খোলা কলাম: দুর্নীতি নির্মূলে শুদ্ধি অভিযানে দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যান বঙ্গকন্যা দেশের ১৬ কোটি মানুষ আপনার পাশে আছে, থাকবে”


প্রকাশিত : October 1, 2019 ||

অধ্যাপক রাজু আহমেদ: নিন্দুকদের কাজই নিন্দা করা। ভালো কাজের প্রশংসা না করে নিন্দা করা এটা তাদের স্বভাব। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৮ বছর আগে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ এ দেশে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো তারা কেউ এ সৎ সাহস দেখায়নি। এ সৎ সাহস আপনি দেখিয়েছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে আপনি বঙ্গকন্যা বলেই। বুকের পাটা এদেশে একমাত্র আপনারই রয়েছে। এ দেশের স্থপতি, স্বপ্ন দ্রষ্টা যার জনপ্রিয়তা ছিল আকশচুম্বী দেশে-বিদেশে তিনি হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার রক্ত আপনার প্রতিটি শিরা উপশিরায় বহমান। কারও রক্ত চক্ষুকে আপনি যে ভয় পান না, তা আপনার নেয়া প্রতিটি পদক্ষেপে প্রমাণ করে।

আমি মানসিকভাবে বর্তমানে ভালো অবস্থানে নেই। কলম ধরার মতো পর্যাপ্ত সময়ও আমার নেই। মনে করে ছিলাম আগামী দু’মাস কিছু লিখবো না। কিন্তু না লিখে পারছি না। পত্রিকায় পাতায় রাজনৈতিক নেতাদের কিছু বাগড়োম্বর বক্ত্যব্যের কারণে বিশেষ করে বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় কিছু নেতাদের বক্তব্যের কারণে কলম না ধরে পারা গেল না।

২২ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় দেখলাম বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল সাহেব বলছেন, ‘এখন কেঁচো খুড়তে সাপ বেরুচ্ছে। তিনি আরো বলেছেন সরকার আকন্ঠ নিমজ্জিত হয়েছে দুর্নীতিতে। তাদের একবোরে উচ্চ পর্যায় থেকে তৃণমূল কর্মী পর্যন্ত সবখানেই তারা যে ভয়াবহ আকারে দুর্নীতিতে  নিমজ্জিত হয়েছে। এটা দেশের জন্য জনগণের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে…।’

যতদূর মনে হয়, বিএনপির মহাসচিব একজন ক্লিন ইমেজের মহাসচিব একজন ক্লিন ইমেজের লোক। দেখলে মনে হয় সৎজন। আমার বিশ্বাস তেমনি। বিএনপির মহাসচিব বলে সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করা যাবে না, এটাতো ঠিক না। আমি একজন যুক্তিবিদ্যার ছাত্র হিসেবে মনে করি, বিরোধীতার জন্য বিরোধীতা করা কোনভাবে যুক্তিযুক্ত নয়। আপনারা তো সেই নেতাকে নিয়ে এগুচ্ছেন যিনি বিদ্যুতের খাম্বার টাকা খাওয়া নেতা। বিদ্যুতের কর্মচারী যেখানে যত লোড শেডিং করে বিদ্যুৎ অফ করে বিদ্যুৎ কম খরচ করে জনগণের পকেট থেকে মাস শেষে ঠিকই বিল আদায় করে নিতেন। অপরদিকে সেই কমচারীকে আপনারা পুরস্কারও দিতেন। জাতি এখনো সে কথা ভুলে যায়নি। দুর্নীতির কারণে বিএনপির শীর্ষ নেত্রী জেলে। দলে বাঘা বাঘা আইনজীবি থাকলেও আইনী লাড়ইয়ে তাঁকে বের করে আনতে পারলেন না। প্রমান করতে পারলেন না তিনি নির্দোষ। এ সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযান সর্ম্পকে এসব কথা আপনাদের মুখে মানায় না।

বঙ্গকন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজিৈনতক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে কোন রকম পরামর্শ না করে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদ থেকে সরিয়ে দিলেন। অস্ত্র ও মাদক মামলায় যুবলীগের নেতা খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জিকে শামিমকে ছাড় দিলেন না। কুষ্টিয়ার চাঁদাবাজী মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু, শহর যুবলীগের আহবায়ক আশরাফুজ্জামান সুজনকে ছাড় দিলেন না। দেশকে দুর্নীতি সন্ত্রাসমুক্ত করতেই তাঁর এ উদ্যোগ। ইতোমধ্যেই জাতি এ উদ্যোগকে সু-স্বাগত জানিয়েছে। এতে তার জনপ্রিয়তা বাড়বে, কমবে না। আপনারা বিরোধীতার খাতিরে যতই সমালোচনামূলক উক্তি করেন না কেন। এ দেশের মানুষ এক সময় বলতো বিএনপির আর আওয়ামী লীগ মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। কথাটা এক সময় সত্য ছিল। নেত্রী যদি হায়াতে কিছু বছর বেঁচে থাকেন তাহলে জাতি আগে বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের তুলনা করে যেটা বলতো বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ভবিষ্যতে সেটি আর বলবে না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই যে, এমন সময় অবশ্যই আসবে যখন এই প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে আসবে এদেশের শিক্ষিত, ভদ্র, সৎ, ন¤্র বিনয়ী, চরিত্রের মানুষরাই।

বঙ্গকন্যা নতুন নেতৃত্বে আসা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সম্পাদককে ইতিমধ্যেই বলেছেন নেতৃত্বে পেয়ে অহমিকা নিয়ে দাম্ভীকতার সাথে চলা যাবে না। বিনয়ী, ন¤্র, ভদ্র হতে হবে। সাধারণ ছাত্রদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা তৈরী করতে হবে। টাকা কামাইয়ের ধান্দা করলে টাকা কামাই হবে কিন্তু এক সময় না এক সময় রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে। এ কথাগুলোর মিনিং যদি বিএনপির নেতারা বুঝতেন তাহলে সমালোচনা করতে পারতেন না বরং প্রশংসা করতেন।

দুর্নীতি বিরোধী চলমান অভিযানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রশংসা করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মাদ কাদের তিনি বলেছেন, ‘দেশবাসী আনন্দিত। তারা দেখছে ‘দুর্নীতমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন।’ দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছে গোটা জাতি। আমরা আশাবাদি প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সঠিক ও সফলভাবে এই অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে”।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজীর সঙ্গে যারা জড়িত এদের সম্পর্কে একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে পোঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব টিম দিয়ে এগুলো যাচাই বাছাই করে দেখছেন। ধারণা করা হচ্ছে এমপিদের বিরুদ্ধেও এই ক্রাস প্রোগ্রাম অব্যাহত থাকবে। পত্রিকায় প্রকাশ কালো তালিকায় ২৭ এমপি। রাশেদ খান মেনন সাহেব কিছুদিন আগে সাতক্ষীরাতে এসে বলে গেলেন, ‘রাজনীতি এখন রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। দুবৃর্ত্তদের হাতে চলে গিয়েছে। আপনি ক্লাবের সভাপতি হওয়া স্বত্বেও এখানে জুয়া খেলা হয় তা আপনি জানতেন না বলে কি বুঝাতে চেয়েছেন ? মুখে এক আর বুকে আর এক। এসব নীতি কথা বন্ধ করেন। আপনার ছবি ঝোলে ক্লাবে। কোটি কোটি  টাকার জুয়া আপনি মোটেও খোঁজ খবর রাখেন না। যুবলীগ নেতা খালেদ গ্রেপ্তারের পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুবলীগের সভাপতি জনাব ওমর ফারুক চৌধুরীর বক্তব্য যেমন কিছুটা হলেও এ সকল চাঁদাবাজ, দুর্নীতবাজ, সন্ত্রাসী নেতাদের পক্ষে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেছেন, ‘যেটা পত্রিকায় এসেছে, আমি রাজনীতি করি। আমাকে এ্যারেস্ট করবেন, করেন, আমি বসে থাকবো না। যুবলীগ নেতারা কে কি করেন আপনি কি জানতেন না? ক্যাসিনো সম্পর্কেও আপনি জানতেন না? সাধারণ জনগণ যদি আপনার দিকে প্রশ্ন  করে আপনি কেন এইসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেননি? এর দায় আপনি কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। প্রধান মন্ত্রীর কঠোর বার্তা ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শুণ্য গোয়াল অনেক ভালো’। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে বলছেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের ভাবমুর্তি উদ্ধারে অপরাধী যেই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’। আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, ‘দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি প্রতিরোধে জিরো চলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছেন’। দুর্নীতির সাথে সন্ত্রাসের সাথে জড়িতরা ছাড় পাবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘দুর্ণীতিবাজ যেই হোক, সে জনপ্রতিনিধি হোক আর প্রশাসনের লোক হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’। অন্যায়, অপরাধ, দুর্নীতির অভিযোগ পেলে প্রমানের ভিত্তিতে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

টাকা-পয়সা, বিলাসীতা করার একটা সীমা থাকে। এরা সব সীমা অতিক্রম করেছে। দেশের সাধারণ মানুষ কষ্ট করবে, আর নেতারা বিলাসীতা করবে, দুর্নীতি, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, সন্ত্রাস করে টাকার পাহাড় বানাবে, এটা হতে পারে না। সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা চলে যাবে শূণ্য কোটায় এমন নেতা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগে দরকার নেই।

বঙ্গবন্ধু কন্যা পদে পদে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন। পদ্মা সেতু থেকে যখন বিশ্বব্যাংক মুখ ফিরিয়ে নিলো তখন তিনি সাহস করে বললেন, দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করবেন। এবং সেটা তিনি করেই ছাড়ছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, রায় কার্যকর করা, করবেন বলেছেন করেই ছেড়েছেন। এসব করতে কত ঝুঁকি তা ভেবেছেন কি আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ নেতারা? যদি ভাবতেন তাহলে দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় গড়তেন না।

বঙ্গকন্যা তাঁর বক্তৃতায় বারংবার সতর্কবার্তা দিয়েছেন কিন্তু পাত্তাই দেয়নি তারা। যারা পাত্তা দেয়নি তারাই আজ ভুগবে। এদের বাঁচাতে যারাই এগিয় আসবে বুঝতে হবে তারা দলের জন্য, দেশের জন্য মোটেই মঙ্গলকর ও কল্যানকর নয়।

তিনি যথার্থই বলেছেন, আমি কষ্ট করে সবকিছু করছি দেশের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য, এর উপর কালি আসুক সেটা আমি কোনোভাবে হতে দেব না। আমি কাউকেই ছাড়ব না। সে আমার দলের হোক বা অন্য দলের হোক। আপনি দুর্নীতি নির্মূলে শুদ্ধি অভিযানের দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যান বঙ্গকন্যা দেশের ১৬ কোটি মানুষ আপনার এ মহত্তি উদ্যোগের পাশে আছে। ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে। লেখক: অধ্যাপক, ছফুরন্নেছা মহিলা কলেজ, সাতক্ষীরা