জেলায় প্রস্তুত ৫৭৮টি পূজা মন্ডপ


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে ৫৭৮টি মন্ডপে চলছে দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে শুভ মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গাপূজার ডামাডোল বাঁজবে এবং ৪ অক্টোবর মহা ষষ্ঠী’র মধ্যে দিয়ে শুরু হবে এই শারদীয় দুর্গোৎসব।

জেলার অধিকাংশ মন্দিরে চলছে দুর্গাপূজার শেষ প্রস্তুতি। শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছে দুর্গাপ্রতিমার সৌন্দর্য বর্ধনে। দুর্গাপূজার বাকি মাত্র ক’দিন। তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে মন্দিরগুলোতে দিনরাত মিলিয়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সদর উপজেলাসহ মন্দিরগুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরীর ধুম। সদর উপজেলার রসুলপুর, আলিপুর, ভোমরা, কাথন্দা, ছয়ঘোরিয়া, সোনাবাড়িয়া, ঝিটকি, ধুলিহর, নলতা, দেবহাটা, বাকা, বুধহাটাসহ সাতটি উপজেলার অধিকাংশ মন্দিরগুলোতে ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি আছে রং তুলির আঁচড় লাগানোর কাজ।

কাটিয়া নারকেলতলা মোড় সার্বজনিন পূজা মন্দিরের সভাপতি গৌর দত্ত বলেন, আমাদের পূজা মন্ডপে প্রতীমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। দুর্গা পূজায় সকল ধর্মের অনুসারিদের দেখতে আসার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো মহাধুমধামে আমরা আমাদের দুর্গাপূজা উদযাপন করবো।

দুর্গা প্রতিমা কারিগর (মৃৎ শিল্প) সুজয় পাল বলেন, বংশ পরম্পরায় এ পেশায় জড়িত। বাপ দাদাদের কাছেই শেখেন কাদামাটি আর খড় দিয়ে কিভাবে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে সদরের ঝিটকি এলাকার শিল্পী অজয় পাল বলেন, বছরের সব সময় কাজ থাকে না তাই অধিকাংশ সময় বেকার থাকতে হয়। কিন্তু এখন দুর্গাপূজা উপলক্ষে কাজের চাপ বেশি। তাই রাত দিন পরিশ্রম করে মনের মাধুরী মিশিয়ে মা দুর্গার প্রতিমা তৈরি করছি। আর কয়েকদিন পর প্রতিমা রং করা হবে। তবে কাঠ, সুতা, খড়, রং, কাপড় ও মুকুট দিয়ে এক সেট তৈরি করতে সময় লাগে ৮-১০ দিন।

সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতি শেষের দিকে। বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে পূজা উদযাপনের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় জেলা মন্দির ও পূজা কমিটির সাথে। তবে এ বছর সাতক্ষীরায় সর্বমোট ৯৩টি মন্দিরকে ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩৫টি মন্দিরকে অধিক ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করেছি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে যে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করলে কোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটবে না।

এবার সাতক্ষীরায় সাতটি উপজেলার মধ্যে সদরে ১০৬ টি, কলারোয়ায় ৪৩ টি, তালায় ১৮৬ টি, কালিগঞ্জে ৫১ টি, শ্যামনগরে ৬৬ টি, আশাশুনিতে ১০৫টি এবং দেবহাটায় ২১টি পূজা মন্ডপ তৈরী করা হয়েছে।

প্রতিমা তৈরির কারিগররা জানান, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার খানিকটা আগেভাগেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে মন্দিরে মন্দিরে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। এরপরে এগুলোর ফিনিশিং করা হবে। ইতোমধ্যেই অনেক মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। সেগুলো এখন শুকানোর কাজ চলছে। এরপরে রং করাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করা হবে। এছাড়া, গতবারের তুলনায় প্রতিমার আকার, ডিজাইনসহ বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আশা করছি, পঞ্চমীর আগেই পূজার জন্য সব প্রতিমা প্রস্তুত করতে পারবো। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমরা মন্ডপগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেছি। আর সে অনুযায়ী আমরা তিনটি স্তরের নিরাপত্তা দেব। যেন কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সেজন্য আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি। সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ যাতে নির্বিগ্নে তাদের দুর্গোৎসব পালন করতে পারে সে জন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এছাড়া দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় থাকবে। যাতে পূর্বের ন্যায় এবারো কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।