কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা: ছোট আহবায়ক, সজল সদস্য সচিব


প্রকাশিত : অক্টোবর ৬, ২০১৯ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: দীর্ঘ জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কালিগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠিত হয়েছে বলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম ৫ অক্টোবর স্বাক্ষরিত একপত্রে নিশ্চিত করেছেন। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বয়াক মনোনীত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ও তারালী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট। যুগ্ম-আহ্বায়ক মনোনীত হয়েছেন যথাক্রমে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দীন এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডিএম সিরাজুল ইসলাম। এছাড়া সদস্যসচিব মনোনীত হয়েছেন ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সজল মুখার্জী। ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা হলেন যথাক্রমে এড. শেখ মোজাহার হোসেন কান্টু, নরিম আলী মাস্টার, শেখ নাজমুল ইসলাম (উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান), দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার সরকার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান জামু, কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু, শামছুল হক মাস্টার, অমল মাস্টার, আবুল কাশেম, আহমদ আলী (তারালী), মোজাম্মেল হক মোজাম (চাম্পাফুল), আনিছুজ্জামান (নলতা), কাজী কাওফিল অরা সজল (কুশুলিয়া), গোবিন্দ কুমার মন্ডল (দক্ষিণ শ্রীপুর), নুরুল হক (বিষ্ণুপুর), মোস্তফা কবিরুজ্জামান মন্টু (কৃষ্ণনগর), দুলাল ঘোষ (মৌতলা), মোখলেছুর রহমান মুকুল (মথুরেশপুর), আশরাফুল হোসেন খোকন (রতনপুর), নাজমুস শাহাদাত রাজা (ধলবাড়িয়া)। গঠিত কমিটিকে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে গঠনতন্ত্র মোতাবেক উপজেলা সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের স্থবিরতা কাটিয়ে সংগঠনকে গতিশীল করার উদ্যোগ নেয়ায় নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তারা। খুশীর আমেজ সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনেও। একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ওই সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী এড. শেখ মোজাহার হোসেন কান্টু সভাপতি পদ থেকে নাম প্রত্যাহার করায় অপর প্রার্থী আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের কান্ডারী বর্ষিয়ান জননেতা যুদ্ধকালীন কমান্ডার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহেদুজ্জামান পূণরায় সভাপতি নির্বাচিত হন। আর কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সাঈদ মেহেদী। এরপর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনেকটা প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের কারণে দীর্ঘদিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। বরং দলের মধ্যে শুরু হয় বিভাজনের রাজনীতি। দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখায় সাড়ে চার বছরের অধিক সময় পূর্ণাঙ্গ কমিটিবিহীন থাকায় দিন দিন দুর্বল হতে থাকে। একপর্যায়ে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওয়াহেদুজ্জামান মৃত্যুবরণ করেন। আর এর মধ্যে দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে একমাত্র ব্যক্তিতে পরিণত হন সাঈদ মেহেদী। তিনি বিগত পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। সে কারণে সংগঠনের মধ্যে সাঈদ মেহেদীর ভূমিকা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। সাঈদ মেহেদী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে তার ব্যাপক দুরত্ব সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ছয় মাসের অধিককাল এভাবে চলার পর শেষ পর্যন্ত সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠিত হওয়ায় সংগঠনের মধ্যে অনেকটা স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। তবে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির মধ্যে হাইব্রিড হিসেবে খ্যাত উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নুরুজ্জামান জামুকে অন্তর্ভূক্ত করায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে বিগত এসএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে পাশ করার উদ্যোগ নিতে যেয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ধরা পড়া এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নুরুজ্জামান জামুর জেল খাটার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় চলে এসেছে। তার অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি পূনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে শো’কজের প্রক্রিয়ায় থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী এবং প্রয়াত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের বড় ছেলে কুশুলিয়া ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মেহেদী হাসান সুমনকে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি বলে ধারণা করছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সচেতন মহল।