শারদীয় দুর্গোৎসব: জেলায় প্রস্তুত হচ্ছে ৫৮১টি পূজাম-প


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামি ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা প্রচারিত হবে মর্ত্যলোকে। তাই আসন্ন এ দুর্গাপুজাকে ঘিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাতক্ষীরার মৃৎ শিল্পীরা। প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ শেষ হলেই শুরু হবে রঙ তুলির কাজ। ফুটিয়ে তোলা হবে প্রতিমার পুরো অবয়ব। ফুটে উঠবে নাক-কান-চোখ-মুখ। চলে আসবে যার যার অবস্থান। সবমিলে তাদের এখন দম ফেলার ফুরসৎ নেই।
প্রতিমা শিল্পী সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারীকাটি গ্রামের ষষ্ঠী চরণ পাল জানান, এবার মা দুর্গা আসছেন ঘোড়ায় চড়ে। যাবেনও ঘোড়ায় চড়ে। আগামী ৪ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় জেলার সাত উপজেলার মৃৎ শিল্পীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। দু’একদিনের মধ্যে মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর পরই প্রতিমার সৌন্দর্য আর চাকচিক্য বাড়ানোর কর্মযজ্ঞে নেমে পড়বেন তারা।
প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত শিল্পীদের মধ্যে আশাশুনির কাদাকাটির দীলিপ গাইন, দেবহাটার টিকেট গ্রামের সুবোল পাল, কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরের হরিদাস রায়সহ কয়েকজন জানান, প্রতিমা তৈরিতে এঁটেল ও বেলে মাটি ছাড়াও বাঁশ-খড়, দড়ি, লোহা, ধানের কুঁড়া, পাট, কাঠ, রঙ, বিভিন্ন রঙের সিট ও শাড়ি-কাপড়ের প্রয়োজন হয়। কারিগরি হাতের ছোঁয়ায় এসব দিয়েই এক সময় গড়ে ওঠে একেকটি প্রতিমা। বতর্মানে ত দের বায়না নেওয়া প্রতিটি প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। কোন কোন ম-পে শুরু হয়েছে রঙয়ের কাজ। ফলে কেউ ছুটছেন দর্জি পাড়ায়। মা দুর্গার লাল টুকটুকে বেনারসি শাড়ির জরির কাজ, গণেশের ধুতিতে নকশাদার পাড় বসানো ও মহিষাসুরের জমকালো পোশাক তৈরির কাজ বাকি। আবার অনেকেই ছুটছেন কামার পাড়ায়। বানিয়ে নিচ্ছেন দেবীর হাতের চক্র, গদা, তীর-ধনুক ও ত্রিশূল।
প্রতিমা শিল্পীরা জানান,এবারের দুর্গোৎসবে একজন শিল্পী ও তার পাঁচজন সহযোগিকে নিয়ে প্রায় ১৫টির মতো প্রতিমা তৈরি করছেন। রকম ভেদে এসব প্রতিমা তৈরিতে ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। একেকটি প্রতিমা তৈরিতে প্রায় সপ্তাহ তিনেক সময় লাগে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে সেটি সম্ভব হয় না।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বানাথ ঘোষ জানান, আগামি ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দুধর্মালম্বীদের পাঁচদিনব্যাপি শারদীয় দুর্গোসব। ১১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এ পূজার সমাপ্তি ঘটবে। এবার জেলায় ৫৮১টি ম-পে পুজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সকল পুজাম-পে রঙয়ের কার্যক্রম চলছে। আগামি কয়েকদিনের মধ্যে ভাস্কররা রঙ ও তুলি দিয়ে প্রতিমার জীবন দান করবেন। এবার পুরাতন সাতক্ষীরার সুভাষ ঘোষের পারিবারিক পূজায় দুর্র্গা মায়ের মাথা কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি আশা করেন প্রশাসন যেভাবে তৎপর রয়েছে তাতে ভালভাবেই তাদের পূজা শেষ হবে। তবে শহর ও শহরতলীয় কয়েকটি জায়গায় জলাবদ্ধাতা থাকায় সমস্যা তৈরি হতে পারে দর্শণার্থীদের জন্য।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইলতুৎ মিশ জানান, আসন্ন দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘেœ কাটে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।