আদালতের মধ্যেই জোড়া হত্যা মামলার আসামী পেটালেন নিহতের দেবরকে


প্রকাশিত : October 3, 2019 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: আদালতে বিচারপ্রার্থী এক যুবককে পিটিয়েছে মা ও মেয়ে হত্যা মামলার আসামী পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল আলিম। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জজ কোর্ট চত্বরের মেহগণি বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের মা রিপ্না খাতুন ও মেয়ে মুন্নিকে (৪) মোবাইল ফোনে ডেকে এনে সাতক্ষীরায় নিয়ে আসেন একই গ্রামের পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল আলিম। পরবর্তীতে তাদের উপর নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর লাশ সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী ইছামতী নদীতে ফেলে দেয় আব্দুল আলিম। ১২ ফেব্রুয়ারি দেবহাটা সীমান্তের ইছামতী নদীর ছুটিপুর নামক স্থান থেকে পুলিশ মুন্নি খাতুনের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় চৌকিদার ফজর আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি ইছামতী নদীর কালিগঞ্জের বসন্তপুর নামকস্থান থেকে রিপ্না খাতুনের ক্ষত বিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় লাশ সনাক্ত হওয়ার আগেই কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ইসরাফিল হোসেন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহতদের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে সাতক্ষীরা শহরের রুলপুর সরকারি গোরস্থানে দাফর করা হয়। পরবর্তীতে পত্রিকায় ও টেলিভিশনে ছবি দেখে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার যাদবপুর গ্রামের মুছা শেখ ওই লাশ তার স্ত্রী ও মেয়ের বলে সনাক্ত করে নিজ বাড়িতে দাফনের জন্য লাশ ফেরৎ চেয়ে সাতক্ষীরার নির্বাহী আদালতে মামলা করে আজো কোন আদেশ পাননি। ১০ ফেব্রুয়ারি মুছা শেখের সাধারণ ডায়েরী পর্যালোচনা শেষে পুলিশ ১৫ ফেব্রুয়ারি  একই এলাকার পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল আলিমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে রিমা-ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মুছা শেখের অভিযোগ, আব্দুল আলীম ও তার পরিবার বিত্তশালী হওয়ায় প্রভাবশালীও বটে। জামিনে মুক্তি পেলেও তাকে সাময়িক বরখাস্ত করায় তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেওয়া হতো। একপর্যায়ে তিনি সাতক্ষীরা আদালতে একা আসতে ভয় পেতেন।  বৃহস্পতিবার ধার্য দিনে তিনি তার ভাই কলেজ ছাত্র শাকিল হোসেন ও ফুফু মেহেরউন্নেছাকে নিয়ে আদালতে আসেন। সকাল ১০টার দিকে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের মধ্যে মেহগনি বাগানে ডেকে নিয়ে আসামী আব্দুল আলিম, তার স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন ভাই শাকিলকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। তাকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে ফুফু মেহেরউন্নেছাকেও মারপিট করা হয়। একপর্যায়ে বেগতিক বুঝে আলিম ও তার লোকজন চলে যায়।

মুছা শেখ অভিযোগ করে বলেন, মামলার আসামী পুলিশ হওয়ায় পরপর চারজন তদন্তকারি কর্মকর্তা পরিবর্তণ হলেও তদন্তকারি কর্মকর্তা গত এক বছর আট মাসেও মামলার পুলিশ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেননি।

জানতে চাইলে সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক অমল রায় বলেন, বিষয়টি তাকে অবহিত করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতের সিএসআই এর মাধ্যমে ঘটনাটি সংশিষ্ট আদালতের বিচারককে অবহিত করতে বলেন।

আসামী আব্দুল আলিম বলেন, মিথ্যা মামলায় তাকে সাময়িক বহিষ্কার হতে হয়েছে তাই শাকিলকে তিনি কয়েকটি চড় ও থাপ্পড় মেরেছেন।

মুামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক আজিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি সময়মত জানতে পারলে তিনি ব্যবস্থা নিতে পারতেন। তবে এ ঘটনায় আব্দুল আলিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক বার রিমা- নিতে পারলে তদন্ত অনেক দূল এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতো। তবে খুব শ্রীঘ্রই মামলার পুলিশ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানা তিনি।