কলারোয়ায় ১০ কেজি দরের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়া হতদারিদ্রদের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের ভূক্তভোগিরা।

সোমবার বিকাল ৫টার কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্তরে ওই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেসময় ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। অনুষ্ঠান শেষে তিনি প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত হতদারিদ্রদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু, ইউএনও আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ, ওসি শেখ মুনীর-উল-গীয়াসসহ অন্যরা।

এসময় জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ প্রদান সমাবেশে উপস্থিত হতদারিদ্র জনগণ। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান, থানার ওসি ও কলারোয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে অভিযোগের অনুলিপি প্রদান করেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে হতদারিদ্র ভূক্তভোগি জনগণের সাথে কেরালকাতার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সম মোরশেদ আলী, উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাবুসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ বলা হয়েছে- ‘সরকার হতদারিদ্র জনগণের জন্য ১০টাকা কেজি দরে একটি পরিবারের জন্য ৩০কেজি চাউল প্রদান কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার ৮নং কেরালকাতা ইউনিয়নের ১১৩০জনের একটি তালিকা করা হয়েছিলো। সেই তালিকা মোতাবেক আমরা ২বার চাল তুলেছিলাম। কিন্তু দূর্ভাগ্য:বশত গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর ২০১৬সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অদ্যাবধি আমাদেরকে আর চাউল প্রদান করা হয়নি। নির্ধারিত দু’জন ডিলারের কাছে চাল আনতে গেলে তারা বলেন, আপনাদের নাম তালিকায় নাই, আপনারা কার্ড জমা দেন। আপনারা আর চাউল পাবেন না। এরপর অতি সম্প্রতি আবার চাউল দেয়া হবে এমন খবর শুনে আমরা কলারোয়া উপজেলা খাদ্য অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমাদের নাম তালিকায় আছে। খাদ্য অফিস থেকে বলা হয়েছে যে, আপনারা এতদিন চাউল পাননি সেটা আমরা জানি না। আর এই তালিকা ছাড়া আর কোন তালিকা আমাদের কাছে নেই। তবে  চলতি বছরের ১৯ মার্চ থেকে ১১৩ জনের নাম সংশোধন করে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে কিন্তু তাদেককে এখনো চাউল দেয়া হয়নি। ইউনিয়ন পষিদের ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে আমরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান স ম মোরশেদ আলীকে ভোট দেয়ায় ও তিনি পরাজিত হওয়ার কারণে আমাদের কার্ড ইচ্ছামত পরিবর্তন করে বর্তমান চেয়ারম্যানের পছন্দের লোকজনকে চাউল বিতরণ করা হয়েছে।’

অভিযোগে তারা জানান, ‘তালিকার কোন সংশোধিত কপি পর্যন্ত উপজেলা খাদ্য অফিসে পাঠায়নি ডিলাররা। তালিকায় নাম থাকার কারণে আমরা আমাদের বিগত দিনের চাউল সহ এমাসেই প্রদত্ত চাউল যেন পেতে পারি তার দাবি জানাচ্ছি।’