আশ্বিনের শারদপ্রাতে


প্রকাশিত : October 5, 2019 ||

 

রতিশুভ্র চক্রবর্তী

‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জরি’

মহালয়ার ভোরে স্তোত্র পাঠের এই অনবদ্য সুরের অনুরণন আপামর বাঙালির  মনে এক অনাবিল আবেগানুভূতির  সঞ্চার করে। বেতার যন্ত্রে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উপস্থাপনায় প্রচারিত ‘মহিষাসুর মর্দিনী’র হৃদয় মাতানো শ্রবণ সুখ,আজও এই মোবাইল ইন্টারনেটের যুগেও অধিকাংশ বাঙালির মতোই অবিনাশকেও বিশেষভাবে আলোড়িত করে।

না পেন-ড্রাইভ বা সি-ডি তে সংরক্ষিত ভার্সানে- ‘যখন-ইচ্ছে-তখন-শোনা’ — নয়। মহালয়ার উষা লগ্নেই বেতার যন্ত্রে প্রচারিত বীরেন্দ্রকৃষ্ণের উপস্থাপনা শোনার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে বছরভর। দূরদর্শনের  পর্দায়  ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে প্রচারিত মহালয়ার অনুষ্ঠানগুলো মনোরঞ্জনের যথেষ্ট উপকরণ নিয়ে প্রদর্শিত  হলেও ‘মহিষসুর-মর্দিনী’র সঙ্গে পাল¬া দিতে পারে না কোনওভাবেই। স্বভাবতই  অবিনাশকে  তেমন আকর্ষণ করে না দূরদর্শনের  মেকি, কৃত্রিম এই অনুষ্ঠানগুলো। তাই আজও সে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের উপস্থাপনার একনিষ্ঠ ভক্ত।

সেবার যখন রেডিওতে দুম করে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পরিবর্তে উত্তমকুমারের উপস্থাপনা সম্প্রচার করা হলো- কতই বা  বয়স তখন তার — টিন এজের গ-িও পেরয়নি বোধহয়!  মন ভরে নি সেদিন। মনে আছে, শ্রোতাদের চাহিদায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণকেই ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ – মহাষষ্ঠীর উষালগ্নে পুনরায় প্রচারিত হয়েছিল ‘আসল’ ‘মহিষাসুর মর্দিনী’। সেই অনুষ্ঠান শুনে অনেক শ্রোতার সঙ্গে অবিনাশও তৃপ্ত হয়েছিল। এর পর থেকে আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ নতুনভাবে আর কোনও পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সাহস দেখায়নি।

গত বছর পর্যন্তও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়েই আগের দিন রাতে মোবাইলে এলার্ম দিয়ে ঘুমাতে গিয়েছিল অবিনাশ। ভোর পৌনে চারটায় ঘুম থেকে উঠে চা পানের আয়োজন। তারপর রেডিও নিয়ে  নিয়ে বসে পড়া,মহালয়া শোনার আশায়। এবারই প্রথম ব্যতিক্রম ঘটলো।

আজ মহালয়া — পিতৃপক্ষের অবসান আর দেবী পক্ষের সূচনা। কিন্তু ভোরে উঠে ‘মহিষাসুর মর্দিনী’ শোনার কোনও উৎসাহ বা তৎপরতা দেখা গেল না অবিনাশের মধ্য। এমনিতে অবিনাশ তেমন ধর্মপরায়ণ ছিল না, কোনওদিনই। তবুও নিবেদিতার পিড়াপিড়িতে গত পাঁচ বছর — পিতৃ তর্পণও করে এসেছে  নিয়ম মেনেই। এবারই নিয়মের ব্যতিক্রম হতে চলেছে। গতবছর এই দিনেই – না, সেই দিনটা মহালয়ার দিন ছিল না অবশ্য- তবে দিনটা ছিল বিজয়া দশমীর দিন আর তারিখটা ছিল আজকের।  ঠিক এক বছর আগে এই তারিখেই যে ঘটে গিয়েছিল সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটা।  অবিনাশ আর নিবেদিতার একমাত্র মেয়ে এই দিনেই তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিল। মহাঅষ্টমীর সকাল থেকে বিজয়া দশমীর সন্ধ্যা পর্যন্ত যম আর মানুষের অসম টানাপোড়েনের শেষে অকস্মাৎ থেমে গিয়েছিল সেই লড়াই।দোর্দন্ড প্রতাপ যমরাজের পরাক্রমে হার মেনেছিল ডাক্তারবাবুদের অদম্য প্রচেষ্টা । সেইদিন থেকেই অবিনাশ নিবেদিতার জীবনধারা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল।

মাস ছয়েকের মধ্যেই অবিনাশের কারখানায় প্রোডাকশন কমাতে কমাতে প্রায় বন্ধই করে দিয়েছে মালিক পক্ষ। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে, গাড়ি বিক্রির হার ক্রমশ তলানিতে  চলে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষের এহেন পদক্ষেপে নিবেদিতা যথেষ্টই আশঙ্কিত। কারখানা বন্ধের নোটিশ না ঝুলালেও কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছ ইতিমধ্যেই। গত তিন মাসের মায়নাও বাকী কর্মচারীদের । যদিও অবিনাশের তেমন ভ্রুক্ষেপ নেই তাতে। থাকবেই বা কেমন করে! সংসারের যাবতীয় দায়বদ্ধতা তো এক বছর আগেই ফুরিয়ে গিয়েছে অবিনাশের জীবন থেকে। মায়না না পেলেও নিয়ম মতোই কারখানায় যাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে পারেনি সে।

উচ্ছ্বাসে ভরপুর মুন্নির উৎসাহ পৌনঃপুনিক হারে বাড়তে থাকে, প্রতি বছর। কলেজে পড়া উচ্ছল উজ্জ্বল মুন্নির উদ্দীপনাও বিপুল পরিমানে পুঞ্জীভূত হয়। জন্মের পরে – যখন থেকে জ্ঞানের উন্মেষ ঘটতে থাকে – তখন থেকেই ‘মহিষাসুর মর্দিনী’ শুনে অভ্যস্ত হলেও – প্রত্যেকবারেই নতুন ভাবে নতুন উদ্দীপনায় মেতে ওঠে মুন্নির হৃদয়।  বছর বছর উৎসাহের মাত্রা বাড়তেই থাকে।এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি কোনওদিনও। নিয়ম মতোই ভোরে উঠে রেডিওর নব ঘুরিয়ে ‘মহালয়া’ শোনার আজন্মের অভ্যাস মুন্নির। মহালয়ার বেতার অনুষ্ঠান শেষে  বাবার সঙ্গে নদীর ঘাটে তর্পণ দেখতে যাওয়া -গত কয়েক বছরের নতুন সংযোজন । দাদুর মৃত্যুর পর – গত কয়েক বছর ধরে – এটাও বর্ষপঞ্জির অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে  মুন্নি। কত মানুষের সমাগম হয় এই দিনটায় নদীর ঘাটে! পুরুত মশাইদের তৎপরতা আর ব্যস্ততা মুন্নিকে আমোদিত করে। অবিনাশ অবশ্য পুরোহিতদের সাহায্য নেয় না। সে নিজেই বই দেখে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পিতৃপুরুষের তর্পণ সম্পন্ন করে। এলাকার যুব নেতা অমিয়ভূষণ পাল এবারই প্রথম তর্পণ  করতে এসেছে নদীর ঘাটে। বছর দেড়েক হলো, অমিয়র বাবা, বিশিষ্ট সমাজসেবী অমূল্যভূষণ পাল ওরফে গুজিবাবু পরলোক গমন করেছেন। উনি এলাকার জনপ্রিয় বিধায়কও ছিলেন। বিধায়কের শূন্য পদের অন্যতম দাবীদার হওয়া সত্ত্বেও  পার্টি টিকিট দেয় নি অমিয় ভূষণকে। অগত্যা এলাকায় যুব নেতার ভূমিকায় দাপিয়ে বেড়িয়েছে সে। যুবনেতার দাপটে পাড়ার মেয়ে-বৌদের  স্বাধীনতা আর শালীনতা লাঞ্ছিত আর লুন্ঠিত হয়েই চলেছে। অমিয়র কুনজর থেকে রক্ষা পায় না কেউই।

যুবনেতার ভ্রষ্টতা সম্পর্কে  মুন্নির অল্পবিস্তর জানা থাকলেও চাক্ষুস সাক্ষাৎ এই প্রথম। প্রথম দর্শনেই অমিয়র প্রতি একরাশ ঘৃণা আর অবজ্ঞা ফুটে ওঠে মুন্নির চাহনিতে,শরীরী ভাষায়। অমিয়র লোলুপ কামাতুর দৃষ্টি মুন্নিকে বিদ্ধ করলেও পাত্তা পায় না তেমন। হয়তো এই নিস্পৃহ অবজ্ঞাই অমিয়কে আরও ক্ষিপ্ত করে তোলে। আরও ভয়ঙ্কর, আরও বিকৃত দৃষ্টি নিক্ষেপিত হয় অমিয়র চাহনিতে।

তর্পণ সেরে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার সময় মুন্নি সমস্ত বৃত্তান্ত সবিস্তারে জানায় অবিনাশকে। অবিনাশের মন আতঙ্কে সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। সে জানে অমিয়ভূষণের কুকীর্তির সালতামামী আর অবৈধ ক্ষমতার অপপ্রয়োগের বৃত্তান্ত। তাই সে মেয়েকে পরামর্শ দেয়, সমস্ত বিষয়টাকে সাবধানে- অবজ্ঞায় ভুলে -দূরে সরিয়ে রাখার। মুন্নিও আসন্ন শারদোৎসবে মাতোয়ারা হয়ে ভুলে যায় অমিয়ভূষণের কুৎসিত চাহনির কদাকার আক্রমণ।

পূজার আনন্দে মাতোয়ারা মুন্নি সবান্ধবে নীলপরি রূপে এ প্যান্ডেল থেকে সে প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ায়। লাগামছাড়া স্বাধীনতা আর অনাবিল আনন্দ উপভোগ করে সাবলীলভাবে।

মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় হুলে¬ারে মত্ত হয় মুন্নি। সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু সৌমেলির সঙ্গে সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে বিপত্তির সম্মুখীন হয়। অবিনাশ আর নিবেদিতা অস্থির হয়ে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে তল¬াশি চালিয়ে, হতাশ হয়ে ফেরে। মাঝ রাত অতিক্রান্ত হলেও মুন্নি না ফেরায় আশঙ্কায় অস্থির হয়ে ওঠে তাদের মন। পূজার আনন্দমুখর দিনগুলিতে রাত বারোটা যদিও সন্ধ্যা রাতেরই সামিল। তবুও মফস্বল শহরের পূজা মন্ডপ গুলোতে বারোটার পরে পাতলা হতে থাকে দর্শনার্থীদের ভীড়। অবিনাশ মেয়ের খোঁজ না পেয়ে  আতঙ্কিত হয়। অমিয় ভূষণের করাল দৃষ্টি  পড়েছে মেয়ের উপর। অবিনাশ জানে অমিয়ভূষণের কু নজর একবার যার উপর নিক্ষেপিত হয়,রক্ষা নেই তার। তাই সে আরও বেশি আতঙ্কিত।

অবিনাশের আশঙ্কাই সত্যি হয় সেদিন। মাঝ রাত্তিরে বিধ্বস্ত চেহারায় ঘরে ফেরে মুন্নি।

পাড়ার ক্লাবে,  মদ্যপাণের আসরে মধ্যমনি হয়ে বিরাজ করছে এলাকার উচ্ছন্নে যাওয়া যুবকদের একচ্ছত্র অধিপতি শ্রীমান অমিয়ভূষণ। প্রধান সাগরেদ পল্টু এসে খবর দেয়, “গুরু,  চিড়িয়া ফাঁদে পড়েছে, সঙ্গে দুসরা চিড়িয়াও আছে।”

দলপতি  নির্দেশ দেয় “তুলে আন ওদের। জমিয়ে ভোগ করার ব্যবস্থা করা যাবে! শুভকাজে দেরী কিসের? চল সবাই জমিয়ে উপভোগ করি মায়ের প্রসাদ! ”

নির্দেশ মাত্র শুরু হয় একশন। ঠাকুর দেখতে আসা দর্শনার্থীদের ভীড় এড়িয়ে অগোচরে তুলে আনা হয় মুন্নি আর সৌমেলিকে। উপর্যুপরি পাঁচ যুবক পর্যায়ক্রমে সৌমেলি আর মুন্নিদের শরীর খাবলে খুবলে ভোগ করতে থাকে। অমিয় ভূষণের শারিরীক অত্যাচার আর মানসিক শাসানীকে প্রতিরোধ করার যাবতীয় ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ওরা। নিস্তেজ আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। আত্মসম্মান আর শারিরীক সম্ভ্রম বিসর্জ্জন দিয়ে বিধ্বস্ত চেহারায় ফিরে যায় বাড়ির দিকে।

মেয়ের বিধ্বস্ত চেহারা,আলুথালু পোষাক আর চোখের জল দেখেই- কী ঘটেছে বুঝতে অসুবিধে হয় না অবিনাশের। অমিয়ের রাজনৈতিক ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে অবিনাশ নিবেদিতার পুলিশে খবর দেওয়ার পরামর্শ এক কথায় নাকচ করে দেয়। বরং ভবিষ্যত নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে পুরো বিষয়টা চেপে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকে। মানসিক ও শারীরিক অপমানে বিধ্বস্ত মুন্নিও মন থেকে মেনে নিতে পারে না। অবিনাশের এহেন সমঝোতাকারী সিদ্ধান্তে মুন্নি বিপর্যস্ত বোধ করে। রাত ভোর হওয়ার অনেক আগেই কাঁদতে কাঁদতে ছুটে যায় নিজের চিলেকোঠার ঘরে। অবিনাশ ভাবে ,কেঁদে হাল্কা হলে গ¬ানি মোচন হবে। তাই মুন্নিকে বিরক্ত না করে নিবেদিতাকে নিয়ে নিজের  ঘরের দিকে এগিয়ে যায়।

ঘরে ঢুকে মুন্নি নিজেকে সম্পূর্ণ আবরণ হীন করে কলঙ্কিত শরীরটাকে আয়নার সামনে মেলে ধরে। আয়নার অবয়বে নিজের কলঙ্কিত শরীরের প্রতিচ্ছবি দেখে ঘেন্নায় অপমানে নিজেকে শেষ করে দিয়ে এই লজ্জ্বা থেকে  মুক্তি পেতে চায়। কী ভাবে সে এই অপবিত্র শরীরের ভার বহন করে বেড়াবে! কী লাভ এই কলঙ্কিত শরীর আর ভেঙে খান খান হয়ে যাওয়া হৃদয় নিয়ে বেঁচে থেকে!

মাইকে অষ্টমী পুজোর পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র শুরু হয়ে গিয়েছে। বেলা বেশ অনেকটাই গড়িয়েছে। নিবেদিতা ধড়মড়িয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে মুন্নির ঘরের দিকে এগিয়ে যায়। মহাষ্টমীর মহালগ্ন প্রায় অতিক্রান্ত।  হাতে সময় খুবই অল্প। ব্যস্ত পায়ে নিবেদিতা ছুটে যায় মুন্নির চিলেকোঠা ঘরের দিকে। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে বিছানায় শুয়ে থাকা নিশ্চল-নিশ্চুপ মুন্নিকে দেখে জ্ঞান হারায় নিবেদিতা।

সন্ধি পুজোর আয়োজন সুসম্পন্ন। এবারের পূজার প্রধান হোতা,  পুজো কমিটির সম্পাদক অমিয়ভূষণ হাজির হয়েছে ম-পে।  একশো আট পদ্ম আর সমসংখ্যক প্রদীপ জ্বালিয়ে সন্ধি পূজার আয়োজন সম্পূর্ণ।  বিশেষ পূজা-পাঠও শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন অপেক্ষা পরম সন্ধিক্ষণের।  এই পরম সন্ধিক্ষণে বলি প্রদান সন্ধি পূজার অন্যতম রীতি ।  প্রথা অনুযায়ী “ছাগ বলি” র বিধান আছে পুরাণে। যদিও বিকল্প হিসাবে চালকুমড়া – আঁখ অথবা  কলা বলির প্রচলনও আছে। পুরাণ মতে কোথাও কোথাও ‘মহিষ বলি’ ও দেওয়া হয়।’বলি’ এই পূজার অন্যতম রীতি। পাড়ার পূজায় এবার সম্পাদকের ইচ্ছায় ‘ছাগ বলি’র ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহাসন্ধিক্ষণেই ‘বলি প্রদান’ হবে।আয়োজন সুসম্পন্ন। হাড়িকাঠে বন্দি করা হয়েছে নধর এক ছাগ শিশুর শরীর। বলি প্রদানকারী কাপালিক প্রকা- এক খড়্গ নিয়ে প্রস্তুত,প্রধান পুরোহিতের সংকেতের অপেক্ষায়। ঢাক-ঢোল,কাসর-ঘণ্টা আর শঙ্খ ধ্বনির আওয়াজে মিলিয়ে যাচ্ছে ছাগশিশুর করুণ আর্তনাদ।

মন্ডপে সজ্জিত অস্থায়ী বিশাল ঘণ্টা বাজিয়ে,সময় মেনে ‘বলি প্রদান’ এর সংকেত দিলেন প্রধান পুরোহিত।  ঢাকের আওয়াজ আর কাসর-ঘণ্টা-শঙ্খ ধ্বনির প্রাবল্য বেড়ে গেল কয়েক গুন। অসুরের রক্ত ভক্ষণের ইচ্ছায় প্রকট হলেন ‘দেবী কালিকা’। ভক্তবর্গের সমাবেশ ভেদ করে আবির্ভূতা হলেন মা মহামায়া। চ-িকা রূপধারী নিবেদিতা আচমকা কাপালিকের হাতের খড়্গ ছিনিয়ে  নিয়ে কোপ বসালো অমিয়ভূষণের গর্দানে। ধারালো খড়্গরে এক কোপেই ধড় থেকে মু- বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। ঘটনার আকস্মিকতায় ভক্ত সমাবেশ হতবাক নিরব। চরাচর নিশ্চুপ।  অস্বাভাবিক নিরবতা ভেঙে নিবেদিতার অট্টহাস্যে ফেটে পড়ল চরাচর।  দেবী কালিকার ভরপ্রাপ্ত  নিবেদিতা – নিজ কন্যার সম্ভ্রম লুন্ঠনকারী শয়তান অমিয়ভূষণের অসুর রক্ত পান করে তৃপ্ত হলোর্।