পাউবোর কর্মশালায় তথ্য: সাতক্ষীরায় ১৬ বছর পর ১৯ বিলে সোনালী ধান


প্রকাশিত : অক্টোবর ১, ২০১৯ ||

অনলাইন ডেস্ক: জলাবদ্ধতার কারণে টানা ১৬ বছর পরিত্যক্ত হয়ে পড়া সাতক্ষীরার ১৯ টি ছোট বড় বিলের সাড়ে চার হাজার একর জমিতে এবার ধান চাষ শুরু হয়েছে। এসব এলাকার চোখ জুড়ানো সবুজ সোনালী ফসল কৃষকের জীবনে এনে দিয়েছে নতুন দিন।
প্রতিবছরই এর আওতা বেড়ে চলায় কৃষি ফসলে এক ধরনের নতুন বিপ্লব এসেছে। একই সাথে এ এলাকার ১৩টি খালের ২৯ কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করা হয়েছে। তিনটি নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ করায় সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন সোনালী ধানে ভরে উঠছে।
মঙ্গলবার সাতক্ষীরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লু গোল্ড প্রকল্পের আওতায় পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষকরা এই সুযোগ লাভ করছেন বলে এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। এতে আরও বলা হয় আরও কিছু খাল খনন এবং পলি অপসারণ করে কৃষি ব্যবস্থাকে বেগবান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা দলগতভাবে অংশ নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতার বাস্তবায়ন করছেন।
কর্মশালায় বলা হয় সাতক্ষীরা পোল্ডার ২ এর আওতায় ৬৩ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধের মধ্যে ৩৬ কিলোমিটার সংস্কার করায় কৃষি জমি ও জনগনের ব্যক্তিগত সম্পদসহ সব স্থাপনাকে জলাবদ্ধতা ও বন্যার পানি থেকে রক্ষা করা গেছে। এরই মধ্যে নদী ও খাল থেকে অবৈধ নেটপাটা অপসারণ, আগে দেওয়া সব ইজারা বাতিল, নতুন করে কোনো ইজারা না দেওয়াসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচি এগিয়ে চলেছে। জেলা প্রশাসন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এতে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বলে কর্মশালায় উল্লেখ করা হয়।
কর্মশালায় বলা হয় জনগনকে কৃষি, গবাদি পশু পালন, হাঁসমুরগি পালন, প্রাণি সম্পদ সংরক্ষন, কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় উদ্যোগী করে তোলা হয়েছে। এরই মধ্যে বাড়ির পাশে ঘেরা বেড়ায় লাগানো বাসক গাছের পাতা ওষুধ কোম্পানির কাছে বিক্রি করে কেবলমাত্র ফিংড়ি ইউনিয়নের জনগন চলতি বছর প্রায় সাত লাখ টাকা আয় করেছেন। এ এলাকার স্লুইসগেটগুলি সংস্কার করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বহুলাংশে নিশ্চিত করা গেছে। অধিক পানি এলাকায় ভাসমান বস্তায় সবজি চাষ করছেন কৃষকরা।
সাতক্ষীরা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন জেলার জলাবদ্ধতা দুরীকরণে সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরায় ‘ক্লিন সাতক্ষীরা গ্রীন সাতক্ষীরা’ নামের এক সামাজিক আন্দোলন বেগবান করা হয়েছে। নদী ও খাল খননে সরকারের আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ সায়ের খাল খনন কাজের লক্ষ্যে দুই তীরের অবৈধ ইজারা বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরা বিভাগ ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য মুনসুর আহমেদ, ব্লু গোল্ড টিম লীডার গাই জোনস, পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক হোসাইন শওকত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. বদিউজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মো. আবু সাঈদ, উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী, কৃষি সম্পসারণ উপপরিচালক হুমায়ুন কবির, ইউপি চেয়ারম্যান শামসুর রহমান প্রমূখ।
কর্মশালায় বলা হয় সাতক্ষীরা পোল্ডার ২ এর আওতায় ১ লাখ ৯৩ হাজার পরিবার রয়েছে। তারা এক লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে এখন বহুমুখী শস্য উৎপাদন করতে পারছেন। এরই মধ্যে জলাবদ্ধতামুক্ত আমোদখালি খালের এসব এলাকায় শস্য বৈচিত্র্য দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে।

কলারোয়ার খোরদো মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সংবাদ সস্মেলন
অনলাইন ডেস্ক: কলারোয়া উপজেলার খোরদো মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদ, শচীন বিশ্বাসের উপর হামলাকারিদের গ্রেপ্তার ও চাঁদাবাজির মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার প্রতিবাদে সস্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সংবাদ সস্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে খোরদো মৎস্যসজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, তিনি খোরদো মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ এর বর্তমান সভাপতি। চলতি বছরের ১৩ মে থেকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে দলুইপুরের ১৩৫.৪৫ একর বাওড়ে মাছ চাষ করার জন্য খাস কালেকশানের অনুমতি পান। সে অনুযায়ি তিনি ও সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শচীন চন্দ্র বিশ্বাস নিজ খরচে মাছ ছেড়ে , ট্যোং বানিয়ে বাওড়ের মাছ চাষ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অথচ ওই বাওড়ে যাতে তারা মাছ ধরতে না পারেন সেজন্য স্থানীয় খোরদো ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারী পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে কলারোয়া উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দলুইপুর গ্রামের সেলিনা আনোয়ারুল ময়না, তার ছেলে জয়সহ একই গ্রামের রিপন, কুদ্দুসসহ একটি স্বার্থান্বেষী মহল চাঁদাদাবিসহ দীর্ঘদিন ধরে বাওড় দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ২০০৮ সালে খোরদো ইউপি’র চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম, তার স্ত্রী সেলিনা আনোয়ারুল ময়না ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে বাওড়ের ৫০ লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট করা হয়। লুটপাটে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন নিত্যজিৎ সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয়, চক্রটি তার কাছে ও সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শচীন বিশ্বাসের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দিলে তাদের ঘের করতে দেওয়া হবে না বলে হুশিয়ারি দেয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রতিকার চেয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর এক লিখিত অভিযোগ করেন। এ খবর জানতে পেরে উপরোক্ত সন্ত্রাসীরা ওইদিন রাত সাতটার দিকে শচীন বিশ্বাস তার বাড়ির সামনে মাসুমের চায়ের দোকানে বসে থাকাকালিন শচীন দাদার কাছে পূর্বের দাবিকৃত চাঁদার টাকা চায়। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আব্দুল মান্নান, জয়, রিপন, কুদ্দুছ, ময়না খাতুনসহ কয়েকজন লোহার রড নিয়ে শচীন বিশ্বাসকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে ডান পায়ের হাঁটুর মালাইচাকি ভেঙে দেয়। বর্তমানে শচীন বিশ্বাস সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর শচীন বিশ্বাসের মেয়ে বিপ্রতি বিশ্বাস বাদি হয়ে থানায় আব্দুল মান্নান, সেলিনাসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই দিন বিকেলে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সেলিনা ও নিত্যজিৎ সরকারকে গ্রেপ্তার করে। ১৮ সেপ্টেম্বর নিত্যজিৎ সরকার আসামীদের বাঁচাতে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ সস্মেলন করে। ওই দিন তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও প্রশাসনসহ সমিতির সদস্যদের অবহিত করে বাওড়ে কিছু মাছ ধরেন। ২৯ সেপ্টেম্বর জেল থেকে বের হয়ে রাতে কলারোয়া থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে উভয়পক্ষকে নিয়ে থানায় বসাবসি হয়। সেখানে তারা তাদের কাগজপত্রের মাধ্যমে বাওড়ে মাছ চাষ ও মাছ ধরার বৈধতা সম্পর্কে অবহিত করতে সমর্থ হন। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাগজপত্র বহির্ভুতদের বাওড়ে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করলে সেলিনা ও তার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে মঙ্গলবার দৈনিক পত্রদূত, কাফেলা ও সাতনদী পত্রিকায় আমি পুলিশ ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে বাওড়ের মাছ লুটপাট করেছি, নাশকতা ও মাদক মামলার আসামী, পুলিশ সমিতির সদস্যদের মধ্যে যারা মাছ লুটের প্রতিবাদ করেছে তাদেরকে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে মর্মে অসত্য ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করায়।
সংবাদ সম্মেনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা যাতে সরকারিভাবে ইজারা নেওয়া মৎস্যজীবি সমিতির বাওড় দখল ও লুটপাট না করতে পারে তার বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণ, শচীন বিশ্বাসের উপর হামলাকারিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জন্য খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ও সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষপ কামনা করা হয়। একইসাথে মঙ্গলবার স্থানীয় তিনটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।