বনলতা সিনড্রম/ শাহীন রেজা


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ ||

ক্লাস নাইনের সিঁড়ি পেরুতে না পেরুতেই আমার মগজে ঢুকে যায় বনলতা সেন।
আমি পাড়া-মহল¬ায়, গ্রামে কিংবা গঞ্জে, যেখানেই পা বাড়াতাম আমার চোখদুটো চঞ্চল হয়ে থাকতো তার ওই একজোড়া পাখির নীড়ের মত চোখের দিকে।
সত্যি কথা বলতে কি, ওই চোখের আবিস্কারক জীবনানন্দকে আমি মনেমনে হিংসা করতেও শুরু করেছিলাম।
ওই চোখ খুঁজতে গিয়ে সহস্র ভ্রুকুটি এবং তিরস্কার সহ্য করতে করতে একসময় আমার মনেও জাগ্রত হয়েছিল হনন-আকাঙ্খা।
কিন্তু সেটা আমি করিনি কারণ অতৃপ্ত আশা নিয়ে কেউ চলে গেলে সে না’কি ভূত হয়ে যায়- এমনটি বিশ্বাসে পরিপূর্ণ ছিল আমার অন্তর।
চুয়ালি¬শ বসন্ত শেষে সেই ইচ্ছেটা এখনও রঙিন। আলোবৃক্ষের পাতাগুলো এখনো দুয়ার খোলে আচম্বিতে ফাগুন-বাতাসে।
তের তে যাত্রা তোমার, নয় পরিপূর্ণ সাতান্ন তেও। এই অবেলায় ছানি পড়া চোখে তবুও ঝিলিক খেলে মাছরাঙা রোদ, তবুও ঘোমটা খোলে দ্বাদশীর চাঁদ, আর তুমি পাখি-চোখে এঁকে যাও নীলনির্জনতা।
বনলতা, তুমি কবিদের নারী,
কবির চশমা হয়ে লিখে যাও বাণী চিরন্তনী।
পাখির বাসার মতো অরণ্য-বুননে, দুলুক হিয়ার ঘড়ি চকিত আবেগে!
বনলতা যেন আজো কোনো আকাশের তারা, আর তার দুটিচোখ পাখির বাসার মতো তীব্র স্বয়ম্বরা।