কলারোয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে মেম্বর প্রীতি ও চরম অনিয়মের অভিযোগ


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ ||

জয়নগর (কলারোয়া) প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দেওয়া একটি তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে মেম্বর প্রীতি ও চরম অনিয়মের অভিযোগ পাওয়াগেছে।

কলারোয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পলাশ চন্দ্র মুখার্জীর গত ২১ আগস্ট স্বাক্ষরিত ইউএনও বরাবরে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের জয়নাল গাজি খাদ্য বান্ধব প্রকল্পের আওতায় স্বল্পমূল্যে খাদ্য শস্য ১০টাকা কেজি দরের চাল বিতরণের জন্য হত দরিদ্রদের তার গ্রামের নামের তালিকায় তের ব্যক্তির নামে চরম অনিয়ম স্বজনপ্রীতি ও ধনী লোকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মর্মে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গত ১৯ মে লিখিত অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরএম সেলিম শাহানেওয়াজ ওই অভিযোগটি সরেজমিন তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পলাশ চন্দ্র মুখার্জীকে নির্দেশ দেন। গত ২১ আগস্ট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে তের অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে নয় ব্যক্তির কার্ড বাতিল করার সুপারিশ করলেও অজ্ঞাত কারণে চার ব্যক্তিকে কার্ড বহাল রাখার সুপারিশ করেছেন। অভিযোগকারী জয়নাল গাজি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, খাদ্য নিয়ন্ত্রকের তদন্ত প্রতিবেদন মিথ্যা তথ্যে ভরা। তার প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবি ও ধনী ব্যক্তিকে ১০ টাকা কেজি দরে স্বল্প মূল্যের রেশন কার্ড রাখার সুপারিশ করেছেন। জয়নগর ইউনিয়নের ১০টাকা কেজি দরের নামের তালিকায় (মানিকনগর গ্রামের) ২০৩ নং কার্ডধারী খোরশেদ আলম। সে একজন ধনী লোক তার ৮/১০ বিঘা ফসলী জমি আছে। ২১৪ নং কার্ডধারী মাজাহারুল ইসলাম। সে তার বাবার সংসারে এক অন্নভ’ক্ত। তাদের এক তলা বিল্ডিং বাড়ি। ৬/৭ বিঘা ফসলী জমি তাদের। ২৫১ নং কার্ডধারী গোলাম রসুল একজন সরকারি চাকুরীজীবি। ২২০ নং কার্ডধারী শহিদুল ইসলামেরও ৬/৭ বিঘা ফসলি জমি আছে। ওই সব কার্ডধারীদের বছরে এক কেজি চাউলও বাজার থেকে কেনা লাগেনা। ইতোপূর্বে তারা ১০টাকা কেজি দরের রেশন কার্ডের চাল তুলে ভাত রান্না করে গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন বলে অবিযোগ দীর্ঘদিনের। ওই সব ব্যক্তিদের কার্ড বহাল রাখার সুপারিশ করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পলাশ চন্দ্র মুখার্জী স্থানীয় মেম্বর প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং সরকারের মহৎ উদ্যোগ স্বল্প মূল্যের খাদ্য বান্ধব প্রকল্পের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এ বিষষয় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পলাশ চন্দ্র মুখার্জীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগকারী জয়নাল গাজির সাথে কথা বলে অভিযুক্ত কার্ডধারীদের কার্ড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারি জয়নাল গাজি এ বিষয় জানালেন ভিন্ন কথা, তিনি বলেন, অভিযুক্তদের কার্ড বহাল রাখা বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সাথে আমার কোন কথা হয়নি। অভিযুক্ত দু’জন স্থানীয় মেম্বর আমিরুল ইসলামের আপন চাচাতো ভাই অপর একজন তার খোদ লোক।