মুক্তিপনের দাবিতে বনদস্যু আমিনুর ও জিয়া বাহিনীর হাতে সাত জেলে অপহৃত


প্রকাশিত : September 10, 2019 ||

সামিউল মনির, শ্যামনগর: সুন্দরবনে মাছ শিকারে যাওয়া সাত জেলেকে মুক্তিপনের দাবিতে অপহরণ করেছে বনদস্যু আমিনুর ও জিয়া বাহিনী। ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পশ্চিম সুন্দরবনের দোঁবেকী মনসা ভেটীপাড়া খাল এবং ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর কোবাদক এলাকা থেকে এসব জেলেদের অপহরণ করা হয়।
জিম্মি জেলেদের পরিবারসহ অপরাপর জেলেদের কাছে ‘টাকা দিয়ে বনে নামার’ বার্তা পৌছে দেয়ার জন্য এসময় দুইজনকে বাড়ি ফেরার সুযোগ দিলেও বেধড়ক মারপিট করে বনদস্যুরা।
অপহৃত জেলেরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর গ্রামের সজল (১৯), চাঁদনীমুখা গ্রামের রাজু, কয়রা উপজেলার আংটিহারা জোড়শিং গ্রামের আনারুল ইসলাম (৩২), ৪ নং কয়রা গ্রামের হেলাল উদ্দীন (৪২)। বুড়িগোয়ালীনি গ্রামের সুজাত গাজীর ছেলে নাসির হোসেন (৩০), পাশের্^মারী গ্রামের কাশেম শেখের ছেলে শাহ আলম ও তার এক অপন চাচাত ভাই।
জিম্মি জেলেদের নিকটাত্মীয় এবং নৌকা মালিক হাবিবুল্লাহসহ সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা জেলেরা আমিনুর ও জিয়া বাহিনীর হাতে এসব জেলেদের অপহরণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে সোমবার বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশন থেকে পাশ নিয়ে সুন্দরবনে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দুপুরে আমিনুর বাহিনীর পরিচয়ে সজলসহ চার জনকে জিম্মি করা হয়। এর আগে কোবাদক ষ্টেশন থেকে পাশ নিয়ে সুন্দরবনে মাছ শিকারকালে ৮ সেপ্টেম্বর জিয়া বাহিনী পাশের্^মারীর শাহ আলম ও তার চাচাত ভাইকে তুলে নেয়। প্রায় একই এলাকা থেকে ৯ সেপ্টেম্বর নাসিরকে জিম্মি করে আমিনুর বাহিনী। তবে নাসিরের দুই সহযোগীকে বেধড়ক মারপিট করে মুক্তিপনের টাকা সংগ্রহ ও প্রেরনের জন্য বাড়ি ফেরার সুযোগ দেয় বনদস্যু দলটি।
ফিরে আসা জেলেদের বরাত দিয়ে ৯ নং সোরা গ্রামের ইউনুস আলী জানিয়েছে নাসিরকে জিম্মি করলেও অপর দুইজনকে ব্যাপক মারপিট করে বাড়িতে পাঠিয়েছে বনদস্যুরা। আহত দুই জনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, রোববার বিকালে তার ছেলেরা সুন্দরবনে যাত্রা করেও আমিনুর বাহিনীর হাতে তার জামাতার ভাইসহ এসব জেলের জিম্মি হওয়ার খবরে যাত্রা বাতিল করে।
আটক জেলেদের পরিবারের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা না গেলেও ফিরে আসা জেলেরা আরও অন্তত ১২/১৩ জন জেলের জিম্মি হওয়ার দাবি করে বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে বনবিভাগ সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দিতে শুরু করে। আর জেলেদের সুন্দরবনে প্রবেশের সাথে সাথে বনদস্যু গ্রুপগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠে এসব জেলেদের মুক্তিপনের জন্য অপহরণ করেছে।
ফিরে আসা জেলেদের পাশাপাশি অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দাবি আমিনুর বাহিনীর প্রধান ২০১৬ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পন করে। তবে গত কয়েক মাস ধরে আমিনুর আরও ছয় সহযোগীকে নিয়ে সুন্দরবনে অপতৎপরতা শুরু করেছে। বাহ্যিকভাবে সে আত্মসমর্পনকারী হিসেবে ঘুরে বেড়ালেও গোপনে সুন্দরবনে সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে এসব জেলেরা জানান-সাংবাদিক পরিচয়দানকারী নীলডুমুর গ্রামের এক ব্যক্তি আমিনুরের হাতে জিম্মিদের মুক্তিপনের টাকা সংগ্রহ করছেন। সম্পর্কে আমিনুর বাহিনী প্রধানের ভায়রা হওয়া ঐ ব্যক্তির নিজস্ব মুটোফোনে ইতিপুর্বে মুক্তিপনের বড় অংকের একটি লেনদেনের পর থেকে তার ব্যবহৃত সিমটি বন্ধ করে দেন বলেও জেলেরা জানিয়েছে। তবে বনবিভাগ ও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এধরনের ঘটনার বিষয়ে কোন তথ্য না পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য পরবর্তীতে বনে যাওয়ার পর বনদস্যুদের রোশানলে পড়ার শংকা থেকে অপহরণের শিকার জেলেদের সহযোগী এবং পরিবারের সদস্যরা গোপনে মুক্তিপনের টাকা দিয়ে জিম্মদশা থেকে তাদেরকে মুক্ত করে থাকেন।