প্রিয় শিক্ষকের গল্প শুনতে শুনতে সবাই ফিরে গেলেন শৈশবে


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ ||

যশোর প্রতিনিধি: মঞ্চে দাঁড়িয়ে শৈশবের প্রিয় শিক্ষকের গল্প বলছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান। গল্পের প্রিয় শিক্ষক তারাপদ দাস সামনের আসনে বসে তন্ময় হয়ে শুনছিলেন প্রিয় ছাত্রের বক্তব্য। ‘তারাপদ স্যার আমার অনুপ্রেরণা। তাঁর জন্য আমি আজ মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলতেন, মুস্তাফিজ আমার বড় ছেলে। সত্যিই আমি তাঁর বড় ছেলে।’ মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতেই প্রিয় ছাত্র মুস্তাফিজুর রহমানকে জড়িয়ে ধরলেন তারাপদ দাস। মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করলেন।

এরপর মঞ্চে ডাক পড়লো তারাপদ দাসের। তিনি বললেন, ‘মুস্তাফিজ আমার বড় ছেলে। আমার ছাত্ররা দেশকে ভালোবাসে। ভালোবাসে দেশের মানুষকে। মানুষের সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়।’

শনিবার বিকেলে যশোর সিসিটিএস (খ্রিষ্টান চার্চ ট্রেড স্কুল) মিলনায়তনে ‘আইপিডিসি-প্রথম আলো প্রিয় শিক্ষক সম্মাননা-২০১৯’ উপলক্ষে সুধী সমাবেশ হয়। এতে উপস্থিত আমন্ত্রিত শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবীসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। নিজের শৈশবের প্রিয় শিক্ষকদের কথা স্মরণ করতে গিয়ে অনেকে এ সময় আপুত হয়ে পড়েন।

যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আর এম এ জাকারিয়া বলেন, ‘শিক্ষকেরা শুধু শিক্ষকই নন তাঁরা দার্শনিক, বাতিঘর, গাইড এবং রোলমডেল। শৈশবে একবার ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। সিনেমা শুরুর আগে হঠাৎ সিনেমা হলের দরজা খুলে গেলো। দেখি হাবিবুর রহমান স্যার দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন। এরপর স্যার আমাকে বেদম বেত্রাঘাত করলেন। সেদিনের কথা আজও ভুলতে পারিনি। সেদিন মার খেয়েছিলাম বলে আমি আজ কিছুটা হলেও শিক্ষক হতে পেরেছি।’

বেগমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার ম-ল বলেন, ‘শৈশবে দীন মোহাম্মদ স্যারের শাসন-আদর পেয়েছিলাম বলে আজ শিক্ষক হতে পেরেছি। স্যার বলতেন, সিনেমা দেখতে চাইলে আমার কাছ থেকে টাকা নেবে। আর লেখাপড়া করতে চাইলে প্রতিদিন সকালে আমার বাড়িতে পড়তে আসবে। আমি স্যারের বাড়িতে রোজ সকালে পড়তে যেতাম। পরে স্যারের সাথে একই বিদ্যালয়ে ছয় বছর চাকরি করেছি। স্যার ছিলেন প্রধান শিক্ষক আর আমি সহকারী প্রধান শিক্ষক। স্যার আমার কাজগুলো করে দিতেন। ভাবতেন আমি তখনো ছোট রয়েছি।’

নির্ধারিত নিয়মে মনোনয়ন শেষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ৫ জন করে ১০ জন শিক্ষককে দেওয়া হবে ‘আইপিডিসি-প্রথম আলো প্রিয় শিক্ষক সম্মাননা’। এর অংশ হিসেবে গতকাল আইপিডিসি ও প্রথম আলোর উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আগামী ৪ অক্টোবর নির্বাচিত প্রিয় শিক্ষকদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য দেন প্রথম আলোর হেড অব ইভেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্টিভেশন কবির বকুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম। এরপর প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে গড়া পদ্মাপারের আলোর পাঠশালা নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন প্রথম আলো যশোর বন্ধুসভার সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আইপিডিসি ফাইন্যান্সের যশোর জেলা শাখার ব্যবস্থাপক জসীম উদ্দীন, নারী উদ্যোক্তা পারভিন আকতার, রাষ্ট্রের বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) এমইউসি ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস প্রমুখ। এরপর আইপিডিসির ‘উচ্ছ্বাস’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র এবং শিক্ষক সম্মাননা নিয়ে আরেকটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।