয়নের নামে আমাজনের আদিবাসী জ্ঞান ডাকাতি করেই ডাকসাইটে হয়ে চলেছে ‘আধুনিক ঔষধ বাণিজ্য’। এই হলো দুনিয়ার বৃহত্তম অরণ্যভূমির এক নিদারুণ খুদে আখ্যান। আজ আবারো বাণিজ্য দুনিয়ার লোভের আগুনে পুড়ছে এই বন। অথচ পুরো দুনিয়া কত নির্বিকার। কত নির্দয়। কত নিশ্চুপ। যে বন এখনো দুনিয়ার বিশ ভাগ অক্সিজেন জোগান দেয় সেই বন অঙ্গার হচ্ছে শত শত অকৃতজ্ঞ জাতিরাষ্ট্রের সামনে। আমাজনের এই সাম্প্রতিক অগ্নিকান্ডে প্রমাণ আরো মজবুত হলো এই করপোরেট দুনিয়া কোনো আমাজন বন চায় না। কিনাবালু, সিনহারাজা, মিন্দো-নামবিল্লো, দেইনট্রি, জিসুয়াংবান্না, টংগাস, কঙ্গো, মিয়াম্বো, সুমাত্রা, পাপুয়া, ল্যাকানডান কী সুন্দরবন চায় না।
২.
আমাজনের এই দু:সময়ে খুব মনে পড়ছে এডলফো তিমেতিওর কথা। তিমেতিও আমাজনের ব্রাজিল অংশের একজন বাসিন্দা। তিমেতিও গুয়ারানি আদিবাসী জাতির মানুষ। প্রায় ৫০০ বছর আগে যখন আমাজন অরণ্যে ইউরোপিয় উপনিবেশ শুরু হয় তখন গুয়ারানিদের সাথেই সাদা চামড়াদের প্রথম সাক্ষাত হয়। গুয়ারানিদের জনসংখ্যা নিরন্তর কমছে। ব্রাজিলের সাতটি রাজ্যে বর্তমানে মাত্র ৫১,০০০। আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া ও প্যারাগুয়েতেও কিছু বসতি আছে। ব্রাজিলের গুয়ারানিরা কাইওয়া, নানদেভা ও মাবিয়া এই তিনটি প্রধান গোষ্ঠীতে বিভক্ত। তিমেতিও কাইওয়া গোষ্ঠীর। কাইওয়া মানে ‘অরণ্যের মানুষ’। পঞ্চাশোর্ধ তিমেতিওর সাথে সাক্ষাত হয়েছিল ২০১০ এর অক্টোবরে। ইতালির টুরিনে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব মাতৃদুনিয়া উৎসবে (টেরা মাদ্রি)’। তিমেতিও যখন নিজের পরিচয় দিচ্ছিলেন আমার তখন বাংলাদেশের মিজো, মান্দি কী সাঁওতাল বন্ধুদের কথা মনে হয়েছিল। মধুপুর শালবনে এক মান্দি শিশু তার নাম বলেছিল ‘ব্রিংনি বিবাল’ মানে বনের ফুল। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ কী বিরল উপজেলার নামগুলো ‘বীর’ শব্দ থেকে এসেছে। সাঁওতালি ভাষায় বীর মানে জংগল। বান্দরবানের মিজো জনগণ নিজেদের বনপাহাড়ের সন্তান মনে করেন। মিজো ভাষায় মি মানে মানুষ আর জো মানে পাহাড়। এক দয়ালু পর্তুগীজভাষীর কল্যাণে কয়েকদিনের জন্য বুঁদ হয়ে গেছিলাম গুয়ারানিদের আমাজন জংগলের জটিল সংসারে।
৩.
টুরিনের রাস্তায় তিমেতিও শুনিয়েছিলেন আমাজন জংগল হারানোর নির্দয় সব কাহিনি। আজ নয় বছর আগের পুরনো খাতা খুলে তিমেতিওর আহাজারিগুলো যখন পড়ছি যেন প্রতিটি উচ্চারণ থেকে উসকে পড়ছে দগদগে পোড়া দাগ। পর্তুগীজ, ফরাসী ও ডাচ উপনিবেশের জন্য গুয়ারানিদের মতো আমাজন অরণ্যের আদিবাসীরা নিজেদের অঞ্চল ও ভাষা হারিয়েছে। বহিরাগত উপেিনবেশ ও লোভের বাণিজ্য আমাজন বনে প্রশ্নহীন গণহত্যা করেছে। জংগল কী মানুষের সংসারে নানা দুরারোগ্য অসুখবিসুখ আমদানি করেছে। গুয়ারানিদের আদি বিশ্বাস এই মাতৃদুনিয়া এক পবিত্রসত্তা, এখানকার প্রাণজগতও পবিত্র। মানুষ একতরফাভাবে এই পবিত্রতা বিনষ্ট করতে পারে না। এই দুনিয়ার ওপর মানুষের কোনো বিশেষ এখতিয়ারও নাই। কিন্তু বাইরে থেকে আসা মানুষেরা আমাজন বনের আদিবাসীদের কথা শুনেনি। বুঝতেও চায়নি। বাইরের মানুষেরা জংগলের পবিত্রতা খানখান করে দিয়েছে। আদিবাসীদের বননির্ভর জীবন, কৃষি ও জীবিকা সবই বহুজাতিক খনন ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য হুমকির মুখে পড়েছে। আমাজন বনে প্রতিদিন বৈচিত্র্য কমছে। কত জানা অজানা প্রাণ যে হারিয়ে যাচ্ছে তার কোনো হিসাব নেই। এভাবে চলতে থাকলে কেবল আমাজন নয়, এই গোটা দুনিয়াটাই এক কঠিন অসুখে পড়বে। ঈশ্বর নয়, মানুষেরাই এই পৃথিবীকে জোর করে শাসন করছে। মেরে ফেলতে চাইছে। তিমেতিওর সাথে বাংলাদেশের আদিবাসী জীবনের নানা গল্প বিনিময় করি। আমার ডান হাতটি মুঠোয় নিয়ে তিমেতিও বলেন, নিশ্চিত করে বলতে পারি আদিবাসীরা যে জ্ঞান ও নীতির প্রচলন করেছে দুনিয়াকে বাঁচিয়ে রাখার রসদ খুঁজতে এই জীবনের দিকেই আমাদের জীবন মেলাতে হবে।
৪.
২০১৫ সনে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে আলাপ হয় পেরুর ট্রাসিলা রিভেরা জিআ ও গুয়াতেমালার ললা কেবনালের সাথে। তারাও তিমেতিওর মতো আমাজনের আদিবাসীদের অরণ্য হারানোর কাহিনি শুনিয়েছিলেন। ট্রাসিলা চিরাপাক নামের একটি সংগঠন কাজ করেন পেরুর আদিবাসীদের নিয়ে। ট্রাসিলা জানান, আমাজন অরণ্য নির্ভর আদিবাসীদের টিকে থাকাই এক কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি আজ। বহুজাতিক কোম্পানির নানা উন্নয়ন কর্মসূচির পাশাপাশি প্রবল রাষ্ট্রীয় অসযোগিতা সারা বিশ্বের আদিবাসীদের বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে প্রাকৃতিক ও জলবায়ুগত সমস্যা। দিন দিন বৃষ্টির ধরণ পাল্টাচ্ছে, তাপমাত্রা অনিয়মিত হচ্ছে। ব্যাপকহারে বনভূমি ও প্রাণবৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে। আদিবাসীরা এই সর্বনাশের জন্য কোনোভাবেই দায়ী না হলেও এর ঝুঁকি সামলাতে হচ্ছে তাদেরই। ললা কেবনাল কাজ করেন ‘এসোসিয়েশন এক টিনামিট’ নামের এক আদিবাসী সংগঠনে। ললা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তর্জাতিক দেনদরবারে আদিবাসীদের অস্তিত্ব একেবারেই গুরুত্বহীন। অথচ আদিবাসীরা ঐতিহাসিকভাবেই পৃথিবীর বাস্তুসংস্থান ও সংস্কৃতির ভেতর এক দারুণ সম্পর্ক তৈরি করে চলেছেন। প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনেও দেখেছি আমাজনসহ অরণ্যনির্ভর আদিবাসী জীবনের আহাজারিগুলো অনুচ্চারিতই থেকেছে।
৫.
আজ যখন চোখের সামনে বুকের ভেতর পুড়ছে আমাজন, খুব মনে পড়ছে তিমেতিওর কথা। না জানি কেমন দুশ্চিন্তা নিয়ে আছেন গুয়ারানি আদিবাসীরা? কেবল গুয়ারানি নয়; নুকাক, ওয়ারানি, কায়াপো, আমানিই, আতিকুম, আওয়া-গুয়াজা, বানিওয়া, বোটোকডু, বারা, এনাওনি নাওয়ে, কাদিওয়ে, কানিগাং, কামাইওরা, কারাজা, কুবেও, কাক্সিনাওয়া, কোকামা, করোবো, কুলিনা মাদিহা, মাবিয়া, মাকুক্সি, মাটসেস, মায়োরুনা, মুন্দুরুকু, মুরা, নাম্বিকওয়ারা, ওফাওয়ে, পাই তাভিতেরা, পানারা, পানকারাউয়ু, পাতাক্সু, পাইতার, পতিগুয়ারা, সাতিরে মাউয়ি, সাউরি দু পারা, তাপিরাপি, তারিনা, তিকুনা, ত্রিমেম্বি, তুপি, ওয়াজাপি, ওয়াপিক্সানা, ওয়াজা, উইটোটো, জাকরিয়াবা, জাভান্তে, জুকুরু কিংবা ইয়ানুমামি আদিবাসীরা কেমন আছেন এই অগ্নিদগ্ধ সময়ে!
৬.
বাংলাদেশের বিচারহীনভাবে বছরের পর বছর সুন্দরবনে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। বন পুড়িয়ে জায়গা দখল করে প্রভাবশালীরা। সুন্দরবন ও আমজনের ভেতর একটা মিল আছে। দুটোই দুনিয়ার বৃহত্তম বন। একটি বাদাবন ও একটি বৃষ্টিবন। দুই বনই করপোরেট উন্নয়নযন্ত্রণায় নিদারুণভাবে কাতর। ঐতিহাসিকভাবেই অরণ্যের ওপর বহিরাগতদের বৈরিতা আছে। মহাভারতে আছে, দেবতা অগ্নির বদহজম ও ক্ষুধামান্দ্য হলে খান্ডববন আগুন বাণ মেরে পুড়িয়ে সেই বনের প্রাণিদের পোড়া মাংশ ভক্ষণের পরামর্শ দেয়া হয়। অগ্নির বদহজম দূর করতে উদ্ভিদ-প্রাণি ও আদিবাসী গ্রামসহ পুড়িয়ে দেয়া বিশাল সেই খান্ডববন। মহাভাতের কাল শেষ হলেও এখনো দুনিয়া থেকে বদহজম কমেনি। বহুজাতিক উন্নয়নের বদহজমে আজো পুড়ছে অরণ্য, প্রাণ ও প্রকৃতি। সর্বগ্রাসী উন্নয়নের বদহজমেই নিশ্চিহ্ন হচ্ছে আজ দুনিয়ার বৃহত্তম অরণ্য আমাজন। উন্নয়নের এই বদহজম থামানো জরুরি। আমাজন ব্রাজিল কী দক্ষিণ আমেরিকার কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ শুধু নয়, আমাজন আমাদের এক বৈশ্বিক আত্মপরিচয়। পৃথিবীর ফুসফুস। আশা করি আমাজনের সুরক্ষায় বৈশ্বিক সক্রিয়তা প্রবল হবে। সাম্প্রতিক অগ্নিকান্ডসহ আমাজন-বিরুদ্ধ সকল খবরদারির গণতদন্ত ও বিচার হবে। আসুন আমরা সকলে প্রাণের গভীর থেকে আমাদের আমাজন বনের জন্য প্রার্থনা করি। তিমেতিও সাবধানে থেকো, ভাল থেকো। আমাদের মতো নিষ্ঠুর বহিরাগতদের দুর্বিষহ বদহজমের জন্য ক্ষমা করে দিও। রক্তে জাগছে বিরসা মুন্ডা, অমৃতা দেবী, অজিত রিছিল, পীরেন ¯œাল কি চিকো মেন্দেসের অরণ্য-সংগ্রামের আখ্যান। আজ যেখানে পুড়ছে আমাজন এই ব্রাজিলেরই চিকো মেন্দেস আমাজন অরণ্য বাঁচাতে লড়েছেন। বিশ্বব্যাপি অরণ্যনির্ভর জীবনসংগ্রামকে আজ গভীরভাবে পাঠ করা জরুরি। আমাজনের অরণ্য অধিকার মুক্তি পাক। লেখক: প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ক গবেষক

আওয়ামী লীগ বনাম আমার লীগ সমস্যা: আমার দৃষ্টিতে সমাধানের উপায়

এড. শেখ মোজাহার হোসেন কান্টু:
উপ-মহাদেশের তৃতীয়, পাকিস্তানের দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশের প্রথম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সনাতনী রাজ্যস্থান, (রাম রাজ্য) দিল্লী সালতানাত, মুঘল সা¤্রাজ্য, নবাবী শাসনকাল অতিক্রম করে বিট্রিশ শাসন ব্যবস্থা থেকেই উপ-মহাদেশের মানুষের মধ্যে আধুনিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ধারণা এবং রাজনৈতিক দল গঠনের জাগ্রত চিন্তা-চেতনা থেকেই এই উপ-মহাদেশে প্রথম রাজনৈতিক দল গঠিত হয়, কংগ্রেস। প্রথম রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের পরে জাতি স্বত্ত্বার চিন্তা-চেতনা থেকে গঠিত হয় উপ-মহাদেশের দ্বিতীয় রাজনৈতিক দল ‘মুসলীমলীগ’। মুসলীমলীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান রাজনৈতিক দল মুসলীম লীগ। মুসলীমলীগ নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের একাংশের জনগণের, আঞ্চলিক অধিকারবোধের চিন্তা-চেতনা থেকে গঠিত হয় আওয়ামী মুসলীম লীগ। পরবর্তীতে ধর্ম ভিত্তিক বিশেষ একটি জাতির জন্য নয়, অঞ্চল ভিত্তিক-জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলের স্বার্থ রক্ষার্থে, আওয়ামী মুসলীম লীগকে সার্বজনীন রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত করে তোলার জন্য আওয়ামী মুসলীম লীগের নামকরণ করা হয় ‘আওয়ামী লীগ’। এই আওয়ামী লীগ নামক রাজনৈতিক দলটি, উপ-মহাদেশের তৃতীয়, পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই পাকিস্তান খন্ডিত হয়ে পূর্ব পাকিস্তান থেকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। যে কারনে আওয়ামী লীগ উপ-মহাদেশের তৃতীয়, পাকিস্তানের দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশের প্রথম ও প্রধান রাজনৈতিক দল।
আওয়ামী লীগ নামক রাজনৈতিক দলের সুদুর প্রসারী ইতিহাস ঐতিহ্য এবং গৌরব থাকা স্বত্ত্বেও পর্যায়ক্রমে কিছু সংখ্যক স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক ব্যবসা নীতির ধারক ও বাহকরা নিজেদের স্বার্থে ‘আওয়ামী লীগ’ এর পাশ কাটিয়ে, ‘আমার লীগ’ গঠণ করে চলেছে। যে কারণে ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগ ক্রমশ: তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে।
ঐসকল রাজনৈতিক ব্যবসানীতির অনুসারীরা যেকোন উপায়ে সরকারের একটি পদ দখল করতে পারলেই দলকে নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে। সরকার প্রধান ছাড়া সরকারের সাধারণ সদস্যরা যদি দল নিয়ন্ত্রণ করে তাহলে দলের প্রকৃতি ও গতি স্বাভাবিক ভাবেই বিনষ্ট হয়ে থাকে। সরকার প্রধান নিজে যেমন, একদিকে সরকার প্রধান হিসেবে সরকারকে পরিচালিত করবেন, ঠিক তেমনি সরকার প্রধান অপরদিকে দলীয় প্রধান হিসেবে দলকেও সুচারূপে পরিচালনা করবেন। কারন তিনি সভ্যসাচী, তাঁর দুই হস্ত সমান পরিচালিত হবে। সরকার এবং দল একাকার হওয়ার কারনে (একই ব্যক্তি-উভয় দিকে সদস্য থাকার সুবাদে) দলের অবস্থান প্রসারিত ও গৌরবজনক না হয়ে, ক্রমশ: সমালোচিত ও সংকুচিত হচ্ছে বলে আমি মনে করি।
যেহেতু প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, সরকারের সদস্যদের (মন্ত্রী, এমপি এবং ক্ষেত্র বিশেষে স্থানীয় সরকারের, সিটিকর্পোরেশন মেয়র, কাউন্সিলর, মেয়র পৌরসভা ও কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ, চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে, সেকারণে-ঐসকল পদাধিকারী ব্যক্তিদের আজ্ঞাবাহী হয়ে তাদের স্বার্থই রক্ষা করে থাকেন। দলের স্বার্থ রক্ষায় তারা থাকে সদা সর্বদা বিতশ্রদ্ধ। যার কারনে দল (দলের পদাধিকারী ব্যক্তিবর্গ) সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলে কোন ভূমিকা রাখতে পারে না। একই সাথে যেহেতু প্রশাসন সরকারের সদস্যদের নির্দেশ অনুসরণ করে এবং সরকারের সদস্যদের হাতে সমস্ত প্রকার সুযোগ সুবিধা (দান, অনুদান, চাকরি, মামলা রুজু, মামলা অব্যহতি সহ আনুসঙ্গিক সুবিধা) নিহীত থাকে। সেকারণে, দলের সাধারণ নেতাকর্মী সমর্থকবৃন্দ, দলের স্বার্থে, দলের পদাধিকারীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত না হয়ে, সরকারি পদাধিকারীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়ে থাকে। এরূপ অবস্থায়, দলের পদাধিকারীরা ঠুটো জগন্নাথ হয়ে আছে, আর সরকারি পদাধিকারীরা সেই সুযোগে, ‘আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী সমর্থকদের বাদ দিয়ে, নিজের ভাই, ভগ্নি, ভাগ্নে, ভাইপো, স্ত্রী, শ্যালক, শ্বশুর, মামা শ্বশুর, ভাসুর এবং নিজের অধিনস্ত থাকে এমন অনভিজ্ঞ, অক্ষম কর্মচারী ব্যক্তিদের দ্বারা খাতা পূরণ করে, ‘আওয়ামীলীগ’ বাদ দিয়ে, ‘আমার লীগ’ গঠণ করে, আওয়ামী লীগকে প্রায় নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এইরূপ অবস্থায় আমার মনে হয়, আওয়ামী লীগকে, আমার লীগের সমস্যা থেকে মুক্ত করতে হলে, কিছু সতর্ক পদক্ষেপ অতিদ্রুত (আগামী জাতীয় কাউন্সিলে, দলের গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য) গ্রহণ করা প্রয়োজন। যেমন:
১। যিনি নিজে বা তার নিজের পিতা-মাতা, ভাই-ভগ্নী, স্ত্রী-পুত্র, শ্যালক-শ্বশুর, ভাগ্নে-ভাইপোগণ, জাতীয় সংসদের বা স্থানীয় সরকারের অথবা বে-সরকারী কোন সংস্থায় নির্বাচন করতে চান, তাকে দলের কোন স্তরে, কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকায় না রাখা।
কারণ: আওয়ামী লীগ সমর্থক, আওয়ামী লীগ বিরোধী ও আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী প্রত্যেক নাগরিক-ই ভোটার। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যক্তি, সংকীর্ণ মানষিকতার কারনে, দলীয় মনোনয়ন প্রতিদ্বন্দীদের প্রতি আস্থা হারিয়ে, অসৌজন্য আচারণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের তালিকায় অন্ত্রর্ভূক্ত করে এবং আওয়ামী বিরোধী ও বিদ্বেষীদের প্রতি বোকার মত, অলিক কল্পনায় আস্থাশীল হয়ে, তাদের সমর্থন (ভোট) পাওয়ার বিশ্বাসে, আওয়ামী বিরোধী ও বিদ্বেষীদের আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা ভূক্ত করে, ‘আওয়ামী লীগ’ এর স্থলে ‘আমার লীগ’ গঠণ করে থাকে।
২। একই ব্যক্তি দলের একই স্তরে, একই পদে দুইবারের অধিক প্রার্থী হতে পারবেন না। পদোন্নতি গ্রহণের জন্য, হয় উর্দ্ধ স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন অথবা দলের যেকোন স্তরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী করার জন্য, মনোনয়ন প্রার্থী হবেন অথবা উপদেষ্টা মন্ডলীর তালিকাভূক্ত হবেন।
কারণ: একই ব্যক্তি দীর্ঘদিন, দলের একই স্তরে এবং একই পদে অধিষ্টিত থাকার কারনে, তিনি দলের নিয়ম, কানুন, শৃঙ্খলা ভুলে যান এবং দলের গঠনতান্ত্রিক বিধি বিধানের বাহিরে, নিজস্ব মন গড়া বিধি বিধান প্রয়োগ ও কায়েম করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি ভাবতে শুরু করেন, দলের কাছে তিনি দায়বদ্ধ নন, দল তার কাছে দায়বদ্ধ। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩। একই ব্যক্তি একাধারে দুইবারের অধিক, দলের কোন স্তরের (জাতীয় সংসদে এবং স্থানীয় সরকারের) কোন পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন চাহিতে পারিবেন না এবং মনোনয়নপ্রাপ্ত হইবেন না। যদি এমন কোন বিশেষ ব্যক্তি থাকেন, যাঁকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখা, দল, দেশ ও জনগনের জন্য সমিচিন নহে, তাহলে তাকে অন্তত পক্ষে, আসন পরিবর্তন (জেলা বা বিভাগ পরিবর্তন) করে, মনোনয়ন প্রদান করা প্রয়োজন।
কারণ: একই ব্যক্তি দীর্ঘদিন একই আসনে মনোনয়ন প্রাপ্ত হয়ে এবং একই আসনে নির্বাচন করে, ঐ নির্বাচনী অঞ্চলকে তিনি, তাঁর নিজস্ব ভূমি হিসাবে বিবেচনা করে থাকেন। তিনি যতদিন জীবিত থাকবেন, সেখানে তিনিই নির্বাচন করবেন, তাঁর মৃত্যুর পর, তাঁর স্ত্রী, পুত্র বা ভ্রাতা, অন্য যে কেউ, সেই আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। অন্য কাহারো ঐ আসনে নির্বাচন করার সুযোগ এবং অধিকার নাই। এইরূপ অবস্থার কারনে, ঐ নির্বাচনী এলাকার নেতা, কর্মী, সমর্থকদের মনে, দল বিরোধী মনোভাব জন্মলাভ করে এবং নেতা-কর্মীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে, আদর্শকে পরিহার করে, অসৎ পন্থা অবলম্বন করে, অর্থ বিত্ত্বের অনুসন্ধানে মনোনিবেশ করে। যার ফলে, নেতাকর্মীরা আদর্শচ্যুত হয়ে, ব্যক্তি চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব হারা হয়ে, নিজেদেরকেও হারিয়ে ফেলে এবং নিজ দল, বিরোধী দল, প্রশাসন ও জনগণ, সকলের কাছে-দলের সুনাম বিনষ্ট করে। দল হয় প্রশ্নবিদ্ধ।
৪। দলের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলের বিধান পরিবর্তন করে, দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল এর বিধান প্রবর্তন করা প্রয়োজন এবং বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি দুই বছর অন্তর দলের প্রত্যেক স্তরের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠানের বিধি বিধান প্রবর্তন করা প্রয়োজন।
কারণ: তিন বছরের জন্য কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়, অথচ-দশ, বার ও পনের বছরের মধ্যেও আর কাউন্সিল অধিবেশন না হওয়ার কারনে, দলের নেতৃবৃন্দ নিজেদেরকে, দলের স্থানীয় পর্যায়ের সর্বময় কর্তা বিবেচনায় কারো কোনো মতামতের তোয়াক্কা করে না। অধস্তন নেতা ও কর্মীরা ক্রমশ: দলের প্রতি ভক্তি, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং উচ্চ আশা হারিয়ে, গতিহারা হয়ে, দূর্নীতি পরায়ন হয়ে পড়ে। দলের কোন আন্দোলন-সংগ্রামে (ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকান্ডে) অংশগ্রহণ করে না। অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলীয় নেতা, কর্মী, সমর্থকদের প্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করে।
৫। কোন স্তরের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে, কেবলমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন সম্পন্ন করে, নব-নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব প্রদানের পদ্ধতি, বাধ্যতামূলক ভাবে বিলুপ্ত করতে হবে। ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনেই অন্ততপক্ষে সম্পূর্ন সম্পাদক মন্ডলীর পদে নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন এবং উর্দ্ধতন স্তরের কমিটি গঠনের জন্য কাউন্সিলার তালিকা একই অধিবেশন থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে নির্বাচন করা প্রয়োজন।
কারণ: সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর, জবাব দিহিতামূলক নেতৃত্ব না দিয়ে, একক সিদ্ধান্তে স্বাধীন নেতৃত্ব দেওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। যার ফলে, সারাদেশে দলের (টিম ওয়ার্ক এর স্থলে এক নায়ক তান্ত্রিক কার্যক্রমের কারণে) সারাদেশে দলের নেতাকর্মী, সমর্থকরা দলের প্রতি উদাসীন ও আস্থাহীন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দশ বছরেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না করে, দলকে ব্যর্থ ও অকার্যকর করে তুলেছে।
সাথে সাথে আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতৃ স্থানীয় আদর্শিক দল প্রেমী ব্যক্তিগণকে বাদ দিয়ে, এক টাকায় চার হালি কাউন্সিলর পাওয়া যায়, এমন প্রকৃতির কর্মচারীদের কাউন্সিলর বানিয়ে, উর্দ্ধতন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের নিকট লক্ষ লক্ষ টাকায় কাউন্সিলর বিক্রয় করে, উর্দ্ধতন কমিটিকে একটি নাজুক নাম সর্বস্ব কমিটি গঠনে সহায়তা করে, দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে। (চলবে…)

পাটকেলঘাটার পাটক্ষেত থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:পাটকেলঘাটার বাহাদুরপুর বাজারের জুতা ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলামের মৃতদেহ একটি পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অভয়তলা গ্রামের শেখ ইয়াকুবের পুত্র শেখ রেজাউল ইসলাম (৪২)এর বাড়ীর পাশের পানের বরজ ও পাটক্ষেতের আইলের উপর তারই চাচাতো ভাই শেখ জলিল হোসেন জুতা ব্যবসায়ী রেজাউলের মৃতদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মৃতদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এদিকে পরিবারের সদস্যদের দাবী গত রবিবার দুপুরে বাড়ী থেকে বের হয় রেজাউল ইসলাম আর বাড়ী আসেনি। রেজাউল ইসলামের তাস খেলার নেশা ছিলো বলেও জানান। তাস খেলাকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হওয়ায় হয়তো তাকে হত্যা করে লাশ পাটক্ষেতের ভিতরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মৃতদেহের পাশ থেকে একটি গেঞ্জি ও মোবাইল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাটকেলঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন লাশের পোস্ট মোর্টেম না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ব্রিজ নয় যেন মরণফাঁদ!

মনিরুল ইসলাম মনি: কলারোয়া পৌর সদরের বেতনা নদীর উপর নির্মিত জনগুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ মুরারিকাটি কাঠের ব্রিজটি (তারক নন্দী ব্রিজ) দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না করায় এবং পৌর কতৃপক্ষের উদাসীনতায় বর্তমানে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে দ্রত যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সুবিধাসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিদিন পাঁচটি গ্রামের শিশু শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ প্রায় তিন হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এই কাঠের ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে কাঠের ব্রিজটির পরিবর্তে নতুন পাকা ব্রিজ নির্মাণের দাবি করা হলেও স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি।
সরজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন এ জরাজীর্ণ এই কাঠের ব্রিজ দিয়ে পৌরসদরের দক্ষিণ মুরারকিাটি, গোপিনাথপুর, পাথরঘাটা, জেলেপাড়া, পালপাড়া, কর্মকারপাড়া, উপজেলার ঘরচালা গ্রাম, কাশিয়াডাঙ্গা ও কুমারনল গ্রামের শিশু শিক্ষার্থী, ছাত্রছাত্রীসহ প্রায় তিন হাজার মানুষ উপজেলা ও পৌর সদরে যাতায়াত করে। তবে, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বর্তমানে এলাকাবাসীকে চরম ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি পার হতে হচ্ছে। কাঠের ব্রিজটির অধিকাংশ স্থানই ভাঙাচোরা। কাঠের পাটাতন নেই বললেই চলে। লোহার কাঠামোর অবস্থাও একই রকম। তারপরও চরম ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে এসব মানুষেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুরারিকাটি গ্রামের জমিদার তারক নন্দী এলাকার উন্নয়নে তারক নন্দী প্রাথমিক বিদ্যালয় (বর্তমানে দক্ষিন মুরারিকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) ও বেতনা নদীর উপর লোহার ফ্রেম ও কাঠের পাটাতন দিয়ে তারক নন্দী ব্রিজটি (বর্তমানে দক্ষিণ মুরারিকাটি ব্রিজ) নির্মাণ করেন। পরর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর উক্ত কাঠের ব্রিজটি পাকা করনের জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলেও আজো কতৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তবে, এলাকাবাসী চলাচলের জন্য একাধিকবার নিজেদের উদ্যেগে ব্রিজটি সংস্কার করেছেন। এছাড়া কলারোয়া পৌরসভা গঠনের পর ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজটির কয়েকটি স্থানে পাটাতন সংস্কার করা হলেও তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে ব্রিজটি সংস্কার বা নতুন নির্মাণ করা না হলে যে কোন সময় ভেঙে পড়ে প্রাণহানী ঘটতে পারে।
এবিষয়ে জানতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর (৭নং) জাহাঙ্গীর কবীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই বিজ্রটি দ্রুত সংস্কার করা হবে। এ বিষয়ে তিনি পৌর মেয়রকে অবহিত করেছেন বলে জানান।
কলারোয়া পৌরসভার (ভারপ্রাপ্ত) মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, আমি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি পোপিনাথপুর সংলগ্ন দক্ষিন মুরারিকাটি কাঠের ব্রিজটি ঝুকিপুর্ন অবস্থায় রয়েছে। তবে, কাঠের ব্রিজটি সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পৌরসভার মাসিক মিটিংয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরএম শাহনেওয়াজ সেলিম জানান, ব্রিজটির বিষয়ে আজ আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে পৌর মেয়রের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু জানান, এটি পৌরসদরের একটি গুরুত্বপুর্ন ব্রিজ। বর্তমানে কাঠের ব্রিজটি চরম ঝুকিপুর্ন থাকায় অতিদ্রুত সস্কারের প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে তিনি পৌর কতুপক্ষকে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান। এসময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, পৌরসভার অভ্যন্তরে উপজেলা পরিষদের কাজ করা সম্বব নয় বলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না।