পাটকেলঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাশ রুমে পানি


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ ||

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উপজেলার শ্রেষ্ঠ মডেল বিদ্যাপিঠ হওয়া সত্ত্বেও নিদারুণ কষ্টের  মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পাঠদান অব্যাহত রেখেছে। বৃষ্টির পানিতে প্রতিষ্ঠানের অফিসসহ ক্লাশরুমগুলো পানিতে থৈ থৈ করছে। বর্তমানে ক্লাসরুমগুলো পানিতে নিমজ্জিত থাকায় বারান্দায় চলছে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রচন্ড রোদে কোমলমতি শিশুরা বারান্দায় অতি কষ্টে তাদের পাঠদান চালাচ্ছে। পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭২ সালে মিনা স্কুল নামে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০১৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়। তৎপূর্বে ১৯৯৫ সালে এই স্কুলে তিন রুম বিশিষ্ট একটি এক তলা ভবন নির্মান করে কোন রকমে পাঠদান চালিয়ে আসছিল। এ অবস্থায় এ মাসের সামান্য বর্ষণে উক্ত বিদ্যালয়ের দুটি ক্লাস রুম ও একটি অফিস রুম পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় শিক্ষকবৃন্দ খুবই কষ্টে শিক্ষার্থীদের বারান্দায় পাঠদান দিচ্ছে। বিদ্যালয়ের চারপাশ ঘুরে দেখা যায় বিদ্যালয়ের কর্নারে শৌচাগার এর পাশে বেঞ্চে রৌদ্রের ভিতর শিক্ষকগণ শিশুদের ক্লাস নিচ্ছেন। তালা উপজেলায় এ স্কুলটি রেজাল্ট এর দিক দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী ও ৫ জন শিক্ষক আছে। শিক্ষার্থীর আনুপাতিক হারে এ বিদ্যালয়ে আরও ৩টি শিক্ষকের ও ঘাটতি আছে। প্রধান শিক্ষিকা বন্ধনা চন্দ জানান, গত দেড় মাস ধরে পানির মধ্যে ক্লাশ চালানোর ফলে অনেক শিক্ষার্থীরা জ্বরসহ নানান রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অনেকেই স্কুলে আসা ছেড়ে দিয়েছে। এই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী অহনা, কনিষ্ঠা সাহা ও ছাত্র সাকিবুল হাসান তাদের  সমস্যার কথা সম্পূর্ণ ইংরেজিতে ব্যক্ত করে।  যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান এত উন্নত সে বিদ্যালয়ের দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একান্ত নজরদারি রাখবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. অলিউল ইসলাম বলেন, এই স্কুলের সকল শিক্ষকরা শিশুদের পাঠদান দিতে খুবই আন্তরিক স্বেচ্ছাশ্রমে স্কুলে সান্ধ্যকালীন পাঠদানের ব্যবস্থা চালু রেখেছেন শিক্ষকরা। তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালে ৫২ জন পরীক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে  ১৫ জন এ প্লাস, ৯ জন ট্যালেন্টপুলে ও ১ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে আমাদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও হয়তো বা ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা ব্যর্থ হতে পারে। তাই বিদ্যালয়টিতে দ্রুত বহুতল ভবন নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের এ আশু সমস্যা সমাধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দাবি জানান।