ফিরে এসো মা/ শামীমা নাসরীন


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ ||

বুকটা চিনচিন করছে মা;
উত্তর গোলার্ধ সেতো বহুদূর!
কোপেনহেগেনের উদ্দেশ্যে তোমাকে বিদায় দিতে গতকাল রাতটা ছিল কুচকুচে কালো জোৎস্নাহীন ভীষণ পাষাণী অন্যরকম।
আকাশে মেঘ ছিল না এতটুকু
তবু দু’চোখে নেমেছে তুমুল বর্ষণ।
বুকের খাঁ খাঁ আঙিনায় তুমি ভীষণ দীর্ঘশ্বাসে করেছ প্রভাত ফেরী।
ঘুমুতে চেষ্টা করেও ঘুমুতে পারিনি আমি!একটু পরপর বিছানায় উঠে বসেছি মা! আমার চারপাশে কোথাও তুমি নেই- আতঙ্কটা গ্রাস করেছে আমাকে অবিরত!
মাগো, জানালার কাঁচ ডিঙিয়ে এখন স্বর্ণালী বিভায় ভরে গেছে দক্ষিণের ঘরটা
পর্দা টেনে দেয়নি আজ কেউ চোখের উপর
কেউ বলেনি, উঠ্ মা! চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে!
তোমার ঘরটা পড়ে আছে শূন্য উপত্যকার মতো!
এক কোণে পড়ে আছে তোমার ব্যবহারের জায়নামাজ সকালে তোমার পায়ের স্পর্শ পায়নি বলে হয়তো ওরও ভীষণ মন খারাপ আজ! আমারই মতোন ভীষণ একাকীত্বে ভুগছে, তোমার বারান্দার মিষ্টি রোদের আগমন যেন তোমার আচারের বৈয়ামগুলোর উত্তাপ বাড়াতে!
আজ তুমি নেই। তাই তোমার বিছানা আয়না চিরুনি শখের ফুলদানি নিষ্প্রাণ, নিষ্প্রভ সব।
মাতৃভূমির বুকে এই প্রথম তুমি ছাড়া
কেটে যাচ্ছে একটি সকাল।
তুমি নেই স্নেহ নেই
মনে হচ্ছে মমতারাও গিয়েছে পরবাসে তোমারই মতোন।
আমি আজ ভালো নেই মা
থামছে না কিছুতেই জলের ধারা
ফিরে এসো মা।