খোলা কলাম: জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে চলছে শতাব্দীর সেরা রসিকতা


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ ||

হাসান উল্লাহ:
সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের রসুলপুরের শান্তনীড় এলাকাটি প্রায় ২৫ দিন যাবত জলাবদ্ধ হয়ে আছে। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া স্বত্ত্বেও এ এলাকাটি যেন পৌর অভিভাবকহীন। জলাবদ্ধতার কথা এ ওয়ার্ডের কমিশনারকে একাধিকবার জানানোর পর তিনি এলাকার সাধারণ জনগণকে নানাবিধ আশ্বাস ও ভিত্তিহীন কাল্পনিক গল্প বলে রীতিমত তামাশা শুরু করছেন।
উল্লেখ্য গত ১৭ আগস্টের প্রবল বর্ষণে শহরের অধিকাংশ এলাকার রাস্তাঘাট, বাড়িঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ডুবে যায়। কিছু এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল থাকায় পানি দ্রুত সরে গেলেও সিটি কলেজ সংলগ্ন শান্তনীড় এলাকায় এক ব্যবসায়ীর ড্রেনহীন ট্রাক স্ট্যান্ড করার কারণে ওই এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুরো অচল হয়ে আছে। ড্রেনটিতে ইট বালি খোয়া ফেলে আটকানোর কারনে বর্তমানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ট্রাক স্ট্যাণ্ড পার হয়েই ড্রেন দৃশ্যমান থাকলেও তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত বছর পর্যন্ত ড্রেনটি সচল ছিল। তখন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো না কিন্তু ট্রাক স্ট্যাণ্ড করার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পানি নিষ্কাসনের কোন পথ না থাকায় এই এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবার বৃষ্টির ২৪ দিন পার হলেও এখনো জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে দিন যাপন করছে। বারবার উক্ত এলাকার পৌর কমিশনার শেখ সফিক-উদ-দৌলা সাগরকে জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।
এলাকায় জনশ্রুতি আছে উক্ত কমিশনার ব্যবসায়ী জনৈক ট্রাক স্ট্যান্ড মালিক থেকে মোটা অংকের টাকা মাসোয়ারা নেন। যার কারণে কমিশনার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করতে বলে বেড়াচ্ছেন, রোডস এ্যাণ্ড হাইওয়ের সাথে কথা হয়েছে ২/৩ দিন পর থেকে ড্রেনের কাজ শুরু হবে। অথচ সেই ২/৩ দিন গত ২৪ দিনের মধ্যে এখনো আসেনি।
এদিকে দীর্ঘ দিন জলাবদ্ধ থাকায় এ এলাকার স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে যা রীতিমত মারাত্বক ক্ষতিকর। একদিকে জেলা প্রশাসন ডেঙ্গৃ প্রতিরোধে হার্ড লাইনে কাজ করছে আর অন্যদিকে ৯নং ওয়ার্ড কমিশনারের উদাসীনতায় সিটি কলেজ সংলগ্ন এলাকা এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র একদিন এ এলাকায় পৌরসভার পক্ষ থেকে স্প্রে করা হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে একাধিকবার জানানো স্বত্ত্বেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রফেসর জানান, এই দুষিত, কালো ঘোলা জল বারবার পাড়ি দেওয়ার কারনে আমার পায়ে খোস পাঁচড়া দেখা দিয়েছে বলে তিনি তার পায়ের ক্ষতচিহ্ন দেখান। এলাকার শিশুরা এই পানি পার হয়ে স্কুলে যাতায়াতের কারণে অনেক শিশু চুলকানী ও খোস পাঁচড়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাছাড়া পঁচা পানির দুর্গন্ধ এতোই প্রকট যে অনেকে বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ এলাকার সেনেটারী ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফার স্ত্রী শিউলী বেগম ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এখনো সিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এসব বিষয়গুলো কমিশনারকে বার বার জানানোর হলেও তিনি কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে নিজের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচলের নামে একাধিক গল্প বানিয়ে সাধারণ জনগণের সাথে রীতিমত তামাশা করছেন এই কমিশনার। কখনো বলছেন সড়ক জনপদের জায়গায় ড্রেন করা যাবে না, কখনো বলছেন কারো ব্যক্তিগত জমির উপর দিয়ে ড্রেন বানানো যাবে না। কখনো বলছেন ২/৩ দিন পর ড্রেনের কাজ শুরু হবে। অথচ এর আগে সেখানে স্বাভাবিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিলো। এদিকে সরেজমিনে এলাকাটিতে ঘুরে দেখা গেছে কোথাও কোথাও এখনো হাঁটু পানি বিরাজমান। এমনকি ফারজানা ক্লিনিক এর মালিক ডাঃ নুরুল ইসলামের বাড়ির মধ্যেই এখনো হাঁটুপানি জমে আছে। এলাকার নিন্ম আয়ের মানুষ গুলো অভিযোগ করে বলেন, জলাবদ্ধতার কারনে তাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ও শরীরে খোসপাঁচড়া দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘ ২৪দিন অতিবাহিত হওয়ার পর কমিশনার উক্ত এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি তিন ইঞ্চি সাইজের মোটর ও এক ইঞ্চি সাইজের পাইপ এনে বিশ কিলোমিটার এলাকার পানি সরানো ব্যবস্থা করে সবথেকে মারাত্মক তামাশা শুরু করেছেন। অথচ এদিন সকাল ৭টা থেকে হাজার চেষ্টা করেও দুপুর ২ টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তিনি একফোঁটা পানি অন্যত্র সরানোর ব্যবস্থা করতে পারেন নি। এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে ১০সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় একাধিক বার কমিশনারের ব্যক্তিগত ফোনে কল করে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  (ছবিটি ৮নং ওয়ার্ডের)