আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরী, আসবাবপত্র ভাংচুরসহ আইন ও ধার্মীয় গ্রন্থ অবমাননার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন: থানায় এজাহার দায়ের (ভিাডওসহ)


প্রকাশিত : আগস্ট ২৮, ২০১৯ ||

বদিউজ্জামান: ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত জেলা আইনজীবী সমিতির ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বারে রাতের আন্ধকারে লাইব্রেরী, আসবাবপত্র ভাংচুরসহ আইন ও ধার্মীয় গ্রন্থ অবমাননার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে বুধবার দুপুরে আইনজীবী সমিতির হলরুমে উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. এম. শাহ আলম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত জেলা আইনজীবী সমিতি একটি ঐহিত্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এই সমিতির পাঁচ শতাধিক বিজ্ঞ সদস্য জেলার ২২ লক্ষ মানুষের প্রয়োজনীয় আইনী সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সম্প্রতি বেশ কিছুদিন যাবত আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের পুরাতন বার ভবনের জায়গা নিয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তিনি জানান, ২০১৮ সালে রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাতনামা লোকজন অবৈধভাবে পুরাতন বারের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। একইভাবে গত ২১ আগষ্ট ২০১৯ তারিখে গভীররাতে আবারো অজ্ঞাতনামা লোকজন পুরাতন বারের লাইব্রেরীর তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে আলমারীর গ্লাস ভাংচুর করে, সেখানে রাখা মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল-কোরআন এবং হিন্দু ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ গীতা, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের ডিসিশান সম্বলিত বহু বই পুস্তক এবং বাংলাদেশ সংবিধান তছনছ করে এবং সেগুন কাঠের তৈরী শত বছরের পুরাতন চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে। তিনি আরো বলেন, উক্ত বার ভবনের সম্পত্তি নিয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ বিভাগের সাথে দেওয়ানী মামলা চলমান রয়েছে এবং উক্ত মামলায় সম্প্রতি বারের পক্ষে রায়ও হয়েছে। এছাড়া, হাইকোট ডিভিশনে একটি রিটও করা হয়েছে। উক্ত রিটে বিবাদী পক্ষের প্রতি নিষেধাজ্ঞার আদেশ বহাল আছে। তিনি এ সময় দীর্ঘ ১৪৮ বছরের পুরাতন এই বারের সম্পত্তি রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে বার লাইব্রেরী ভাংচুরের ঘটনায় কোন প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এড. এম শাহ আলম বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের হাতে সদর থানা কর্তৃক রিসিভকৃত একটি এজাহারের কপি তুলে দেন।
বার লাইব্রেরী ভাংচরের ঘটনায় কে বা কারা জড়িত সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে এম শাহ আলম বলেন, আমাদের দেওয়া মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসাবে রেকর্ড করে সঠিক ভাবে তদন্ত করলেই কে বা কারা জড়িত সেটা বের হয়ে আসবে। এ সময় একজন সাংবাদিক পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, যেহেতু পুরাতন বারের সম্পত্তি নিয়ে পুলিশ বিভাগের সাথে আপনাদের একটি মামলা চলছে বলে আপনি আপনার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, সে ক্ষেত্রে পুলিশ এই ভাংচুরের ঘটনার সহিত কোন ভাবে জড়িত আছে বলে আপনি মনে করেন কিনা-এ সময় এম শাহ আলম বলেন, তাঁরা যে এ ঘটনার সহিত জড়িত নেই আমি সেটা মনে করিনা, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত থাকতেও পারে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম, সাবেক সভাপতি এড. গোলাম মোস্তফা, সাবেক সভাপতি এড. আবুল হোসেন, প্রবীন আইনজীবী ও বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একেএম শহিদুল্লাহ, সাবেক পিপি এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. ওসমান গণি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. ইউনুচ আলী, এড. আকবার আলী, এড. লাকী ইয়াসমিন, এড. সিহাব মাসুদ সাচ্চু ও এড. সাহেদুজ্জামান সাহেদ প্রমুখ।