বনদস্যুদের পক্ষে মুক্তিপণ আদায় করলেন ইউপি সদস্য: ঘটনা ফাঁস হওয়ায় হুমকিতে অপর জেলের জীবন


প্রকাশিত : অক্টোবর ১, ২০১৯ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: অপহরণের পর বনদস্যুদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা স্থানীয় এক ইউপি সদস্য গ্রহণের ঘটনা ফাঁস হওয়াতে শাহাদাৎ হোসেন (৩০) নামের এক জেলের জীবনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নুতন করে জিম্মি হওয়া ওই জেলের মুক্তিপণ বাবদ পুর্বোক্ত জিম্মির তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি অর্থ দাবির পাশাপাশি নৌকা মালিকের জাল, দড়াসহ যাবতীয় উপকরণ লুটে নিয়েছে বনদস্যুরা।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পশ্চিম সুন্দরবনের রায়মঙ্গল নদীয় সংলগ্ন বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী হোগলডাঙা এলাকায়। নুতনভাবে অপহরণের শিকার জেলে শাহাদাৎ হোসেন শ্যামনগর উপজেলার কালিঞ্চি গ্রামের মোকছেদ গাজীর ছেলে। তবে অপহৃত জেলে ফিরে না আসা পর্যন্ত ঘটনার শিকার জেলের পরিবার ও তার নৌকা মালিক ওই জনপ্রতিনিধির নাম পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এরআগে গত ৯ সেপ্টেম্বর বনদস্যু দলটি শাহাদাৎ হোসেনের সহযোগী জেলে টেংরাখালী গ্রামের জাকির হোসেনকে অপহরণ করে মুক্তিপণের জন্য।

জিম্মি থাকার সময়ে জাকিরের মুক্তিপণের টাকা স্থানীয় এক ইউপি সদস্য গ্রহণ করার বিষয়টি লোক জানাজানি হওয়ায় নুতন করে অপহৃত শাহাদাৎ এর জীবন নিয়ে চরম শংকায় থাকার কথা জানিয়েছে তার পরিবার।

জিম্মি জেলে শাহাদাৎ হোসেনের ভাই সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা জানায় অপরাপর জেলেদের সাথে শাহাদাৎ টেংরাখালী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের শ্রমিক হিসেবে সুন্দরবনে মাছ কাঁকড়া ধরে। প্রতিবারের মত গত ২৪ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনে যাওয়ার পর জিয়া বাহিনীর নাম পরিচয়ে একদল বনদস্যু তার ভাই শাহাদাৎকে উঠিয়ে নেয় এবং নৌকার মালিক রাজ্জাকসহ অন্যদের ব্যাপক মারপিট করে। তিনি আরও জানান, তার ভাইকে জিম্মি করে তার মুক্তিপণ বাবদ দুই লাখ টাকা দাবি করে বনদস্যু দলটি। সাইফুল ইসলাম জানান, একই বনদস্যু দলের সদস্যরা গত ৯ সেপ্টেম্বর শাহাদাৎ এর সহযোগী জেলে জাকিরকে অপহরণ করে ত্রিশ হাজার টাকা দাবি করে। সেসময় তার মুক্তিপণের টাকা স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের হাতে উঠিয়ে দেয়ার পর জাকিরকে ছেড়ে দেয় বনদস্যুরা। তার দাবি জাকির ফিরে আসার পর ইউপি সদস্য কতৃক টাকা আদায়ের বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ পায়। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সাংবাদিকদের কাছেও ঐ তথ্য পৌছে যায়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদও প্রকাশ হয়।

যে কারনে একই নৌকা মালিকের হয়ে বনে প্রবেশের পরপরই শাহাদৎকে অপহরণ করে কয়েকগুন বেশি মুক্তিপণ দাবি করেছে বনদস্যুরা। এসময় পুর্বোক্ত জিম্মির মুক্তিপণের টাকা প্রভাবশালী ওই ইউপি সদস্যেও কাছে হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশের ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ থাকায় বহরে থাকা নৌকা দুটির সকল জেলেকে বেধড়ক মারধর করে এবং যাবতীয় জাল, দড়াসহ মাছ ধরার উপকরনাদী ছিনিয়ে নেয়।

বনদস্যুদের পক্ষে ইউপি সদস্যের মুক্তিপণের টাকা গ্রহণের ঘটনা জানাজানি হওয়াতে এখন তারা সকলে শাহাদাৎ এর জীবন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলেও জানান শাহাদাৎ এর স্বজনসহ স্থানীয়রা।

নৌকা মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইতোপুর্বে তার শ্রমিক জাকিরকে অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির কাছে দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে কোনভাবে সেটা প্রকাশ হওয়ার কারণে পুনরায় বনে প্রবেশের পরপরই বনদস্যু গ্রুপটি শাহাদাৎ হোসেনকে জিম্মি করে। সবাইকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি মাছ ধরার সমুদয় উপকরন লুটে নিয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা ওই জেলের জীবন বাঁচানোর খাতিরে বিষয়টি নিয়ে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করতে সবাইকে অনুরোধ করেন।

এদিকে শাহাদাৎ ফিরে না আসা পর্যন্ত আলোচিত ওই ইউপি সদস্যের নাম পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানায় জিম্মি ঝেলের স্বজনসহ নৌকা মালিক আব্দুর রাজ্জাক।

তবে নির্ভরযোগ্য একটি সুত্র জানিয়েছে বনদস্যুদের দাবিকৃত মুক্তিপণের দুই লাখ টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধের পরও জিম্মি জেলের মুক্তি না মেলায় সকলে উৎকন্ঠায় রয়েছে। সম্প্রতি বনদস্যু সাইফুল গ্রুপের দুই সদস্যকে আটকসহ তিন বনজীবিকে উদ্ধারে কোস্টগার্ডের অভিযানের সময় আলোচিত ওই জনপ্রতিনিধি তাদের সাথে ছিলেন। নিজের উপর উঠা অপকর্মের বিষয়টি মুছতে সুকৌশলে তিনি কোস্টগার্ডের সাথে এদিনের অভিযানে অংশ নেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।