গাবুরায় ১০ নম্বর সোরা খালে অবৈধ নেটপাটা: সুবিধা বঞ্চিত ৩ হাজার পরিবার


প্রকাশিত : অক্টোবর ৭, ২০১৯ ||

বিলাল হোসেন, মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর): শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরায় হরিশখালি চকবারা গাইন বাড়ি ১০ নম্বর সোরা চাঁদনীমুখা ও আশেপাশের গ্রামে দরিদ্র মানুষ বসবাস করে। গাবুরা ইউনিয়ন ৯৫ ভাগের বেশি জায়গায় বাগদা চিংড়ি চাষ হয়। গাবুরা ১০ নম্বর সোরার গায়েন বাড়িসহ চাঁদনীমুখা গ্রামের মাঝে ৩টি বড় ফসলী বিল অবস্থিত। এই এলাকা এক ফসলি। আমন মৌসুমে এসব গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলো ধান চাষ করে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ও আইলার আঘাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আবার কখনো অনাবৃষ্টি, কখনো অতিবৃষ্টি, আবার কখনো লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে এই ক্ষতির মাত্রাকে আরো তীব্রতর করেছে। কিন্তু আশির দশকে খালগুলি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া ও প্রভাবশালী লোকজনের দখলদারিত্বের কারণে ৯৫ভাগ খালের কোন অস্তিত্ব নেই। কেউ দখল করে মাছ চাষ করছে আবার এই খাল দখল করে ভরাট করার কারণে অতি বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বঞ্চিত হচ্ছে অসহায় দরিদ্র মানুষের। গাবুরা ইউনিয়নের ১০ নম্বর সরার কিছু প্রভাবশালী লোক এই খালটি দখল করে অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে রেখেছে। স্থানীয় গোপন সূত্রে জানা যায়, গাবুরা ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, মনিরুল শেখ, হক সরদার, আসাউর রহমান, আসাদ আলী, সামাদ গাজীসহ কয়েকজন প্রভাবশালী এই খাল দখল করে অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে রেখেছে। গাবুরা ইউনিয়নের ১০ নম্বর সোরার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান গাজী (৭৬) বলেন, আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট ভালো না, একসময় আমরা নৌকা নিয়ে এই খাল দিয়ে বিভিন্ন বাজারে কেনাকাটা করতে যেতাম। এখন খালটা দখল হয়ে যাওয়ার কারণে অবৈধ নেট-পাটা বসানোর জন্য আমরা রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যেতে সমস্যা বোধ করি। যদি নেট-পাটা তুলে মুক্ত করা হয় তাহলে আমরা পুনরায় নৌকা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বাজার ঘাট করতে পারব। মাসুম বিল্ল¬াহ (৩৫) বলেন, কিছু সংখ্যক প্রভাবশালী খালটি দখল করে নেট-পাটা দেয়ার কারণে এ বছর প্রথমবার ধান লাগালে তা মারা যায়। পরে আবার নতুন করে পাতা (ধানের চারা) লাগাই। খালটি থেকে যদি অবৈধ নেটপাটা সরানো হয় তাহলে আমাদের ধান ভালো হবে এবং আমরা গরীব মানুষ দুমুঠো খেতে পারবো। নওশের গাজী (৫৫) বলেন, ১০ নম্বর সোরার খালটি দখল করে অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে রাখার কারণে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়। বিলে পানি ঠিকমতো সরাতে পারি না।

দখলের বিষয়ে গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার দখলের বিষয়টি প্রশ্নই ওঠে না। আমি বা আমার কোন লোক ওখানে দখলবাজি করছে না। তাছাড়া আমি খালটি দখলমুক্ত করতে অনেক সহযোগিতা করছি। দু’চারদিনের মধ্যে খালটির অবৈধ নেট-পাটা উঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া তিনি আরও বলেন, জেলাব্যাপী সরকারি খালের অবৈধ নেট-পাটা অপসারণের ব্যবস্থা করা হলেও গাবুরা ইউনিয়নে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি উপজেলা প্রশাসন। গাবুরা ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা গগন চন্দ্র মন্ডল বলেন, আমরা অবৈধ নেট-পাটা বসানোর তালিকা করে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার কথা বলে আসছি। তারা যদি না সরায় পূজার পরে নেট-পাটা অপসারণের অভিযান চালানো হবে।

দখলের বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইজারাকৃত খাল পর্যায়ক্রমে অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করা হবে। গাবুরা ইউনিয়নের ১০ নম্বর সোরা খালটি দখলমুক্ত করা হলে স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত তিন হাজার পরিবার তাদের অধিকার ফিরে পাবে। এজন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লি¬ষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসি।