জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা রইচপুরে ফসলী জমি থেকে অবৈধভাবে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ ||

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সদর উপজেলার রইচপুরে ফসলী জমি থেকে অবৈধভাবে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন অনেকেই। বুধবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রইচপুরের রাজ্জাকের মোড় থেকে ১ কিলোমিটার বায়ে রইচপুর দক্ষিণপাড়ায় আদালতের ১৪৫ ধারা নির্দেশ অমান্য করে গত তিনদিন ধরে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের ফসলী জমি ও ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়ছে। ফসলী জমি থেকে এভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় স্থানীয় নেতাদের নাম ভাঙিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ফলদ বৃক্ষ নিধন এবং জমি দখলের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে রইচপুর গ্রামের মৃত বাহার আলীর ছেলে জমিস উদ্দীন, মুকুল হোসেন, শিমুল হোসেন, বকুল হোসেন এবং আব্দুল হাকিমের ছেলে আশরাফ আলী। জমির প্রকৃত মালিক আহম্মাদ আলী সরদার বাঁধা দিতে গেলে তারা বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে থাকে। জমির মালিক আহম্মাদ আলীসহ তার পরিবারকে খুন-জখম করার হুমকি দিচ্ছে। সূত্রে জানা যায়, রইচপুর এলাকার মোকছেদ আলীগং তার পৌত্রিক এবং খরিদাকৃত পলাশপোল মৌজায় ১.২০ একর জমি দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ ভোগদখলে থাকে। ২০১০ সালের ২২ ফেব্রæয়ারি ইটাগাছা এলাকার আহম্মাদ আলী সরদার উক্ত সম্পত্তি থেকে ৯৩ শতক সম্পত্তি মোকছেদ আলী গং এর নিকট থেকে কোবলা মুলে খরিদ করেন। যাহা আহম্মাদ আলী সরদারের নামে বর্তমান খতিয়ান নং- ৩৩৩৩/৮/১ ডিপি-৪৫২৫ দাগ-২২২৪ নাম পত্তন, চেক, দাখিলাসহ গত ১০ বছর যাবৎ শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে আছে। অপরদিকে ভুমি দস্যু মৃত বাহার আলী সরদারের ছেলে শাহাবুদ্দীন, মুকুল, শিমুল ও জমিস উদ্দীন বড় চাচা মোকছেদ আলী বিক্রিয়কৃত সম্পত্তি নিজেদের দাবী করে ওই জমির বিভিন্ন ফলদ বৃক্ষ কেটে অবৈধ জমি দখল নিতে বৃক্ষ নিধন অব্যাহত রেখেছে। আহম্মদ আলী সরদারের অভিযোগ মোকছেদ আলী ওই সম্পত্তিতে ২০ বছর শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে ছিলো এরপর তিনি ২০১০ সালে কোবলা মূলে খরিদ করেন। তিনিও দীর্ঘ ১০ বছর শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে আছেন। সেখানে পাকা ঘর নির্মাণ, বিভিন্ন প্রজাতির শত শত বৃক্ষ রোপন, মৎস্য খামার গড়ে তুলেছেন। হঠাৎ তার ক্রয়কৃত ভোগ দখলে থাকা সম্পত্তি থেকে গাছ নিধন এবং ভ‚গর্ভস্থ বালু উত্তোলন করছেন জমিস উদ্দীন, মুকুল হোসেন, শিমুল হোসেন, বকুল হোসেন এবং আশরাফ আলী। ভুক্তভোগী আহম্মদ আলী সরদার ন্যায় বিচার প্রর্থনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং ভ‚গর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।