মেঘের কাছে উড়ো চিঠি/ জোছনা অনন্ত


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ ||

হে আমার চির সুন্দর,
তোমার আকাশে যে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখছো,তা আমারই পাঠানো জমাট বাঁধা শব্দ-মেঘ। এতে লিখে দিয়েছি আমি, এক জনমের মাধুরী মেশানো শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার কথা। সে মেঘ যদি ঝরে পড়ে তোমার মনাকাশে,তুমি ভিজো সে শব্দ-বৃষ্টিতে এক পশলা।
বারবার ফোন নম্বর লিখে,ডায়াল না করেই মুছে ফেলা যদি ভালোবাসা হয়,এস. এম. এসের পর এস.এম. এস লিখে মুছে ফেলতে ফেলতে, মনের কাছে হার মেনে,কোনও না কোনও বাহানায় একটা এস এম এস পাঠানো যদি ভালোবাসা হয়,তোমার অসাবধান পথ চলা আর বাতাসে উড়ে বেড়ানো দেখে, বুকটা মোচড় দিয়ে উঠা যদি ভালোবাসা হয়, তবে হয়তো তোমাকেই আমি ভালোবাসি।
হে সত্য,তুমি কি জানো না প্রতিটি নি:শব্দতার ও একটা গভীর শব্দ থাকে!থাকে একটা অজানা আবেশ!তাই না বলার মাঝেও আমি বলে যাই পৃথিবীর সমস্ত ক্ষুধা, তৃষ্ণা, হাহাকারের কথা নিবিড়ভাবে। পৃথিবীর অমানুষিকতা, অসহিষ্ণুতা যেখানে তোমাকে ক্ষত, বিক্ষত করে প্রতিনিয়ত,সে রক্তাক্ত স্থানে আমি মায়াবী সবুজ আঁচল দিয়ে ঢেকে দিতে চাই সকল অসাম্যতার ক্ষতচিহ্ন,তোমার বিপ¬বী সাথী হতে।
হে সুন্দর,তোমাকে আগলে রেখেছি আমি,যেমনটা আগলে রাখে শক্ত হাড়গুলো স্পর্শ -কাতর হৃদয়টাকে,সমস্ত অমানবিক রোষানল থেকে। পৃথিবীর সমস্ত ঘুম যখন তোমার চোখে ঝরে পড়ে,স্ট্রীট লাইটের নীচে ঘুমন্ত পথ শিশুর মশার কামড়ে আমি জেগে উঠি,রাতের গায়ে ভালোবাসার গন্ধ মেখে, ডেকে পাঠাই পথে নামার আহ্বানে তোমার কাছে।ইচ্ছে করে পৃথিবীর অমানবিক অট্টালিকার ঘুম বিলাসীদের কান ধরে টেনে আনি রাজপথে। তুমি কি আমার হাতে হাত রেখে সায় দেবে আমার ইচ্ছাতে! অজানা মোহের মাদকতায় চাঁদ যেমন
লুকিয়ে থাকে রাতের গভীরে,আমিও লীন হয়ে মিশে আছি তোমাতে জন্মের মতো,তোমারই অগোচরে।ইচ্ছে করে কোনও বার্তা নয়,এক মুঠো তেজোদীপ্ত সূর্যালোক মুঠোয় করে এক দৌঁড়ে ছুটে আছড়ে পড়ি তোমার বুকের ‘পরে,এঁকে দিই রাজটীকা তোমার কপালে,মানুষের অধিকার আদায়ের বীর যোদ্ধার মতো।
হে বীর, জানি মানুষের সুখের সময় খুব স্বল্প হয়,দীর্ঘ হয় শোকের রাত!তুমি কি বলতে পারো প্রিয়,এ দেশের শোকাতুর চাঁদ কবে গ¬ানি মুছে নূতন ভোরকে করবে আহ্বান!কবে ইতি টানবে শোকার্ত অসহায় জনতা এই দিন গভীরের
অমানিশার!তুমি তো সুন্দর প্রিয়, তবে তুমি তো সত্যদ্রষ্টা। কেন দিতে পারছো না প্রতিশ্রুতি আমাকে! আমি তো জানি ঈশ্বর ই সত্য,সুন্দর। হে আমার চির সুন্দর,তোমাকে হারানোর ভয়ে আমি কুঁকড়ে থাকি!কারণ,কেউ এখন আর সত্যের পূজো করে না! সেই সত্য যেদিন এক্কেবারে হারিয়ে
যাবে, পৃথিবীর ধ্বংসের মতো আমাকে হাঁটতে হবে অস্তাচলের পথে দীর্ঘ সফরের ইতি টেনে।প্রিয় আমার,আমিও চাই কেউ আমাকে যতেœ গুছিয়ে রাখুক তার বুকের উষ্ণতায়,সে আমার অধিকার বোধ বলতে পারো,যেমনটা অধিকার বোধ প্রতিটি সুস্থ নাগরিক আশা করে রাষ্ট্রের কাছে।আমার পেট ভর্তি অভিমান থেকেও,কতোবার ডেকেছি তোমায়,কতোবার করাঘাত করে ফিরেছি তোমার খিল দেওয়া দ্বার থেকে,কতোবার মরেছি মরণে,যেমনটি মরেছে,মরছে হাজার হাজার ভারতবাসী বিচারের নীরব প্রহসনের দ্বার থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে। তবুও এ পৃথিবীর কাছে আমার,আমাদের অমৃত্যু প্রত্যাশা থেকেই গেলো।
হে তাপস,আমার বর্ণময় জীবন বিবর্ণ হয়,মনের সবুজ উপত্যকা হয় রক্তাক্ত,তোমার অবহেলা,স্বেচ্চাচারী সিদ্ধান্ত আর দম বন্ধ করা তীব্র বজ্র বেষ্টনীর ফরমানে! আমি দুঃস্বপ্নে জেগে উঠি,ছিঁড়ে ফেলি সমস্ত বেড়াজাল ও বেআইনী
ফরমান।লিখে যাই সত্য ইতিহাস তোমাকে স্বাক্ষী রেখে,এ পৃথিবীর প্রেমহীন,অমানবিক ও অসামাজিক ধর্ষণের বুকে দাঁড়িয়ে। হে প্রিয়,তুমি কি এ স্বপ্ন সত্যের সংগ্রামে সাথী হবে?মানবাত্মার মুক্তির শে-াগানের মুখরিত করবে আকাশ,বাতাস? তবে এসো,নিঃশর্ত হাত রাখো হাতে।
হে সুন্দর,তোমার সান্নিধ্যে বদলে গেছে আমার মনাকাশের নকশা।সেখানে চাঁদের বদলে, হাসে তোমার মুক্তো দাঁত;সূর্যের বদলে বিচ্ছুরিত হয়,তোমার প্রতিবাদের স্পৃহা। ধ্রুব তারার বদলে দুচোখ ঠিকরে বের হয় পৃথিবীর বঞ্চনার ইতিকথা।
আমি সান্ধ্য প্রদীপ জ্বালিয়ে তপস্যা করি এই অসীম সুন্দরের। হে আমার সত্য,যদি কোনও দিন,যদি কোনও দিন, গ্রহণে ঢেকে যায় পৃথিবীর আকাশ তীব্র ভাবে,সে দিন জেনে নিও , এক পৃথিবী ধুমকেতু সম জ্বালা আর অসাম্য, ভেদ জ্ঞান নিয়ে খসে পড়েছে একটি অতি নগণ্য নক্ষত্র রক্তাভ
আকাশ থেকে। সেদিন আমার আগরবাতির গন্ধ না ছড়াক তোমার প্রাণে, ঝাপসা হোয়ে আসুক আমার ছবি তোমার মানস পটে।বাকীটা সময় আকাশ বাতাসে বাজুক তোমার বিপ¬বী সুর,উড়িয়ে নিও পৃথিবীর আজন্ম অমানুষিক জ্বর। হে রুদ্র, ঐ মেঘের পেছনে যদি বিজলী চমকায়,সে এ পৃথিবীর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অসহায় মানবের গর্জে উঠার আওয়াজ জেনো;ঐ যে আকাশে লাল মেঘ দেখছো,আবির ভেবে ভুল করো না,সে যে এ পৃথিবীর মানবতার খুনের রক্তলাল!ডানা ভাঙা পাখীর মতো আহত বেদনেই তোমার পাশে থাকবো আমৃত্যু জেনো তুমি।
ভালো থেকো,ভালোবাসা আমার।
ইতি
তোমার প্রিয়তমা