কর্দমাক্ত মাঠে বাংলাদেশের বড় জয়


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯ ||

অনলাইন ডেস্ক: দুপুর থেকে বৃষ্টি। সময়ের সঙ্গে সেটা বাড়ল। এরপর কখনো বাড়ছে, কখনা কমছে। এভাবেই চলল সন্ধ্যা পর্যন্ত। এমন শরতের এমন ছান্দসিক বর্ষণ রোমান্টিকদের দারুণ কিছু হলেও ফুটবলপ্রেমীদের মনে শঙ্কা জাগিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আজ বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচ হবে তো?

বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাংলাদেশের ফুটবলের পার সমর্থকরা ঠিকই মাঠে এসেছেন। অবস্থান নিয়েছেন উত্তর ও দক্ষিণ পাশের গ্যালারিতে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সংখ্যাটা বাড়ল। তাদের শঙ্কা দূর করে ৭টা বাজার আগেই বেজে উঠল ফিফার থিম সং। ফিফা, বাংলাদেশ ও ভুটানের পতাকা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করল চার-চার-চার বারোজন। তাদের পেছন পেছন ম্যাচ অফিসিয়ালস, বাংলাদেশ ও ভুটানের খেলায়াড়রা।

মাঠে তখও ছোপ ছোপ পানি। কোথাও বেশি, কোথাও কম। কিন্তু পুরো মাঠই কর্দমাক্ত। তার মধ্যেই দুই দলের জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে শুরু হল ময়দানি লড়াই। অবশ্য মাঠে দর্শক ও টিভির দর্শকদের হতাশ করেনি জিমি ডে’র শিষ্যরা। ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের প্রথমটিতে ভুটানকে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৪-১ গোলে।

অবশ্য প্রথম ১০ মিনিট বৃষ্টির পানির কারণে স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেনি কোনো দল। বলের মুভেমেন্টও আটকে যাচ্ছিল পানিতে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক খেলায় ফেরে উভয় দল। অবশ্য শুরু থেকেই ভুটানর উপর চাপ প্রয়োগ করে খেলে জামাল ভুঁইয়া-সাদ উদ্দিনরা। তার ফলও পেয়ে। প্রথমার্ধই দুই-দুইবার ভুটানের জালে বল জড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধে আরো দুইবার। অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে ভুটানও একটি গোল শোধ দেয়।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে রোববার ম্যাচের ৭ মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। এ সময় বিপলু আহমেদ পেনাল্টি বক্সের মধ্য বল পেয়েও যথাসময়ে শট নিতে পারেননি। ১১ মিনিটর মাথায় নাবীব নেওয়াজ জীবন গোল করে এগিয়ে নেন বাংলাদেশকে। তাকে গোলে সহায়তা করেন সাদ উদ্দিন। ৩২ মিনিটে জামাল ভুঁইয়ার ফ্রি কিকে ইয়াসিন খানের দুর্দান্ত হেড, ডানদিকে ঝাপিয়ে পড়ে রুখে দেন ভুটানের গোলরক্ষক জামফেল।

৩৯ মিনিটে জীবন তার দ্বিতীয় গোল পেয়ে যান। তাতে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। এ সময় ডানদিক থেকে ইব্রাহিমের ক্রসে লাফিয়ে উঠে পা লাগিয়ে বল জালে পাঠান সাদ উদ্দিন। তাতে ২-০ গোলের লিড নিয়েই প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে জিমি ডের শিষ্যরা।
বিরতির পর ম্যাচের ৫১ মিনিটে একটি গোল শোধ দেয় ভুটান। এ সময় বামদিকে ফ্রি কিক পায় ভুটান। ফ্রি কিক থেকে উড়ে আসা বল ডি বক্সের মধ্য থেকে ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। সেখানে বল পেয়ে যান অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দর্জি। তিনি বল জালে জড়াতে ভুল করেননি।

৬২ ও ৭০ মিনিটে গোলের দারুণ দুইটি সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু রবিউল হাসান ও বিপলু আহমেদ গোল মিস করেন। ৭৪ মিনিটে ব্যবধান ৩-১ করে বাংলাদেশ। এ সময় সোহেল রানার নেওয়া শট ভুটানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় তেনজিন দর্জির গায়ে লেগে সামনে চলে যায়। সেখানে বল পেয়ে যান বিপুল আহমেদ। তিনি বেশ সময় নিয়ে শট নেন। সবাইকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে আশ্রয় নেয়।

৮১ মিনিটে রবিউল হাসান গোল করে ব্যবধান করেন ৪-১। এ সময় ডি বক্সের সামনে তাকে বল বাড়িয়ে দেন বিপলু আহমেদ। রবিউলকে ভুটানের রক্ষণভাগের একজন খেলোয়াড় টেনে ধরেন। মাটিতে পরতে পরতে শট নেন বিপলু। তার নেওয়া শট ভুটানের গোলরক্ষক জামফেল শুয়ে পরে চেষ্টা করেও রুখতে পারেননি। এরপর অবশ্য আরো কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল জামাল-জীবনরা। কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। তাতে ৪-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে বৃহস্পতিবার ভুটানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচটিও বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে। যা সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ও বাংলা টিভি।