বিশ্ব শিক্ষক দিবস এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট


প্রকাশিত : অক্টোবর ৪, ২০১৯ ||

মো. কায়ছার আলী: ‘যাদের নাই এমপিও, শরীরে থাকে না গেঞ্জিও।’ ‘বেসরকারি শিক্ষকদের পেনশন, পেতে বড়ই টেনশন।’ আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ১৯৪৬ সালে ইউনেস্কো শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা, অধিকার এবং আর্থ-সামাজিক ও নৈতিক ভিত্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ব শিক্ষক সনদ নামক একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে। এ আলোচনার ধারাবাহিকতায় ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর ইউনেস্কোর উদ্যোগে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্ত-সরকার সম্মেলনে শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সংক্রান্ত বিশেষ সুপারিশমালা গ্রহণ করা হয়। সম্মেলন অনুষ্ঠানের তারিখটি অর্থবহ ও স্মরণীয় করে তোলার লক্ষ্যে ইউনেস্কোর সাধারণ সভায় ২৬তম অধিবেশনে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৯৪ সালে ইউনেস্ক বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রচলন করে। এরপর ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী ১০০টি দেশের সাথে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে যথাযথ মর্যাদা, তাৎপর্য ও গুরুত্বসহকারে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ দিবসটি পালন করে আসছে। এডুকেশন ইন্টারন্যোশনাল তার সহযোগী ৪০১টি সদস্য সংগঠন এ দিবসটি পালনে মূল ভূমিকা রাখে। দিবসটি উপলক্ষে ই.আই প্রতি বছর একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে থাকে যা জনসচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষকদের ধ্যান, ব্রত, সাধনা বা মহান পেশার অবদানকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এ বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘ণড়ঁহম ঞবধপযবৎং: ঞযব ভঁঃঁৎব ড়ভ ঃযব চৎড়ভবংংরড়হ.’ সৃষ্টির সেরা মানুষের জ্ঞান বুদ্ধি বা বিবেক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন শিক্ষা। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। আর তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষার আলো ছাত্রদের মাঝে বিতরণ করেন সম্মানিত শিক্ষক সমাজ বা মহান শিক্ষকেরা। আমরা সাধারণ কিন্তু তৈরি করি অসাধারণ। ধুপের মতো গন্ধ বিলিয়ে, মোমবাতির মতো নিজেকে জ¦ালিয়ে এবং সিঁড়ির মতো বুক পেতে দিয়ে আমরা তৃপ্তি পাই। এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৯০ শতাংশ তথা ছাত্র সমাজের শিক্ষার জন্য যে স্কুলের দরজা খোলা থাকে তা হলো এমপিওভূক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। দীর্ঘসময় ধরে এমপিওভূক্ত না হলে, কমিটি দ্বারা হয়রানির শিকার হলে বা কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ, মৃত্যুবরণ করলে বা অবসর গ্রহণের পরে দীর্ঘদিন যাবৎ অবসর ভাতা ও কল্যাণ তহবিল এর অর্থ না পেলে একজন শিক্ষকের পরিবারে যে চরম আর্থিক অবস্থার শিকার হয় তা মনে পড়ে যায় বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক, খ্যাতনামা লোকসাহিত্য গবেষক ও জীবনবাদী কবি আশরাফ সিদ্দিকী রচিত ‘তালেব মাষ্টার’ কবিতার সারমর্মখানা উপলব্ধি করলে। “তালসোনাপুর গ্রামের একজন স্কুল শিক্ষক তালেব মাস্টার। দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবৎ তিনি শিক্ষকতা করছেন পাড়ার পাঠশালায়। অসংখ্য কচিমুখ ছাত্রের কথা আজ তার মনে পড়ে। গর্ব হয় তখন, যখন দেখেন তার ছাত্রদের অনেকেই আজ নানা ক্ষেত্রে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। যাদের নাম শুনলে সবাই চিনতে পারে। অথচ তাদেরই শিক্ষক তালেব মাস্টারকে কেউ চিনবে না। বয়সের ভারে পিঠ বেঁকে গেছে। তিনি চোখেও দেখেন না ভালো করে। তাই তিনি এখনই আত্মজীবনী লিখে যেতে চান। পরে হয়তো সময় আর পাবেন না। রবীন্দ্রনাথ ঠকুর, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অনেক কবি-সাহিত্যিক কত কাহিনীই না লিখে গেছেন। তাঁদের লেখায় জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতা তেমন আসে নি। যেমনটা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পেরেছেন। তাই মানিক বাবুকে তালেব মাস্টার তার জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতার কথা শোনান। যে জীবন এ বাংলাদেশের নির্মম চিত্র। বাল্যকালে ছাত্র হিসেবে খুব ভালো ছিলেন তিনি। তবু পড়ালেখা অষ্টম শ্রেণীর পর আর এগোয় নি। পিতামাতার অভাবের কারণে তার পড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় নি। জমিদার বাবু দয়া করে ছেলেমেয়েদের পড়াবার কাজ দিয়েছিলেন। বেতন মাসিক মাত্র সাড়ে তিন টাকা। এরপর তিনি নিজেই পাড়ায় স্কুল খুলেছেন। তিনি জ্ঞানের প্রদীপকে জ্বালিয়ে রেখেছেন অম্লান করে। সময় গেল জলধারার মতো। অনেক ছাত্র এল, অনেকেই উত্তীর্ণ হয়ে চলে গেল। অথচ তার বেতন দশ টাকাতেই দাঁড়িয়ে আছে। জীবনে সর্বপ্রথম মাথায় কশাঘাত করে বিলাপে ফেটে পড়েছিলেন তালেব মাস্টার সেদিন-যেদিন পয়সার অভাবে একমাত্র পুত্রের পড়ালেখা বন্ধ করাতে হয়েছিল তাকে। ঘরে বৃদ্ধ বাবা-মা যখন জ্বরে ভূগে ধুঁকে ধুঁকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল, তখন আল্লাহর কাছে শুধু তার দারিদ্র্যের অনুযোগ তুলেছিলেন তালেব মাস্টার। তার পরেও ছাত্রদের তিনি নিরন্তর বুঝিয়ে চলেছেন, পথিবীতে সবচেয়ে বড় ধন হলো বিদ্যা। পড়ালেখা ছেড়ে তালেব মাস্টারের ছেলেটি এখন পাঁচ টাকা বেতনে মহাজনী কারবারে চাকরি করে। পুত্রের এ রোজগার বেঁচে থাকার জন্য তাকে সাহায্য করে। পঞ্চাশ সালে দেখা দেয় ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ। ঘরে-বাইরে নিত্যদিন উপবাস চলে। গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে যায় কলেরায়। এ কলেরা তালেব মাস্টারের ঘরেও আঘাত হানে। কলেরায় তার পুত্রটি মারা যায়, পায় না চিকিৎসা কিংবা শুশ্রুষা। বাইশ বছরের পুত্রকে অর্র্থাভাবে তিনি কাফনের কাপড় পর্যন্ত দিতে পারেন নি। এখানেই তালেব মাস্টারের দু:খের ইতিকথার শেষ নয়। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন পলাশতলী গ্রামে। সেখানেও দুর্ভিক্ষ হানা দেয়। অবস্থাটা মানুষে মানুষ খায় পর্যায়ের। মেয়েটি অনাহার যাতনা এবং বস্ত্রের অভাবে সম্ভ্রম হারানোর ভয়ে গলায় কলসি বেঁধে পুকুরে ডুবে আত্মহত্যা করে। তালেব মাস্টার মনে করেন, মানিক বাবুর যে দয়ার্দ্র মন তাতে তার দু:খ গাঁথা শুনে তিনি অশ্রু সংবরণ করতে পারেন নি নিশ্চয়ই। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলো। কিন্তু তালেব মাস্টারের ভাগ্য রইল অপরিবর্তিত-ই। ছয় মাস ধরে স্ত্রী অসুস্থ। শরীরের অবস্থা ভালো নেই। পাঁচ মাস ধরে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ বেতন দিচ্ছে না। মৃত্যুর আগে এবার টাকা আসবে কি-না তা নিয়ে তিনি সংশয়াচ্ছন্ন। তারপরেও ছেঁড়া জামাটা পরে প্রতিদিন স্কুলে যান, ছাত্রদের পড়ান। তালেব মাস্টারের কথা ইতিহাস হয়তো লিখে রাখবে না। তালেব মাস্টার যেন সে-ই বাতিওয়ালা, যে পথে পথে আলো জ্বালায় কিন্তু নিজের ঘরে আলো জ্বালাবার কেউ নেই। মানিক বাবুকে স্মরণ করে তিনি বলেন, তিনি তাঁর অনেক বই পড়েছেন। ‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাস পড়ে তিনি ব্যথায় কেঁদেছেন অনেক। খোদা মানিক বাবুকে দীর্ঘজীবী করুন এ প্রার্থনা তালেব মাস্টারের। তালেব মাস্টার মানিক বাবুকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন আরো একটা বই লিখেন। তাঁর দরদসিক্ত সে বইয়ের নায়ক হবে এই তালেব মাস্টার। সে বইয়ের কোথাও রোমান্সের ছোঁয়া থাকবে না। থাকবে খাঁটি বাস্তবতার কথা এবং বাংলাদেশেরই জীবন বাস্তবতা।’ সময়ের ব্যাপক পরিবর্তন হলেও আজ এদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বহুজাতিক কোম্পানির কেরানি হতে চায় কিন্তু শিক্ষক হতে চায় না। বহুজাতিক কোম্পানিতে বহুমুখী যে আর্থিক সুবিধা দেয়া হয়। তা শিক্ষকের ক্ষেত্রে কল্পনাও করা যায় না। ১৯৮০ সালের ১লা জানুয়ারী তৎকালীন সরকার শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলভূক্ত করে বেতনের ৫০ ভাগ সরকারী কোষাগার থেকে দেয়ার ব্যবস্থা করেন। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে ধাপে ধাপে মূল বেতনের শতকরা ১০০ ভাগ, বাড়ি ভাড়া পাঁচগুন, চিকিৎসা ভাতা দ্বিগুন, উৎসব ভাতা (শিক্ষক ২৫% ও কর্মচারী ৫০%) ১লা জুলাই ২০১৮ থেকে ৫% ইনক্রিমেন্ট চালু এবং অবসরে আর্থিক সুবিধা বর্তমানে শিক্ষকেরা বিলম্বে পেয়ে থাকেন। বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যের সাথে ব্যাপক যুগোপযোগী বা যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছেন। বিগত নয় বছর ধরে ১লা জানুয়ারীতে (মাধ্যমিক ও সমমানসহ) বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ (২৯৬ কোটি ০৭ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৪ টি) এবং ক্লাস শুরু (১লা জুলাই কলেজ) জাতীয় শিক্ষানীতি/ ১০ প্রণয়ন, পাঠ্যপুস্তকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ, ২৩৩০০ স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, উপজেলায় আইসিটি রিসোর্স সেন্টার স্থাপন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ, পশ্চাৎপদ অঞ্চলে ইংরেজী ও গণিতে ১১ লাখ অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া, শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট এর আওতায় স্নাতক পর্যায়ে বৃত্তি, ৬০ দিনে সকল পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, শ্রেণিতে মান সম্পন্ন পাঠদানের সিডি প্রদান, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মাদ্রাসার মূল ধারার সাথে বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা অন্তভূর্ক্তি বা আধুনিকায়ন, ২০১৫ সালের মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা এবং ১০ লাখ শিক্ষকের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে সমাপ্ত করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় সাফল্যের স্বর্ণোজ্জল ইতিহাস না লিখলে আজ বড় অন্যায় হবে, ভূল হবে আর তা হলো ২৬১৯৩ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে গত ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারিতে বর্তমান সরকার জাতীয়করণ করে হাজার হাজার সোনার হরিণ (সরকারী চাকুরী সোনার হরিণের মত) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজকে প্রদান করার কথা না লিখলে। তাই বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা, কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক অভিনন্দন তাদের পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা বৃদ্ধি করার জন্য। বর্তমান সরকার প্রধান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের সাথে ২০১৯-২০ সালে ৫২৩১৯০ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রণয়ন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অর্ন্তভুক্ত করেছেন এবং পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছেন। গত ২রা ফেব্রুয়ারি ২০১৮, নিউজ ডেস্ক-এ প্রকাশিত ‘শিক্ষকের সম্মানে লাল গালিচা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামে জানতে পারলাম ১লা ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করতে যান শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। তিনি শেখ হাসিনার শিক্ষক। আর সে অনুষ্ঠানেই ছাত্র-শিক্ষকের চির অমলিন শ্রদ্ধা-ভালোবাসার সম্পর্ককে সম্মান দেখিয়ে নিজ শিক্ষকের জন্য লাল গালিচা ছেড়ে হাঁটার অনন্য নজির স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সম্মান প্রদর্শন দৃশ্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ দৃষ্টান্তকে অনুকরণীয় বলে মতো সবার। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি হয়ে নিজের শিক্ষাগুরুকে সামনে পেয়ে সম্মান দিতে ভুলে যাননি শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা বলেই হয়তো এমন বিরল দৃশ্যের মুখোমুখি হতে পারল গোটা জাতি। পরিশেষে সাড়ে ছয় কোটি শিক্ষা পরিবারের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিনীত অনুরোধ করছি (অনুরোধ বা দাবি একটা চলমান প্রক্রিয়া) নিকট অতীতের মতো যত দ্রুত সম্ভব বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে আপনার নাম ইতিহাসের পাতায় (প্রাথমিকের মত) স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করবেন। তখন আমরা সারা দেশের শিক্ষক সমাজ কবি কাজী কাদের নেওয়াজের ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার কালজয়ী শেষ উক্তি খানা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বলতেই থাকব (কবিতার ভাষায় লিখছি) ‘আজ হতে চির উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির, সত্যিই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।’ লেখক: শিক্ষক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট