জেলায় অধুমপায়ীদের আগ্রহ বাড়াতে লোভনীয় প্রচারণা


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলায় আইন অমান্য করে অধুমপায়ীদের সিগারেটে আগ্রহ বাড়াতে লোভনীয় প্রচারণা চালাচ্ছে সিগারেট কোম্পানিগুলো। সিগারেট বা তামাকজাত পণ্যের সব ধরণের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ থাকলেও ভিন্ন কৌশলে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে থেমে নেই সিগারেট বিক্রির সব ধরণের প্রচারণা।
প্রত্যোক এলাকায় দেখা গেছে, খুচরা সিগারেট বিক্রেতাদের সুদৃশ্য শোকেজসহ বিভিন্ন বাহারি রংয়ের প্রচার সামগ্রী দিয়ে সিগারেট কোম্পানিগুলো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাহারি এসব প্রচারণার মাধ্যমে আইনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে সিগারেটের সাথে বিভিন্ন সামগ্রী উপহার দিয়ে সাধারণ জনগণকে ধূমপানে আগ্রহী করানো হয়।
সরেজমিনে সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সিগারেট কোম্পানিগুলো খুচরা বিক্রেতাদের বাহারি রংয়ের স্টিকার, লিফলেট, আকর্ষণীয় লাইটার, টি-শার্টসহ বিভিন্ন সামগ্রী উপহার দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে সিগারেট বিক্রি করছে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে সিগারেটের একজন প্রতিনিধি বলেন, আমরা এখানে বেতনভিক্তিক কাজ করছি।
সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন স্পটে কাজ করার জন্য আরও কয়েকজন প্রতিনিধি রয়েছে। মার্কেটে সিগারেটের চাহিদা বাড়ানোর জন্য অনেক কৌশল নিতে হয়। কোম্পানির মাসিক টার্গেট পূরণ করতে হয়। চলতি বাজেটে সিগারেট কোম্পানিগুলোর ওপর কর বাড়িয়েছে সরকার। কিন্তু সিগারেট কোম্পানিগুলো কৌশলে নতুন নতুন মোড়কে সিগারেট বাজারজাত করছে। আর দাম যেন ধুমপায়ীদের হাতের নাগলে থাকে এ জন্য বিভিন্ন দোকানে সিগারেটের দাম সংবলিত বিভিন্ন পোস্টার টাঙিয়ে দিয়েছে।
প্রচারের কৌশল হিসেবে সব এলাকায় দেখা গেছে, খুচরা সিগারেট বিক্রেতারা সুদৃশ্য শোকেজ নিয়ে সিগারেট বিক্রি করছে। এসব দামি ও সুদৃশ্য শোকেজগুলো কোম্পানির কাছ থেকে বিনামূল্যে পেয়েছেন দোকানদাররা। এন্টি টোবাকো মিডিয়া এলায়েন্সের (আত্মা) সদস্যরা বলেন, এ ধরনের প্রচারণা আইন বিরোধী। আইনে বলা আছে, ধুমপান ও তামাক জাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ ধারা ৫ এর ‘ক’ উপধারায় বলা আছে, ‘প্রিন্ট বা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায়, পোস্টার, ছাপানো কাগজ, বই, লিফলেট, হ্যান্ডবিল বা সাইনবোর্ড বা অন্য কোনভাবে তামাক জাত দ্রব্যেও বিজ্ঞাপন প্রচার করবেন না। ’আইন অমান্য করলে শাস্তি হিসেবে আইনের ধারা ৫ এর ৪ এ বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি এ ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে, তিনি অনুর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবেন।