মুন্সীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে গৃহ নির্মাণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯ ||

মুন্সিগঞ্জ (শ্যমনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ৬২নং সেন্ট্রাল কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে গৃহনির্মাণের অর্থ আত্মসাতসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসকসহ কয়েকটি দপ্তরে সংশ্লি¬ষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকবৃন্দ লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রধান শিক্ষিকা ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকবৃন্দের কোন তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ের সরকারি বাজেটর অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি টাকার কোন হিসাব স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটিকে না দিয়ে উপর মহলকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আত্মসাৎকৃত খাতসমূহ অস্থায়ী গৃহনির্মাণের, স্লি¬পের বরাদ্দ, জরুরী শিক্ষা খাতের বরাদ্দ, জাতীয় শোক দিবসের টাকা খরচ না করা। শিশুদের উপর শারীরিক নির্যাতন, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির টাকা খরচ না করা, বিদ্যালয়ের পুকুর বরাদ্দ দিয়ে টাকা খরচ না করা, বিস্কুটের কার্টুন বিক্রিয়ের টাকা জমা না দেওয়া, সরকারি বইপত্র ও খাতা বিক্রি করা, ছাত্র-ছাত্রীদের অতিরিক্ত ফিস ও প্রশ্ন ফি, বিদ্যালয়ের বৃক্ষ কেটে আত্মসাৎ সর্বোপরি আদায় করা, বিদ্যালয়ের জমি বেদখলের সহায়তা করা, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, বিদ্যালয়ের বৃক্ষ কেটে আত্মসাৎ সর্বোপরি অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া, এমন অভিযোগও রয়েছে প্রধান শিক্ষক কামরুননাহারের বিরুদ্ধে। এ সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি, শিক্ষক প্রতিনিধি, ভূমিদাতা, সদস্য ও ইউপি সদস্যসহ ৯৩জন অভিভাবকদের স্বাক্ষরকৃত অভিযোগপত্র জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহি অফিসারের নিকট জমা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার বলেন, আমি টিও স্যারের সাথে যোগাযোগ করে গৃহনির্মাণের টাকা বাজেট নিয়ে আসা হয়েছে। বাজেটের অর্ধেকটা টিও স্যারকে দিয়েছি। শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকরাম হোসেনের কাছে বাজেটের অর্ধেক টাকার নেওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি ভ্যাট ছাড়া আর কোন টাকা নেয়া হয়নি অভিযোগটা সঠিক নয়। অভিযোগের বিষয়টি শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানকে জানানো হলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন বিষয় যদি হয়ে থাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যালয়ের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান (বকুল) অভিযোগে বলেন, ম্যানেজিং কমিটিকে তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছা মত কাজ করে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহারের এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় অভিভাবকবৃন্দ।