আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান (ভিডিও)


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ ||

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বুধবার আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষার দাবিতে ‘আদিবাসী ভাষার সংরক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমে গুণগত শিক্ষার নিশ্চয়তা চাই” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাতক্ষীরা ও সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস্) সাতক্ষীরা’র আয়োজনে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। সনাক সভাপতি মো: আবুল বাসার (পলটু বাসার) এর সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন নির্বাহী পরিচালক, স্বদেশ এর মাধব দত্ত, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এর সভানেত্রী জ্যোৎ¯œা দত্ত, সামস্ এর নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা, অষ্টমি মুন্ডা, বিশ^জিত মুন্ডা, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব এর সভাপতি অধ্যাপক আবু আহমেদ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, এড. আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক এম. কামরুজ্জামান সনাক সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জি, প্রফেসর আব্দুল হামিদ, কিশোরী মোহন সরকার, ডা. সুশান্ত কুমার ঘোষ, পবিত্র মোহন দাশ প্রমূখ।
আদিবাসী সম্প্রাদায়ের পক্ষ থেকে বলা হয় আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং আদিবাসী বিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদসমূহের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে, সকল আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের অধিকার নিশ্চিত করতে তাদের মাতৃভাষায় পাঠ্যবই প্রণয়ন ও পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে;, সমতলের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা সমাধানে পৃথক ভূমি কমিশন গঠন এবং তাদের জমির মালিকানা সমস্যার কার্যকর নিষ্পত্তি করতে হবে; প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকুরিতে ‘উপজাতি’ কোটা পুনর্বহাল করতে হবে; দুর্গম অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তাসহ মৌলিক সেবাসমূহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে পৃথক তদারকি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে; আদিবাসীদের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মানবাধিকার কমিশনসহ গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে আরও সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে; আদিবাসীদের শিক্ষা, ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। খাস জমি বন্টনে আদিবাসীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে; রাষ্ট্রীয় প্রজাস্বত্ত্ব আইন ১৯৫০ এর ৯৭ ধারা সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে; ইউনিয়ন/ উপজেলা ভিত্তিক বিভিন্ন কমিটিতে আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে; আদিবাসী নারীদের শিক্ষাসহ অন্যান্য সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, আজকের মানবন্ধন থেকে সনাক ও সামস্ যে স্লোগানকে সামনে রেখে আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় মানববন্ধন করছেন তা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন। বাংলাদেশের কেউ জাতিভেদ, ধর্ম, বর্ণের কারণে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকলে তা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। বাংলাদেশ সরকারের ভিশন- ২০৩০ এর শ্লোগন ”কাউকে বাদ দিয়ে নয়” বাস্তবায়নে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহন ছাড়া, জীবনঘনিষ্ট শিক্ষার অধিকার এবং তাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ভাষা টিকিয়ে রাখতে মাতৃভাষায় শিক্ষার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে আদিবাসী সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ আন্তরিকতার সাথে বিবেচনায় নিলে ২০৩০ এর একাধিক অভীষ্ট, যেমন দারিদ্র দূরীকরণ: গুণগত শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, উদ্ভাবন অবকাঠামো এবং বৈষম্য কমানোর অভীষ্টসমূহ (১,৪,৫,৮,৯ ও ১০) অর্জন করা আমাদের জন্য সহজতর হবে। সর্বোপরি এসডিজির ১৭টি বৈশি^ক অভীষ্টের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অভীষ্ট হচ্ছে ‘এসডিজি-১৬’ যেখানে “টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজব্যবস্থা, সকলের ন্যায় বিচার এবং সকল স্তরে কার্যকর জবাবদিহিতাপূর্ণ ও অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এসডিজির অন্যান্য অভীষ্ট অর্জনের জন্য এই অভীষ্ট-১৬ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আদিবাসী জনগোষ্ঠী আমাদের জন্য এখনো পুরোপুরি সম্পদ হতে পারেনি; একইসাথে, সংবিধান স্বীকৃত সকল নাগরিকের প্রাপ্য সমান অধিকার থেকেও তারা অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে। আদিবাসীদের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে এসডিজির অভীষ্টসমূহ অর্জন আমাদের জন্য সহজতর হবে।
মানববন্ধন শেষে আদিবাসদের অধিকার সুরক্ষায় সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাতক্ষীরা ও সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস্) সাতক্ষীরা এর পক্ষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি