আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের শোকজ নোটিশ দেয়া শুরু


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ ||

অনলাইন ডেস্ক: বাছাই জটিলতার জন্য পূর্বনির্ধারিত রোববার থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের শোকজ চিঠি পাঠাতে পারেনি আওয়ামী লীগ। আজ সোমবার থেকে এই চিঠি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে অভিযুক্তদের ঠিকানা বরাবর পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, প্রথম ধাপে আজ থেকে শুধু উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের শোকজ করা হচ্ছে। শুরুর দিকে তালিকায় থাকা মদদদাতাদের নাম রোববার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ২য় ধাপে কোনো একসময় মদদদাতা মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে শোকজ চিঠি পাঠাবে দলটি। সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন ৯ জন। এদের মধ্যে কলারোয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু এবং কালিগঞ্জের সাইদ মেহেদী দল মনোনীত প্রার্থীর বিরদ্ধে নির্বাচিত হন। দুজনই সংশ্লিষ্ঠ দুই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কালিগঞ্জে আরো একজন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ওহেদুজ্জামানের ছেলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইঞিাজনিয়ার শেখ সুমন। তালায় বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন প্রবীন নেতা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা ফজলুল হক, আশাশুনিতে সাধারণ সম্পাদক এড. শহিদুল ইসলাম পিন্টু, শ্যামনগরে ওসমান গনি, দেবহাটায় এড. গোলাম মোস্তফা এবং সাতক্ষীরা সদরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম শওকত হোসেন ও গোলাম মোরশেদ। তবে সাতক্ষীরা জেলার বিদ্রোহীরা কবে চিঠি পাচ্ছেন সেটা জানা যায়নি।
শোকজ চিঠি পাঠানো শুরু হবে রংপুর বিভাগ দিয়ে। সূত্র জানায়, ১৫ দিনের সময় দিয়ে অভিযুক্ত বরাবর শোকজ চিঠি পাঠানো হচ্ছে। চিঠিতে ‘কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না’, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে দলীয় পদসহ স্থায়ী বহিষ্কার হবেন অভিযুক্ত নেতারা।
১২ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে যেসব মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী নেতা কাজ করেছেন, তাদের কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানোরও সিদ্ধান্ত হয়। শোকজের জবাব যথার্থ না হলে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের কথা ওঠে আসে সে আলোচনায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চ ও জুনে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৮ বিভাগে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা দুই শতাধিক। এর বাইরে দলটির সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন শতাধিক।