আজ দুর্গোৎসবের মহানবমী


প্রকাশিত : অক্টোবর ৬, ২০১৯ ||

সচ্চিদানন্দ দে সদয়: নবমী মানেই মন কাঁদে। কারণ আর কয়েক ঘন্টা পার করলেই দুর্গা মা বিদায় নেবেন। আপামর বাঙালির পুজোর পাঁচটা দিনের অপেক্ষায় কাটে গোটা বছর। নবমী মানেই পুজো শেষ। মন ভার করে আবার সেই একঘেয়ে জীবনে ফিরে যাওয়া। পুরাণ মতে, এ দিনে লংকা অধিপতি রাবণ বধের পর নবমী তিথিতে ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন রামচন্দ্র। তাই আজকের এ মহানবমীতে ষোড়শ উপাচারের সঙ্গে ১০৮টি নীলপদ্মে পূজিত হবেন মা দুর্গা। মহালয়ার পর থেকেই শুরু হয় দুর্গাপুজার দশ দিনের কাউন্টডাউন। ষষ্ঠী পুজোর পর সপ্তমী পুজো দিয়ে শুরু হয় দেবীর বোধন। পুরান অনুযায়ী, দেবী দুর্গা এবং মহিষাসুরের দীর্ঘ লড়ালাইয়ের চুড়ান্ত দিনটিকে চিহ্নিত করা হয় নবমীতে। তার পরে দশমীর দিনই পরাজিত হয়েছিল মহিষাসুর। একই সঙ্গে জয় হয় নারী শক্তির। সেই দিন থেকেই শুরু হয়, দেবীর উপাসনা। পূর্বে রামের প্রতি অনুগ্রহ করে রাবণ বধে তাঁকে সাহায্য করার জন্য ব্রহ্মা রাত্রিকালে এই মহাদেবীর বোধন করেছিলেন। বোধিতা হয়ে দেবী গেলেন রাবণের বাসভূমি লঙ্কায়। সেখানে তিনি রাম ও রাবণকে দিয়ে সাত দিন ধরে যুদ্ধ করালেন। নবমীর দিন জগন্ময়ী মহামায়া রামের দ্বারা রাবণ বধ করেন। যে সাত দিন দেবী রামরাবণের যুদ্ধ দেখে আনন্দ করলেন, সেই সাত দিন দেবতারা তাঁর পূজা করেন। রাবণ নিহত হলে নবমীর দিন ব্রহ্মা সকল দেবতাকে সঙ্গে নিয়ে দেবীর বিশেষ পূজা করলেন। তারপর দশমীর দিন শবরোৎসব উদযাপিত হল। শেষে দেবীর বিসর্জন হল শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী আজ। নবমী বিহিত পূজা হয় নীল কণ্ঠ, নীল অপরাজিতা ও যজ্ঞের মাধ্যমে। এই পূজার মাধ্যমে মানবকুলের সম্পদ লাভ হয়। আজ এই দিনে ভক্তরা স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে আসা দেবীকে নানা উপাচার্যে আরাধনা এবং বিশ্ববাসীর শান্তি প্রার্থনা করে।নবমী পূজায় দেবী দুর্গার কাছে যজ্ঞের মাধ্যমে আহুতি দেয়া হয়। প্রতিবছর এই তিথিতে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা ভক্তদের মাঝে আর্বিভূত হন অসুর শক্তির হাত থেকে মানুষের মুক্তি ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য। এদিন পূজার পর থেকেই মাকে বিদায় জানাতে ভক্তদের হৃদয়ে বাজতে শুরু করে বিষাদের সুর। মঙ্গলবার বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এবছরের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। মহানবমী হল দুর্গা পূজার শেষ দিন। সন্ধিপূজার পর শুরু হয় মহানবমীর পূজা। এই  দিন ষষ্ঠী থেকে যত দেবদেবীর পূজা করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আহুতি দিতে হয়। এই দিনের অন্যতম অঙ্গ হচ্ছে বলিদান। কুস্মান্ড, ইক্ষুদান বলি দেওয়া হয়। সৃষ্টি, স্থিতি, বিনাশ দেবী দুর্গার এই তিন শক্তির আরাধনা করে থাকেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। আজ মহানবমীতে আনন্দ আয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে বাজছে বিদায়ের সুর কেননা আগামীকাল মহাদশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা।