কথিত যুবলীগ লীগের নেতা বুনো কবিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ রাজারবাগান এলাকাবাসী


প্রকাশিত : অক্টোবর ৫, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে সাবেক বিএনপি নেতা বর্তমান যুবলীগ লীগের নেতা সেজে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও জমি দখল করছে শহরের রাজারবাগান এলাকার ঘরজামাই বুনো কবির। কথিত আছে খুলনার পাইকগাছার চাঁদখালী এলাকা কবিরুল ইসলাম ওরফে বুনো কবির সুন্দরবনের একজন চিহ্নিত বনদদস্যু। সুন্দরবনে র‌্যাবের অভিযান পরিচালনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়ে বর্তমানে সাতক্ষীরা রাজারবাগান এলাকায় আত্মগোপন করে বিভিন্ন নেতাদের নাম ভাঙিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তার কর্মকান্ড।
জানা যায়, কবিরুল ইসলাম ওরফে বুনো কবিরের বাড়ি খুলনার পাইকগাছার চাঁদখালী এলাকায়। তার বাবা জবেদ আলি জামাত নেতা এবং কবির বিএনপির ক্যাডার ছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকা দাহসহ ২০১৩ সালের নাশকতা ও গাছ কাটার মামলা থেকে রেহায় পেতে ২০১৫ সালের এলাকা থেকে পালিয়ে সাতক্ষীরায় চলে আসে। বাড়িতে স্ত্রী ও পাচ ছেলেমেয়ে থাকা সত্ত্বেও শহরের রাজারবাগান এলাকায় চিহ্নিত সুদখোর পিয়াকে বিয়ে করে। এরপর ভোল্ট পাল্টে যুবলীগের যোগদান করে। কিন্তু যুবলীগের কোন কমিটিতে তার নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। সাতক্ষীরা সদর এমপির ভাগ্নে জামাই পরিচয় দিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা চালিয়েছে যাচ্ছে। এরআগে এই বিষয়টি সদর এমপির নজরে আসলে তিনি তার জামাই পরিচয় দেওয়ার জন্য ধমক দেন এবং আর কোন সময় তার জামাতা পরিচয় দিয়ে কোন অপকর্ম করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে হুশিয়ার করেন। তারপরও একের পর এক অপরাধ করে চলেছে এই বুনো কবির।
শনিবার সকালে শহরের রাজার বাগান এলাকায় যুবলীগ নেতা ও এমপির জামাতা পরিচয় দিয়ে জমি দখল করতে গেলে এলাকাবাসী তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে এসে এলাকার মানুষদের জীবননাশের হুমকি দিতে থাকে। এব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। জিডি নং-২৭৮।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজার বাগান এলাকার একাধিক মানুষ জানান, কবির এলাকায় ঘর জামাই থাকে। সে এই এলাকায় আসার পর মাদকের প্রভাব বেড়েছে। সে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। সাম্প্রতি এলাকায় একজন মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়ে। এতে একজনকে আসামী করে মামলা করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় কবির এলাকার আরো অনেকের নামে মামলা হবে এই ভয় দেখিয়ে যুবকদের কাছ থেকে টাকায় হাতিয়ে নেয়। এলাকায় অবৈধ জুয়া ও ক্যারাম খেলার অনুমতি দিয়ে পুলিশের নাম করে মাসে মাসে টাকা তোলেন কবির। এলাকার যতো বিরোধপূর্ণ জমি আছে সেটা কিনে লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে দখল দেয়। তার কারণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী আরো জানান, কবির বিএনপি জোট সরকারের সময় নিজ এলাকায় পাইকগাছার মানুষের উপর অত্যাচার করে। ২০১৩ সালের নাশকতার সাথে জড়িত ছিলেন একাধিক মামলা নিয়ে সাতক্ষীরা পালিয়ে এসে এখানে বিয়ে করে বসবাস করে। যুবলীগের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে। এতে কারণে অতিষ্ট এলাকাবাসী। কবিরসহ দুইজন মিলে এলাকায় সুদের ব্যবসা করে। ভায়রা ভাই মোতিনুর রহমান কচি পৌর ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। দুই জনই শ্বশুরবাড়িতে থাকেন ঘরজামাই।
ভুক্তভোগী এলাকাটিবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কবির উচ্চ হারে সুদের ব্যবসা করে করে। তাদের কাছ থেকে ১লাখ টাকায় মাসে ৩০ হাজার টাকা করে লাভ দিতে হয়। অনেক ব্যবসায়ী টাকা নিয়ে ফেরত না দিতে পেরে বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। গাফ্ফার নামে এক ব্যবসায়ী পিয়া’র কাছ থেকে টাকা নিয়ে কয়েকমাসে আসল টাকার দ্বিগুণ সুদ হলে টাকা শোধ করতে না পেরে এলাকা ছাড়া হয়েছে। সরকারি কলেজ মোড়ের অধিকাংশ ব্যবসায়ী কাছে সুদের টাকা দিয়ে রেখেছে তারা। নিয়মবহিভূতভাবে সুদের ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।
জেলা যুবলীগের দায়িত্বশীল এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কবিরুল ইসলাম যুবলীগের কোন পদে নেই। আমরাও এর আগে যুবলীগের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের কথা শুনেছি। এরপর কোথাও যুবলীগের পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করলে আইনের হাতে তুলে দিতে বলেন তিনি।
সাতক্ষীরা সদর আসনের সাংসদ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, রাজারবাগান এলাকায় কবির নামে আমার কোন ভাগ্নে বা জামাতা নেই। আমার সুনাম ক্ষুণœ করতে অনেকে আমার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অপকর্ম করছে। বদমাইস যারা তারা সব সময় বদমাইস। আমার পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ কোন অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।