সবজি চাষে দিন বদলেছেন সখিনা


প্রকাশিত : October 1, 2019 ||

রাবেয়া খাতুন রোজ: সবজি চাষে দিন বদলেছেন সখিনা বেগম। পরিমিত জৈব সার ব্যবহার করে নিরাপদ ও স্বাস্থ্য সম্মত সবজি চাষে সফল হয়েছেন তিনি। কষ্টের সংসারে এসেছে সুখের পরশ। এলাকায় সখিনা বেগম দেখিয়েছেন কৃষি কাজ করে কীভাবে স্বপ্ন জয় করা যায়। কৃষিতে জীবন বদলানো সখিনা বেগমের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নেবাখালী গ্রামে। স্বামী মালেক গাজী দরিদ্র কৃষক। সংসারে ৪ ছেলের তিনজনই আলাদা। তারা অন্যের ক্ষেতে খামারে কামলা খাটে (জোন দেয়)। ছোট ছেলে আছে সখিনার সংসারে। সখিনা বেগম বলেন, স্বামীর চাষযোগ্য জমি নেই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে তাতে চাষ করেন বিভিন্ন ফসল। তাতে খোরাকি হতো না। অভাব যেনো পিছু ছাড়তো না। দিন আনা দিন খাওয়া সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরাতো। অনাহারে অর্ধাহারে দিন কেটেছে তাদের। এমনও সময় গেছে ওষুধ কেনার পয়সা ছিলো না। ঈদ উৎসবেও জুটতো না নতুন বস্ত্র। অর্থাভাবে ছেলেদের লেখাপড়াও শিখাতে পারেননি তিনি। আজ তার সুদিন ফিরেছে। ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন সবজি চাষ। সবজি বিক্রি করে তিনি দেখেন লাভের মুখ। সেই সূচনা। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে এগিয়ে গেছেন সামনের দিকে।

সখিনা বেগম বলেন, তিনি বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ করেন। স্থানীয় এলাকায় অনেক কৃষাণী নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি বাড়ির আঙিনায় আবাদ করার জন্য তার কাছে পরামর্শ নিচ্ছে। তার উৎপাদিত সবজি সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হচ্ছে। আর অন্য কৃষাণীরাও তাকে অনুসরণ করছেন।

৫ মাস আগে নিজের দেড় বিঘা জমিতে ঢেঁড়স, এক বিঘা জমিতে পটল ও পনেরো কাঠা জমিতে মেটে আলু চাষ করেন। অধিক ফলনের আশায় প্রথম দিকে ক্ষেতে বেশি রাসায়নিক সার ব্যবহার করতেন। তাতে খরচ বেশি হতো। পরে কৃষি অফিসারের পরামর্শ নিয়ে পরিমিত মাত্রায় জৈব সার ব্যবহার করেন। এতে বেশি লাভ হওয়ায় বর্তমানে চার বিঘা জমিতে ঢেঁড়স ও পটল চাষ করেন। তিনি এক লক্ষ টাকার সবজি বিক্রয় করেন। সখিনা বেগম বলেন, আগে আমি ক্ষেতে কীটনাশক দিতাম, যাতে রোগ বালাই না হয়। আর কীটনাশক স্প্রে করার পরদিনই ওই সবজি বাজারে বিক্রি করতাম। আর এখন জৈব সার দিচ্ছি পরিমিত মাত্রায়। তিনি আরও বলেন, এখন স্প্রে করার এক সপ্তাহ পর সবজি তুলছি। আগে আমার দিন আনা দিন খাওয়া ছিল। এখন আমি স্বচ্ছল। সিনজেনটার হাইব্রিড বীজ নিয়ে আমি উপকৃত হয়েছি।

এখন স্বপ্ন একটি বাড়ি একটি খামার। যে খামারে উৎপাদিত ফসলের ভাগ কাউকে দিতে হবে না। ফলে ফুলে ভরে তুলতে চান তার বাড়ির আঙিনা। এজন্য তিনি সরকারি পৃষ্টপোষকতা আশা করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দু মন্ডল বলেন, জেলার কয়েকজন কৃষাণী নিরাপদ উপায়ে সবজি উৎপাদন করছেন। এতে ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি ক্রেতারা পাচ্ছে স্বাস্থ্যসম্মত সবজি যা দেখে অন্য কৃষাণীরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষক-কৃষাণীদের বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এক ইঞ্চি জমিও যাতে অনাবাদি না থাকে সেজন্য কৃষি অধিদপ্তরের প্রত্যেক ইউনিট মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।