সদরের রাজারবাগান বিলে জলাবদ্ধতা: আমন চাষ ব্যাহত (ভিডিওসহ)


প্রকাশিত : September 17, 2019 ||

আসাদুজ্জামান সরদার: মাত্র কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও পানি সরার পথ না থাকায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকার রাজারবাগান বিলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা আমন ধান রোপন করতে পারছেন না। আমন ধান রোপন মৌসুম প্রায় শেষ হওয়ার পর্যায়ে আসলেও রাজার বাগান, সদুরডাঙ্গী বিল ও রথখোলা বিল পার্শ্ববর্তী এলাকার নিচু জমিতে কৃষকরা ধান রোপন করতে পারেন নি।

সূত্রে জানা যায়, গত আগস্ট মাসের ১৭ তারিখের বিগত ৫ বছরের মধ্যে সবোর্চ্চ বৃষ্টিপাতে তলিয়ে যায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকায়সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার খাল-বিল ও মানুষের চলার পথ। বিগত এক মাস অতিবাহিত হলেও রাজার বাগান বিলের পাথি সূর্যের আলোতে শুকানো ছাড়া। পানি সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেননি পৌরসভা বা উপজেলা প্রশাসক। এতে করে রাজার বাগানের শতাধিক বিঘা ও সুদুরডাঙ্গীর প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করতে পারছে না। অন্যান্য বছর সাধারনত শ্রাবন মাসের মাসের মাঝামাঝি সময়ে কৃষকরা এ সকল জমিতে আমন রোপন শেষ করে ফেলতেন। কিন্তু এ বছরের চিত্র একেবারে ভিন্ন। বৃষ্টির পানি পানিতে বিপুল পরিমান জমি এখনও অনাবাদি রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পৌর সভার রথখোলা বিল, গদাই বিল, ডায়ের বিল, রাজার বাগান বিলের বিপুল পরিমান জমি এখনও পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

রাজারবাগান এলাকার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, আমার প্রায় ৯বিঘা জমিতে ধান চাষ করি। জমিতে পানি থাকার কারনে এখন পর্যন্ত তার অর্ধেকেরও বেশি জমিতে ধান রোপন করতে পারেননি। আগস্টের ১৭তারিখে কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে এই বিল তলিয়ে যায়। রৌদ্রে কিছুটা পানি শুকানো ছাড়া পানি সরার কোন পথ নেই। রৌদ্রের কিছু পানি টানলেও মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে সে কারণে আবারও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একই এলাকার কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, আমি ৫বিঘা জমিতে ধান চাষ করি। জমিতে গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর বৃষ্টি অনেক বেশি। এখনও বুক সমান পানি পানি সরানোর কোন পথ নেই এ কারনে পানি জমি থেকে নামতে পারছেনা। আগে বৃষ্টি হলে সদুরডাঙ্গী বিল হয়ে-ডায়ের বিল দিয়ে পানি বেতনা নদীতে পড়তো কিন্তু ঘের করে নেট-পাটা দিয়ে সকল পানি সরানোর পথ বন্ধ করে দিয়েছে। আমন ধান রোপনের সময় শেষ হতে চলেছে পানি কবে সরবে কে জানে। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তবে রাজার বাগান এবং সুদুরডাঙ্গীর প্রায় ৩শ’ বিঘা জমিতে ধান হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দ্রুত হস্তপেক্ষ কামনা করছি।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিবাশীষ চৌধুরী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নোট-পাটা অপসারণে আমাদের অভিযান চলমান আছে। রাজার বাগান বিলের জন্য নেট-পাটা অপসারণ করে দ্রুত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।