পুরাতন বার নিয়ে ষড়যন্ত্র ও ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে: আইনজীবী সমিতি


প্রকাশিত : আগস্ট ২৭, ২০১৯ ||

বদিউজ্জামান: ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী জেলা আইনজীবী সমিতির পুরাতন ভবন নিয়ে ষড়যন্ত্র ও লাইব্রেরী ভাংচুরের সাথে যে বা যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। যে অশুভ শক্তি আইনজীবীদের অস্তিত্ব নিয়ে খেলতে চায়, তারা যতবড় শক্তিধর হোক না কেন তাদেরকে প্রতিহত করা হবে। অনেক সহ্য করেছি, আর সহ্য করা হবেনা। এবার দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবীরা প্রয়োজনে রাজপথে নামতেও পিছপা হবেনা।
সোমবার বেলা ১০ টায় জেলা আইনজীবী সমিতির হলরূমে অনুষ্ঠিত এক জরুরী সাধারণ সভায় ২৭ জন বক্তা একই সুরে এসব কথা বলেন। সমিতির সভাপতি এম শাহ আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হোসেন তোজামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এড. গোলাম মোস্তফা, এড. আবুল হোসেন, এড. আবদুল মজিদ এড. সরকার যামিনীকান্ত, এড. তপন কুমার দাস, এড. মো. শহিদুল্লাহ, এড. আব্দুল জলিল, এড. সরদার আমজাদ হোসেন, এড. রেজওয়ান উল্লাহ সবুজ, এড. সৈয়দ ইফতেখার আলি, এড. ওসমান গনি, এড. সোমনাথ ব্যানার্জী, এড. শেখ মোহাম্মাদ ফারুক, এড. মো. ইউনুস আলি, এড. মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু, এড. আব্দুল লতিফ, এড. শহিদুল ইসলাম পিন্টু, এড. ফাহিমুল হক কিসলু, এড. জি এম ওকালত হোসেন, এড. আলী হোসেন, এড. মোস্তফা নূরুল আলম, এড. রুহুল আমিন, এড. সাইদুজ্জামান জিকো, এড. শিমুল ফেরদাউস, এড. তামিম আহমেদ সোহাগ, এড. আশরাফুল আলম বাবু ও এড. শাহেদুজ্জামান শাহেদ।
আইনজীবীরা গতকালকের জরুরি সাধারন সভায় গত ২১ আগস্ট রাতের অন্ধকারে পুরাতন বারের লাইব্রেরী ভাংচুরের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা এদিন কলম বিরতি পালন করেন। পরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে বা যারা এর সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনে সোপর্দ করতে হবে।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তারা বলেন, ১৪৮ বছর ধরে দখলে থাকা এই ভবন এখন আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরী হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গত ২১ আগস্ট রাতে কে বা কারা এই ভবনের ভেতরের সব আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে। তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দরজা জানালা আলমারি শোকেজ ভাংচুর ও বইপত্র তছনছ করে গেছে। এমনকি মূল্যবান কাগজপত্রও লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। এর আগেও একবার এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্ণিত করার জোর দাবি জানিয়ে তারা বলেন সেখানে রাতভর পুলিশের লোক পাহারায় থাকে। তা সত্ত্বেও এ ঘটনা কিভাবে ঘটলো তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইনজীবীরা।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেন, এই ভবনের জমি নিয়ে পুলিশের সাথে মামলা চলছে। এ মামলায় গত ৮ আগস্ট সমিতির অনুকূলে রায়ও পেয়েছেন। এর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এমন ঘটনা কেনো ঘটলো তার তদন্ত ও প্রতিকার চান তিনি।
সাধারন সভায় তারা এক মাসের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন ‘কালেকটরেট চত্বরে জজ আদালত ও জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের মধ্যে যে প্রাচীর দেওয়া হয়েছে তা ভেঙে চলাচলের পথ বের করে দিতে হবে। একই সাথে পুরাতন আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরী ভবনে ভাংচুর ও তছনছের সাথে জড়িতদের আইনে সোপর্দ করতে হবে’। এর অন্যথা হলে আইনি লড়াই ছাড়াও আইনজীবীরা কলম ছেড়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।
এছাড়া জরুরী সাধারণ সভায় বুধবার প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জজ কোর্টের সামনে মানব বন্ধন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।