দেবহাটায় বসত ঘর পোড়ানোর ঘটনায় অসহায় নারীর সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ ||

দেবহাটা সংবাদদাতা: দেবহাটায় বসত ঘর পোড়ানোর ঘটনায় ভূমি দস্যুর বিরুদ্ধে অসহায় নারী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় দেবহাটা প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত রহিম সানার স্ত্রী সালমা খাতুন (৫৫)। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জগন্নাথপুর গ্রামে বাবার পৈত্রিক সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করে আসছেন। তাদের বাড়ির সামনে আমার ভোগ দখলীয় জেলা পরিষদের কিছু জমিতে আমার রান্না ঘর, বাথরুম ও কাঠের ঘরসহ তার হাতে লাগানো কয়েকটি গাছ আছে। তার সেই সামান্য মাথা গোজার ঠাঁইটুকু ছিনিয়ে নেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে প্রতিবেশি মৃত ছগির আলীর পুত্র ভূমিদস্যু আবু মুছা। সে তাদেরকে ঐ জায়গা থেকে বিতাড়িত করতে বিভিন্ন সময় নানারকম হুমকি দিয়ে আসছে। সালমা খাতুন বলেন, কিছুদিন পূর্বে মুছা তার দখলীয় জায়গায় রান্নাঘর, বাথরুম, কাঠের ঘরসহ জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নিলে তিনি এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে গত ইং ১৩-০৩-১৯ তারিখে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের জন্য নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরণ করেন। চেয়ারম্যানের অফিসে বিষয়টি নিয়ে কয়েক তারিখ বিচারের দিন ধার্য্য হলেও ভূমিদস্যু মুছা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কোন তারিখেই বিচারে হাজির হয়নি। পরে ষড়যন্ত্রকারী মুছা গত ২১ আগস্ট রাতে তার রান্নাঘর ও বসতঘরের বেড়া ও বারান্দা ভেঙ্গে ফেলে। এমনকি বেড়া দিয়ে আমার যাতায়াতের পথ বন্ধ করাসহ রান্নাঘরের পাশে মাটি তুলে পানি আসার পথটিও বন্ধ করে দেয়। এসময় তিনিসহ পরিবারের লোকজন বাধা দিলে তারা তাদেরকে মারপিট করে। এমনকি ঐ রাতে মুছা, তার পুত্র শাওন ও সোহান এবং তার সহযোগীরা রামদা, সাবলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রসহ জীবন নাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরের দিন সকালে তিনি এ বিষয়ে দেবহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগের সংবাদ পেয়ে ভূমিদস্যু মুছাও তাদের নামে দেবহাটা থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। এ বিষয়ে গত শুক্রবার ৩০-০৮-১৯ তারিখ সকালে দেবহাটা থানায় সালিশের দিন ধার্য্য থাকার কারনে মুছা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে তার বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় ঘরের ভিতরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আগুন নেভানোর জন্য এলাকাবাসী ছুটে এসে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে কালিগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঘরের ভিতরে থাকা সকল জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এসময় দেবহাটা থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উক্ত বিষয়ে তিনি শুক্রবার সকালে দেবহাটা থানায় আবারো একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত বিষয়টি থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়নি। মুছা একজন ভূমিদস্যু। তার ভাই বা চাচারা পাশর্^বর্তী একটি মাদ্রাসায় জমি দান করে। শুধু তার পিতার অংশ দান না করায় দানকৃত সম্পূর্ণ সম্পত্তিই মুছা নিজেই লীজ নেওয়ার নাম করে দখল করে নেয়। তাছাড়া পাশর্^বর্তী জেলা পরিষদের খাস জমিতে ডিসিআরের নাম করে প্রায় ৮/৯টি পরিবারকে ভিটা ছাড়া করার পায়তারা চালাচ্ছে এই মুছা। এছাড়া মুছা দেবহাটা উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ঘের দখলের ঢালী হিসেবে কাজ করে। শ্যামনগর থেকে কয়েক বছর আগে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারও হয় সে। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তাই বিষয়টি তদন্তপূর্বক মুছার কবল থেকে সম্পত্তি রক্ষা ও ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনার জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু বিচাররের দাবী করেছেন ভূক্তভোগী পরিবারটি।