ক্যানসারে আক্রান্ত কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর, কেমোথেরাপি শুরু


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ ||

অনলাইন ডেস্ক: ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন কিংবদন্তি প্লেব্যাক শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। তার শরীরের এড্রেনাল গ্লান্ড-এ একটি টিউমার হয়, সেখান থেকেই ক্যানসার ভাইরাস বাসা বাঁধে এই কণ্ঠশিল্পীর শরীরে।

৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চেকআপের জন্য যান এন্ড্রু কিশোর। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ও কণ্ঠশিল্পী জাহাঙ্গীর সাঈদ। কথা ছিল, চিকিৎসক দেখিয়ে তিন-চার দিনের মধ্যে ফিরে আসবেন ঢাকায়। কিন্তু আপাতত সেটি আর হচ্ছে না। কারণ, ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য এন্ড্রু কিশোরকে দিতে হচ্ছে ১৮টি কেমোথেরাপি।
জাহাঙ্গীর সাঈদ জানান, ‘চিকিৎসক জানিয়েছে সপ্তাহে একটি করে কেমো দিতে হবে। এর মধ্যে প্রথমটি দেওয়া হয়েছে। বাকি আছে আরও ১৭টি। সব মিলিয়ে টানা তিন থেকে সাড়ে তিন মাস সিঙ্গাপুরে থাকতে হচ্ছে দাদাকে। আমি ঢাকায় ফিরে এসেছি, তবে শিগিগিরই আবার যাবো।’
কণ্ঠশিল্পী জাহাঙ্গীর সাঈদ জানিয়েছেন, এন্ড্রু কিশোরের কিডনি ও হরমোনজনিত সমস্যা ছিল। এর কারণে তার শরীরের ওজন কমাসহ নানা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তার শরীরের এড্রেনাল গ্লান্ড একটু বড় হয়ে গেছে। সিঙ্গাপুর যাওয়ার পর জানা গেলো এড্রেনালে টিউমার হয়েছে। এই টিউমার থেকেই মূল জটিলতা সৃষ্টি।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এন্ড্রু কিশোরকে আমন্ত্রণ জানান। এ সময় তিনি এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক সমস্যার খোঁজ নেন এবং তাকে ১০ লাখ টাকার চেক দেন।
সেই চেকের সূত্র ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে নন্দিত এই শিল্পীর বিরুদ্ধে। বেশিরভাগ মানুষই ধরে নিয়েছেন, সুস্থ ও সামর্থ্যবান এন্ড্রু কিশোর কেন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সহায়তা চেক নেবেন!
মূলত এমন সমালোচনার কোনও প্রতিউত্তর না করেই ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর যান এন্ড্রু কিশোর। দ্রুত ঢাকায় ফেরার কথা থাকলেও সেটি আপাতত গড়ালো তিন মাসে।
এন্ড্রু কিশোর বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বাধিক সিনেমায় গান গাওয়া একমাত্র শিল্পী। চলচ্চিত্রে তার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় গান আর কারও নেই। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যে খানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘পদ্মপাতার পানি’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘আমি চিরকাল প্রেমের কাঙাল’ প্রভৃতি।
বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অবদান রাখার জন্য তিনি কয়েকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।