চার জন সহকারীর নিয়ন্ত্রণে কলারোয়া পরিবার পরিকল্পনা অফিস!


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন যাবত অনিয়মিত কর্মস্থলে যাওয়া ও সরকারের জন্ম বিরতিকরণ ইনজেকশনসহ বিভিন্ন বরাদ্দকৃত ঔষধ বাজারে বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে কলারোয়া উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত চার জন পরিবার কল্যাণ সহকারীর বিরুদ্ধে। এমনকি প্রভাবশালী এই প্রভাবশালী চার পরিবার কল্যাণ সহকারী সিন্ডিকেটের কারনে জিম্মি হয়ে পড়েছে কলারোয়া উপজেলা ও ইউনিয়ন প. প. বিভাগের কর্মকর্তারা। এরফলে বিপাকে পড়েছে উপজেলার সংশ্লিষ্ঠ এলাকার সাধারণ মানুষ।

উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি (নাম প্রকাশে না করার শর্তে) জানান, কলারোয়া উপজেলায় স্বাস্থ্য খাতের অনেক ক্ষেত্রে সাফল্য থাকলেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন ও জন্ম বিরতিকরণ সেবা কার্যক্রম থেকে ব্যাপক ভাবে পিিেছয়ে পড়ছে। এর কারন হিসেবে তারা উপজেলায় কর্মরত কয়েকজন পরিবার কল্যাণ সহকারীর অনিয়ম ও দুর্নীতিকে দায়ী করেন। তারা আরো জানান, সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মিদের প্রচেষ্টায় সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলায় মাতৃমৃত্যু ও শিশু মিৃত্যুর হার কমিয়ে আনা এবং ইপিআই সেবার অগ্রগতি হলেও কয়েকজন দুর্নিতীবাজ প্রভাশশালী পরিবার কল্যান সহকারীর কারনে তা কিছুটা ম্লান করে দিচ্ছে। তারা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন ও জন্ম বিরতিকরণ সেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি ঔষধ বাজারে বিক্রি করা ও দুর্নিতীবাজ মাঠকর্মিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার হস্থক্ষেপ কামনা করেন।

কলারোয়া পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কয়েকজন মাঠকর্মি (পরিবার কল্যান সহকারী) নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের চারজন সহকর্মি স্থানীয়ভাবে প্রভাভশালী হওয়ায় নিয়মিত কর্মস্থলে যায় না। এমনকি স্যারেরা কিছু বললে উল্টো স্যারদের বদলির হুমকি দেয়। যার কারনে কোন স্যার তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন না। তারা আরো জানান, গত এক মাস আগে উপজেলা সহকারি পরিবার পরিকল্পনা স্যার ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং করায় সকলকে (অফিস সময়) সকাল ৯টা থেকে বেলা সাতে ৩টা পর্যন্ত কর্মস্থলে থাকতে হয়। যার কারণে তাদের চারসহকর্মি দেয়াড়া ইউনিয়নের ৩/খ ইউ্িনটে কর্মরত রাফেজা খাতুন, একই ইউনিয়ন থেকে সম্প্রতি বদলীহওয়া কয়লা ইউনিয়নের ১নং ইউনিটে কর্মরত জেসমিন সুলতানা, যুগিখালী ইউনিয়নের ১নং ইউনিটের হামিদা খাতুন ও লাঙ্গলজাড়া ইউনিয়নের ২/খ ইউনিটে কর্মরত রিতা রানী সাহা সিন্ডিকেট তৈরী করে উপ উপজেলা সহকারি পরিবার পরিকল্পনা স্যারের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে বিভ্রন্কির তথ্য দিয়ে হয়রানী করছে বলে তারা জানান।

এদিকে অভিযুক্তদের কর্মএলাকা উপজেলার মুরারীকাটি, লাঙ্গলঝাড়া, যুগিখালী ও দেয়াড়া ইউনিয়নে যেয়ে জানতে চাইলে অধিকাংশ মহিলারা উক্ত পরিবার কল্যান সহকারীদের চেনেন না বলে জানিয়ে বলেন,  উক্ত এলাকায় তারা তদের দেখেনি।

এ বিষয়ে জানতে কলারোয়া উপজেলা সহকারি পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (পদায়নকৃত) পিযুষ কুমার ঘোষ জানান, বিষয়টি আমার জানানেই। তবে, সহকর্মিদের নিকট থেকে শুনেছি। তিনি বলেন, উপজেলায় নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। যাতে সাধারণ মানুষ সরকারের সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চার পরিবার কল্যান সহকারীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে এরমধ্যে রিতা রানী সাহা বিষয়টি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা দাবি করেন।

কলারোয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়ীত্বে) মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, ধরনের ঘটনা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।