আদালতে জবানবন্দি দিয়ে মারাত্বক জখম হওয়া ঘটনাস্থল দেখতে গেলো সেই শাহীন


প্রকাশিত : October 2, 2019 ||

মো. মামুন হোসেন, নগরঘাটা (পাটকেলঘাটা): বুধবার বিকেল ৪টায় সাতক্ষীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব কুমার রায়ের আদালতে জবানবন্দি দেয় শাহিন। জবানবন্দি দেয়ার জন্য মা খাদিজা বেগম, ছোট চাচি হিরা খাতুন ও মঙ্গলকোর্টের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জহির রায়হানের সঙ্গে সকাল ৯টার সময় সাতক্ষীরার ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছায় শাহিন। সেখানে আসা মাত্র শাহীনের সাথে থাকা মঙ্গলকোর্টের ইউপি সদস্য জহির রায়হান মোবাইল ফোনে পত্রদূত প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করেন। সেখানে আইনী প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে জবানবন্দির জন্য নিয়ে যাওয়া হয় আদালতে।
জহির রায়হান এ প্রতিনিধিকে জানান, বিজ্ঞ বিচারক প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে শাহিনের কথা শুনেছেন। জবানবন্দির সময় শাহিন সেখানে একাই ছিল। তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা যতটা মনে ছিল ততটাই বলেছে বিচারককে।
জবানবন্দি দিয়ে কেশবপুরের মঙ্গলকোর্ট নিজ বাড়ি ফেরার পথে শাহীন ফিরে যেতে চাই তার সাথে ঘটে যাওয়া সেই দুর্ঘটনাস্থল হামজামতলায়। সেখানে যাওয়ার পরে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের। স্থানীয় বাসিন্দারা শাহীনকে এক পলক দেখার জন্য ভীড় জমাতে থাকে সেখানে। সেখানে উপস্থিত সকলেই শাহীনের সুস্থতা কামনা করেন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ভ্যানচালক ও মাদরাসা ছাত্র শাহিন কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে। গত ২৮ জুন ধানদিয়ায় আসার উদ্দেশ্যে শাহিনের ভ্যানটি ভাড়া করে চার যুবক। পথিমধ্যে পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়া এলাকার হামজামতলায় পৌছালে শাহিনের মাথায় ভ্যানের ছিটে থাকা লোহার রডে আঘাত করে মৃতভেবে পাটক্ষেতে ফেলে দেয় ওই যুবকেরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সেখানে ৩মাস ১৯ দিন চিকিৎসা শেষে নিজ বাড়িতে ফেরে শাহিন। শাহিনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শাহীনের মা খাদিজা বেগম জানান, ছেলে আমার বুকে ফিরে এসেছে এর থেকে বড় পাওয়া একজন মায়ের চাওয়া আর কি থাকতে পারে? শাহীনের প্রতিদিনের ঔষধ কিনতে গিয়ে পরিবারের আর সকলের খাওয়া-দাওয়া ঠিকমত হচ্ছে না। তাই সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমার ছেলের ঔষধ কেনার জন্য সাহায্যের হাত বাড়ানোর আহবান জানান।