ডেঙ্গু সচেতনতায় উদাসীন নগরঘাটা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ ||

মো. জাবের হোসেন: জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গু বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অথচ তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির প্রবেশপথের পাশে নোংরা পরিবেশ। নগরঘাটা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের আঙিনায় দেখা যায়, বিভিন্ন রকম ঘাসসহ আগাছায় ছেঁঁয়ে গেছে। আর ছোট ছোট গর্তে পানি জমাট বেঁধেছে। সকাল ১০টার পর অফিসে গিয়ে আবার ২টার আগে ভিতর থেকে তালা মেরে বাড়িতে চলে যান। বুধবার ৩টার সময় দেখা গেছে, ভিতর থেকে তালাবদ্ধ আছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আশপাশের সকলেই বলছেন, প্রতিদিন তিনি দুপুরের সাথে সাথে বাড়িতে চলে যান।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বাজারে অবস্থিত বলে বাজারের প্রায় লোক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দেওয়ালের পাশে প্র¯্রাব-পায়খানা করে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় উক্ত স্থানটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হয়েছে এবং সব সময় দুর্গন্ধ থাকে।
ডেঙ্গু বর্তমানে একটি আতঙ্কের নাম। যদিও সারা দেশের তুলনায় সাতক্ষীরাতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তথাপি সাতক্ষীরাকে সর্বপ্রথম ডেঙ্গুমুক্ত জেলা ঘোষণায় জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বদ্ধপরিকর। এজন্য তিনি দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তাদের নির্দেশনায় বলেছে, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সেবাদান কেন্দ্রে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদর্শন করতে হবে। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কর্তৃক স্কুল স্যাটেলাইটে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু এই নির্দেশনার কোনটি সম্পর্কে জানেন না নগরঘাটা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিধান চন্দ্র দাস।
তিনি বলেছেন, তাদের কাছে নাকি কোনো দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়নি। শুধুমাত্র উপজেলা মাসিক মিটিং-এ নাকি ডেঙ্গু সম্পর্কে কিছু কথা শুনেছেন। এমনকি ৩০-০৭-২০১৯ তারিখে প্রকাশিত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে ডেঙ্গু সচেতনতা বিষয়ক পরিপত্রের বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না।
স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগ, নগরঘাটা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কোন ডাক্তারই সময়মত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসেন না। নগরঘাটা ইউনিয়নে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সম্পর্কেও জানেন না উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিধান চন্দ্র দাস।
এ বিষয়ে বিধান চন্দ্র দাস বলেন, আমি একজনকে দিয়ে গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বড় বড় ঝোপঝাড় যা ছিলো সেগুলো পরিষ্কার করিয়েছি। আর বাকিগুলা আমি আবারও পরিষ্কার করাবো শিঘ্রই। আর স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বাজারে অবস্থান করায় এখানে প্রতিদিন বিকালে অনেক লোক আসা-যাওয়া করে। পাশে চায়ের দোকান আমি বারবার নিষেধ করার সত্ত্বেও তারা এখানে এসে প্র¯্রাব করে স্থানটি নোংরা করছে।