কালিগঞ্জের বসন্তপুর সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও আবেগ উচ্ছ্বাসে বিজয়া দশমী উদযাপন


প্রকাশিত : অক্টোবর ৯, ২০১৯ ||

নিয়াজ কওছার তুহিন: বুধবার দুপুরের পর থেকে মেঘে ঢাকা আকাশ। সেই সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। এর মধ্যেই ছিল কালিগঞ্জে বসন্তপুর ও ভারতের হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্ত নদীতে শুভ বিজয়া দশমী উপলক্ষে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। এবারও বিজয়া দশমীতে মিলনমেলা উপভোগের জন্য বসন্তপুর বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় কালিন্দী, ইছামতি ও কাকশিয়ালী নদীর মোহনায় ভীড় করতে থাকে শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ। সীমান্ত নদীর মাঝ বরাবর ছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এর কঠোর নজরদারি। এর মধ্যেই অনেক আবেগ ও উচ্ছ্বাসে নিজ নিজ দেশের পতাকা নিয়ে কালিন্দীর বুকে নামে বেশ কিছু ইঞ্জিন চালিত নৌকা, কার্গো ও স্যালো ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকা। কিছু নৌযানে ছিল প্রতিমা। প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌকাগুলো নিজ নিজ সীমানার মধ্যে চক্কর দিতে থাকে। দু’দেশের মানুষ একে অপরকে জানায় শুভেচ্ছা। নিরাপত্তার কড়াকড়িতে মিলনমেলায় আনন্দের কিছুটা কমতি হলেও যেটুকু প্রাপ্তি ঘটেছে তাতেই অনেকের চোখেমুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির ছাপ। তবে বিগত বছরের মতো এবার সন্ধ্যায় আঁতশবাজির ঝলকানি চোখে পড়েনি।
প্রসঙ্গত, এবছর কালিগঞ্জের ১২ ইউনিয়নে ৫২ মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও প্রতিমা বিসর্জন হয়েছিল কয়েকটি মন্ডপে। অবশিষ্ট মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে বুধবার। জাতীয় হিন্দু মহাজোট কালিগঞ্জ উপজেলা শাখা ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ছাড়াও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান শেখ নাজমুল ইসলামসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন। উপজেলার মৌতলার পরমানন্দকাটি সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে বিগত বছরের ন্যায় এবারও বৃহৎ পরিসরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। সেখানে ছিল ১৩১টি প্রতিমা। ছিল বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা। এই মন্ডপে ছিল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপচে পড়া ভিড়। এছাড়াও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দকাটি হাইস্কুল মাঠ পূজামন্ডপ, মৌতলার লক্ষ্মীনাথপুর ফুটবল মাঠ পূজা মন্ডপ, নলতার কালীবাড়ি সার্বজনীন পূজা মন্ডপ, তারালীর কাঁকশিয়ালী কালীতলা সার্বজনীন পূজামন্ডপ, কুশুলিয়া রথখোলা, জিরণগাছা ও ভদ্রখালী পূজামন্ডপ, বিষ্ণুপুরের বাবুর বাড়ি, উদয়বাবুর বাড়ি ও পারুলগাছা সার্বজনীন পূজামন্ডপসহ প্রায় সকল পূজামন্ডপে ছিল দেবীভক্তদের ভিড়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে অধিকাংশ পূজামন্ডপে ধর্মীয় যাত্রাপালা, আরতি প্রতিযোগিতা, উলুধ্বনি ও শঙ্খবাজানো প্রতিযোগিতা, বস্ত্র বিতরণসহ নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এবছর দেবী দুর্গা ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে মর্ত্যালোকে পিতৃগৃহে এসেছিলেন। আবার কৈলাশে স্বামীর গৃহে ফিরেছেন ঘোটকে চড়েই।