কলারোয়ায় যত্রতত্র লাইসেন্সবিহীন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় লাইসেন্সবিহীন এলপি গ্যাসের রমরমা ব্যবসা তুঙ্গে। উপজেলা সদরসহ গ্রাম্যঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে বহু দোকানে যত্রতত্র এলপি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার বিক্রয় হচ্ছে হরহামেশা। অনিয়ন্ত্রিত, ঝুকিপূর্ণ ও বিপদজনক এই বিষয়টি কোনভাবেই মানছেন না দোকানদারা। দোকানে ভিন্ন মালামালের ব্যবসার সাথে গ্যাস সিলিন্ডার রেখে দেদারছে তা বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম থাকলেও এখানে অনিয়মের যেনো কোন শেষ নেই।

জানা গেছে, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য বিস্ফোরক লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, পণ্য মজুদের জন্য গোডাউন লে আউট নক্সা থাকা বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হচ্ছে না কোথাও। বিষ্ফোরক লাইসেন্স অনুযায়ী একজন ডিলারের ৪০-৬০ বোতল গ্যাস মজুদ রাখার অনুমতি থাকলেও কৌশলে বিভিন্ন স্থানে শতশত গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার বোতল মজুদ রাখছেন তারা। আবার অনুমোদিত একজন ডিলারের সুনির্দিষ্ট একটি কোম্পানির সিলিন্ডার রাখার নিয়ম থাকলেও তারা বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করেছেন।

সরেজমিন জানা গেছে, কলারোয়া উপজেলা সদর ও ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারগুলোতে চলছে লাইসেন্স বিহীন এলপি গ্যাসের ঝুকিপূর্ণ  ব্যবসা। কলারোয়া বাজারে যমুনা, টোটাল, ওরিয়েন্ট, নাভানা, প্রোমিকা ও প্লাস্টিক বোতলসহ বিভিন্ন কোম্পানির এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য ডিলার আছেন মাত্র ৫জন। ওই ৫জনের মধ্যে ২/১ জনের বৈধ কাগজপত্র আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাকীদের কাগজপত্র মেয়াদউতীর্ন কিংবা ভূয়া। আবার কেউ কেউ ফায়ার লাইসেন্সের ভুয়া কাগজ দেখিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কারোর আবার বিস্ফোরক লাইসেন্স নাই, নামমাত্র ফায়ার লাইসেন্স দিয়ে ডিলারশিপ নিয়েছেন।

এছাড়াও উপজেলাব্যাপী কয়েক শতাধিক দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে যাদের এটা বিক্রি করার মতো কোন-ই লাইসেন্স বা কাগজপত্র নাই। বৈধ বা অবৈধ সিলিন্ডারের দোকান, গোডাউনে (ফায়ার ফাইটিং) অগ্নি নির্বাপক উপকরণ সংরক্ষণ থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগ স্থানেই সেটা দেখা যায়নি। আবার এগুলো ব্যবহারে অভিজ্ঞতা আছে এমন কোন ব্যক্তিও সেখানে নেই। সবমিলিয়ে অনিয়মের যেন শেষ নেই গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের।

উপজেলা সদরের পাশাপাশি কাজিরহাট, গয়ড়া, চান্দুড়িয়া, সোনাবাড়িয়া, বুঝতলা, হিজলদী, লাঙ্গলঝাড়া, বালিয়াডাঙ্গা, কাকডাঙ্গা, বোয়ালিয়া, সিংগা, ব্রজবাকসা, কুশোডাঙ্গা, খোরদো, সরসকাটি, ধানদিয়া, জালালাবাদ, কয়লা, রায়টা, দেয়াড়া, যুগিবাড়ি, হরিনা গোয়ালচাতরসহ বিভিন্ন বাজার গুলোতে লাইসেন্স বিহীন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে। এরবাইরেও বিভিন্ন এলাকার মোড়ের অনেক দোকানেও কমবেশি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির খবর পাওয়া গিয়েছে। এসব দোকানগুলোতে গ্যাস সিলিন্ডার রাখার মতো নিরাপদ জায়গা নেই। দোকানের নিত্য প্রয়োজনীয় মালামালের সাথে গাদাগাদি করে এই ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার রাখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কযেকজন ক্রেতা জানান, ‘বাজারদর ছাড়া সিলিন্ডার প্রতি ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম নিচ্ছেন দোকানদাররা। হাতের নাগালে পাওয়াতে আমরাও সেটা কিনতে বাধ্য হচ্ছি।’

ইদানিং উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন বাজারেও দেখা গেছে, পার্শ্ববর্তী জেলা শহর ও খুলনা থেকে ট্রাক ও মিনিট্রাকযোগে গ্যাস সিলিন্ডার পৌছে দেয়া হয় প্রায় প্রায় শতাধিক দোকানে। দোকানদাররা সেগুলো স্টোরে মজুদ করে রাখেন। আর তাদের দোকানের সামনে ২/৪টি সিলিন্ডার রেখে বিক্রি করেন। আর গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকানেই মজুদ রেখে সেটা বিক্রি করে থাকেন। এতে একদিকে যেমন থাকছে অনাকাঙ্খিত বিপদের ঝুঁকি অপরদিকে সরকারকে ভ্যাট, ট্যাক্স, লাইসেন্স ও বছর বছর নবায়ন বাবদ আর্থিক ক্ষতিতে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে দোকানে দোকানে হরহামেশা গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা। তারা জানিয়েছেন, ‘সরকারের সকল নিয়মকানুন মেনে ৩০/৩৫ হাজার টাকা দিয়ে লাইসেন্স করেও আমরা নিরুপায়।’ বৈধ সকল নিয়মকানুন মেনেও অবৈধদের আধিক্যতায় কিছু করতে পারছেন না তিনি।’

লাইসেন্স বিহীন গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসার বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় বিষ্ফোরক লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো. জাফর উল্যাহ জানান, ‘জেলা, উপজেলা বা গ্রামাঞ্চল বাজারে কোন ব্যবসায়ী যদি ডিলারশিপ না নিয়ে দোকানে অন্যান্য দ্রব্যাদির সাথে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে সেক্ষেত্রে ওই ব্যবসায়ী সর্বোচ্চ ৫/৬টি সিলিন্ডার দোকানে নিরাপদ জায়গায় রেখে বিক্রি করতে পারবে। এর বেশী সিলিন্ডার মজুদ রেখে বিক্রি করতে হলে তাকে বৈধ লাইসেন্স করে তারপরে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা করতে হবে। এর ব্যাত্যয় হলে বিভাগীয় বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণ অফিস এবং স্থানীয় থানা কর্তৃপক্ষ ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে।’

তিনি আরো জানান, ‘এছাড়াও লাইসেন্স বিহীন ব্যবসায়ীর দোকানে গ্যাস দ্বারা কোন দুর্ঘটনা হলে ওই ব্যবসায়ী বা দোকান মালিক কোনভাবেই সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ পাবেন না।’

এ ব্যাপারে শীঘ্রই নজরদারি বৃদ্ধি ও অবৈধদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হবে বলে তিনি জানান।