পুরাতন বার ভাংচুরের প্রতিবাদে জেলা আইনজীবী সমিতির মানববন্ধন


প্রকাশিত : আগস্ট ২৯, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: ১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বারে রাতের আন্ধকারে লাইব্রেরী, আসবাবপত্র ভাংচুরসহ আইন ও ধার্মীয় গ্রন্থ অবমাননার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় জজ কোর্ট সংলগ্ন সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কে উক্ত মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়।
এড. সাহেদুজ্জামান সাহেদের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. এম. শাহ আলম, সাবেক সভাপতি এড. আবুল হোসেন, যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. দেবাশীষ রায়, সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক এড. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. ওসমান গণি, সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, এড. সোমনাথ ব্যানার্জী, জেলা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি এড. ফাহিমুল কিসলু, এড. সাইদুজ্জামান জিকো প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ১৪৮ বছরের ভোগ-দখলীয় পুরাতন বার ভবনের জায়গা সাতক্ষীরার পুলিশ প্রশাসন তাদের দখলে নিতে চায়। এ নিয়ে বারের সভাপতি এম শাহ আলম বাদী হয়ে পুলিশ সুপার সাতক্ষীরাসহ অন্যান্যদের বিবাদী করে একটি দেওয়ানী মামলা করে। উক্ত মামলায় বিবাদী হিসেবে পুলিশ প্রশাসন কনটেষ্ট করে পরাজিত হয় এবং বিবাদী পক্ষের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধজ্ঞার রায় হয়। এছাড়া বারের উক্ত জায়গা পুলিশ প্রশাসনকে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রসাশকের এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি রেজুলেশনও তৈরী করা হয়। বার উক্ত রেজুলেশনের বৈধতা চ্যালেন্স করে এবং উক্ত রেজুলেশনের কার্য্যক্রম স্থগীত চেয়ে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দাখিল করে। উক্ত রিট মামলায় হাইকোর্ট প্রথমে ৬ মাস এবং পরবর্তীতে ১ বছরের জন্য উক্ত রেজুলেশনের কার্য্য ক্রমের উপর স্থগীতাদেশ দেন, যা বর্তমানে বহাল আছে। বক্তারা আরও বলেন, তাঁরা দেওয়ানী মামলায় গত ৮ আগস্ট তাঁদের পক্ষে ডিগ্রী পাওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় গভীর রাতে পুরাতন বারের তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে চেয়ার টেবিল ও আরমারির গ্লাস ভাংচুর করা হয় এবং ধর্মীয় বইপত্রসহ আইন বই তছনছ করে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করা হয়। বক্তার বলেন, গভীর রাতে শান্তিপ্রিয় মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, ওই সময় দুষ্কৃতীকারিরা জেগে থাকে এবং তাদের পাহারায় থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনি, সঙ্গত: কারনে ওই দুই শ্রেণীর কেউ ভাংচুরের ঘটনা ঘটাতে পারে। বক্তারা আরও বলেন, বারের দেওয়া এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসাবে রেকর্ড করে সুষ্ঠ তদন্ত করলেই কারা প্রকৃত অপরাধী তা বেরিয়ে আসবে। আর যদি তা না করা হয় তবে- পুরাতন বার নিয়ে সকল ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে। তাঁরা এ সরকারের আশু হস্থক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধন শেষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেন আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ।