লিগ্যাল এইড’র কর্মশালায়  শেখ মফিজুর রহমান: শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র লিগ্যাল এইড ছড়িয়ে দেয়া হবে (ভিডিওসহ আপডেট)


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ ||

বদিউজ্জামান: জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান বলেছেন, শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র লিগ্যাল এইড ছড়িয়ে দেয়া হবে। তিনি লিগ্যাল এইড অফিসে উভয় পক্ষের মধ্যকার বিরোধ আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দেয়া হয় উল্লেখ করে আরও বলেন, মামলা জট কমাতে হলে মিমাংসার বিকল্প নেই।

শনিবার বেলা ১১টায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাকপার্কস্থ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সাথে সদর উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজনে এবং সদর উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সহায়তায় অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, সদর উপজেলা চেয়্যারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা পাভেল রায়হান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর্জা সালাউদ্দীন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম, সরকারী কৌশুলী সরকার যামিনি কান্ত, পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) তপন কুমার দাস ও সদর উপজেলার ভইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম।

জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে আরও বলেন, সমগ্র সাতক্ষীরা জেলার মানুষ যেন ন্যায় বিচার পায়, আমরা সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি লিগ্যাল এইড অফিসকে আইনের একটি অক্সিজেন ভান্ডার উল্লেখ করে আরও বলেন, গরীবের আইনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে এ অফিসকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, আপনাদের সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমরা সাতক্ষীরাতে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণকর একটি বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র সকলেই যেন ন্যায় বিচার পায়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আসা চেয়ারম্যান, মেম্বর ও মহিলা মেম্বরদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।

এছাড়া কর্মশালায় উপস্থিত অতিথিগন তাঁদের বক্তব্যে বৃটিশ আমলের পুরাতন কারাবিধি সংস্কার করে কারাবন্দিদের সকালের নাস্তায় খিঁচুড়ি ভাতের ব্যবস্থা করার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে লিগ্যাল এইড আইন-২০০০ এর উপর সাধারণ আলোচনা করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন নাহার।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা পাভেল রায়হান লিগ্যাল এইড কার্য্যক্রমকে সরকারের জনহিতকর কার্য্যক্রম উল্লেখ করে বলেন, আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটিকে এগিয়ে নিতে হবে। অর্থের অভাবে কোন মানুষ যেন বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা চেয়ারম্যান, মেম্বর ও মহিলা মেম্বর আছেন, তারা আপনাদের আশ-পাশের দরিদ্র মানুষদেরকে বিনামূল্যের আইনি সেবা নিতে লিগ্যাল এইড অফিসে পাঠাবেন।

বিশেষ অতিথি হিসাবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে আজ সেটা উল্টে গেছে উল্লেখ করে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার গরীব মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকারকে ফিরিয়ে দিতে ২০০০ সালে লিগ্যাল এইড আইন পাস করেছে এবং এই আইনের ফলে দরিদ্র মানুষ অর্থের অভাবে আর বিচার থেকে বঞ্চিত হবেনা। তিনি আরও বলেন, লিগ্যাল এইড অফিস কেবলমাত্র গরীবের মামলা চালানোর খরচ দেয়না, এই অফিস আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে মামলা না করেও বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেয়, এর ফলে মানুষ বিলম্বিত বিচারের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে।

এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন বলেন, নির্যাতনের শিকার কোন নারী বা শিশু যদি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মেডিকেল সার্ট্রিফিকেটের জন্য আবেদন করেন সেক্ষেত্রে তাকে সার্র্ট্রিফিকেট দিতেই হয়, আর ওই সার্ট্রিফিকেট নিয়ে যদি কেউ মিথ্যা মামলা করে তবে কিছুই করার থাকেনা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, অর্থের অভাবে আইনের অধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষ এই কর্মশালার মাধ্যমে উপকৃত হবে। তারা উপস্থিত চেয়ারম্যান মেম্বরদের মাধ্যমে জানতে পারবে, দরিদ্র হলে সরকারি খরচে মামলা চালানো যায়। তিনি এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে লিগ্যাল এইড এর ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃস্টির দাবী জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর্জা সালাহউদ্দীন বলেন, টাকা পয়সার অভাবে কোন ব্যক্তি যেন আইনের আশ্রয় লাভ করতে  ব্যর্থ না হয় সেজন্য সরকার লিগ্যাল এইড এর ব্যবস্থা করেছেন। তিনি আরও বলেন, একজন দরিদ্র মানুষ লিগ্যাল এইড অফিসে গিয়ে আইনি পরামর্শ নিতে পারেন, সরকারি খরচে মামলা পরিচালনার জন্য আবেদন করতে পারেন, এমনকি মামলা না করেও উভয় পক্ষের মধ্যকার বিরোধ লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে আপোষ-মিমাংসা করে নিতে পারেন- আর এসবের জন্য বাদি বা বিবাদী কোন পক্ষেরই টাকা-পয়সার প্রয়োজন হয়না।

সমগ্র কর্মশালাটি পরিচালনা  করেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারি জজ সালমা আক্তার।