জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের অবদান: কোর্ট চত্ত্বরে বসার জন্য ছায়াবিথি প্রাঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান আদালত অঙ্গনে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের বসার জন্য ‘ছায়াবিথি প্রাঙ্গন’ নামে বসার স্থানের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছেন। সাতক্ষীরা পৌরসভার অর্থায়নে এই ‘ছায়াবিথি প্রাঙ্গন’ তৈরী করা হবে। সোমবার বেলা দেড়টায় জজ কোর্ট ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে গাছের নীচে ছায়াবিথি প্রাঙ্গনের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, পৌরসভার মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি, বারের সভাপতি এম শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হোসেন তোজাম, পিপি তপন কুমার দাস, প্যানেল মেয়র ফারহা দিবা খান সাথী, কমিশনার শফিক উদ দৌলা সাগরসহ কোর্টের স্টাফগণ।

ছায়াবিথি প্রাঙ্গন উদ্বোধনকালে জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরার আদালত অঙ্গনে আসা বিচারপ্রার্থী মানুষের বসার তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকায় এটা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমি মাগুরা জেলায় দায়িত্ব পালনকালে সেখানেও এ ধরনের ব্যবস্থা করেছিলাম-যেটি পরবর্তীতে সারা দেশব্যাপি আলোচিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য, শেখ মফিজুর রহমান সাতক্ষীরাতে যোগদানের পর প্রথমেই প্রতিটি আদালতের সামনের বারান্দায় বিচারপ্রার্থীদের বসার জন্য বেঞ্চের ব্যবস্থা করেন, এরপর তিনি নিজ উদ্যোগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসেও দরিদ্র অসহায় মানুষের বসার ব্যবস্থা করেন, ব্যবস্থা করেন বেবী কর্ণারেরও। শুধু তাই নয়, জেলা লিগ্যাল এইড এর চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি নিজ দায়িত্বে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং এজিওদের কাজ থেকে অনুদান নিয়ে লিগ্যাল এইড অফিসে আসা গরীব বিচারপ্রার্থী মানুষের দুপুরে একবেলা খাবারের এবং যাতায়াতের জন্য পরিবহন খরচেরও ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়াও তিনি দরিদ্র মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রতিনিয়ত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন লিগ্যাল এইড কায্যক্রমের। তাঁর নির্দেশনায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে চলছে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি। এতেকরে সাধারণ মানুষ মামলা-মোকদ্দমা না করেও আপোষের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারছেন। শুধু তাই নয়, তিনি ইতোমধ্যে ২৬২ বছরের পুরাতন কারাবিধি সংস্কারে বিশেষ ভ’মিকা রাখার কারনে সরকারের হস্তক্ষেপে কারাবন্দীদের সকালের নাস্তায় এক চিমটা গুড আর একটা পোড়া রুটির পরিবর্তে রুটি-সবজি ও রুটি হালুয়া এবং খিচুড়ি ভাতের ব্যবস্থা হয়েছে। এ সবই হচ্ছে জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের উদার মানসিকতার কারণে।