আশাশুনির পল্লীতে মুক্তিযোদ্ধা কন্যা স্বপ্না দু’যুগ পর পিতৃ পরিচয় ফিরে পেলেও জন্ম পরিচয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দেন দরবার


প্রকাশিত : অক্টোবর ৯, ২০১৯ ||

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির পল্লীতে মুক্তিযোদ্ধা কন্য স্বপ্না জন্মের ২৫ বছর পর পিতৃ পরিচয় ফিরে পেলেও পাচ্ছে না পারিবারিক স্বীকৃতি। সৎ ভাইয়ের হয়রানির শিকার হয়ে আশাশুনির বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে বেড়াতে হচ্ছে শ্রীউলা ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুস ছাত্তারের কন্য বরগুনার গৃহবধু সাহানাজ পারভীন স্বপ্নাকে। ২০১৮ সালে স্বপ্না পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্যে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন। তৎকালীন ইউএনও মাফফারা তাসনীন বিষয়টি সঠিক তদন্তান্তে প্রতিবেদন দাখিল করতে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার, যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা ও পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তাকে দিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের নিকট জানাশুনা শেষে দীর্ঘ তদন্ত এবং দু’পক্ষের শুনানী শেষে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, সাহানাজ পারভীন ওরফে স্বপ্না মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুস ছাত্তারের দ্বিতীয় স্ত্রীর একমাত্র কন্য। কিন্তু তাকে বোন মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে একের পর এক অভিযোগ করে হয়রানি অব্যাহত রেখেছে স্বপ্নার সৎভাই লিটু গাজী। স্বপ্না জানান, আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের মৃত. ওয়াজেদ আলী গাজীর ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মৃত আব্দুস ছাত্তারই আমার পিতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বাবা খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ছিলেন। তিনি খুলনা শিপিয়ার্ড সংলগ্ন আমার নানার বাড়ি থেকে লেখাপড়া করতেন। যুদ্ধ চলাকালিন তিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধ শেষে তিনি খুলনাতে ফিরে আসেন। এরপর গ্রামের বাড়িতে ফিরেই আমার বাবা সৎ মায়ের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। এক সন্তান হওয়ার পর পারিবারিক বিরোধ হলে বাবা আবার খুলনা আমার নানার বাড়ি চলে আসেন। নানা মুক্তিযোদ্ধা বাবার সাথে আমার মা শেফালির বিয়ে দেন। বিয়ের পর বাবা মাকে নিয়ে আশাশুনির গাজীপুর গ্রামের বাড়ি ফেরেন। গ্রামের বাড়ি ঢুকেই মা জানতে পারেন আমার বাবার ফতেমা নামের আরেকটি স্ত্রী-সন্তান আছে। ৩/৪ মাস সংসারি করার পর সতিনের জ্বালা সইতে না পেরে মা আমাকে গর্ভে নিয়ে নানার বাড়ি ফিরে আসেন। ভূমিষ্ঠ হওয়ার ২৫ বছর মা পিতৃ পরিচয় গোপন রাখলেও মায়ের মৃত্যুর সময় তিনি আমার পিতৃ পরিচয় জানিয়ে যান। এরপর থেকে আমি আমার জন্মদাতার বাড়ি ২০১৫ সালে মায়ের দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী গাজীপুর গেলে আমাকে এক নজর দেখার জন্য শতশত গ্রামবাসী ছুটে আসে। এরপর ভাইবোন হিসেবে আমরা একে অপরের সাথে মিলেমিশে যোগাযোগ রাখি। বাবার দুই বিয়ে, প্রথম স্ত্রীর এক ছেলে ও ৫ মেয়ে আর দ্বিতীয় স্ত্রী অর্থাৎ আমার মায়ের আমিই একা কন্যা। আমার সৎ ভাই লিটু যখন জানতে পারে আমার পিতার মুক্তিযুদ্ধের সম্মানী ভাতা দুইটা ভাগ হবে। সে থেকেই শুরু হলো সৎ ভাই-বোনদের সাথে আমার বিরোধ। এই বিরোধের জের ধরে লিটু প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আমাকে নিয়ে মনগড়া অভিযোগ করে চলেছেন। সৎ ভাইয়ের সকল মিথ্যা, বানোয়াট ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা ও পৈত্রিক স্বীকৃতি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন হতভাগা স্বপ্না। এ বিষয়ে স্বপ্নার সৎ ভাই লিটুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিচার চেয়েছি বিচারে যেটা হবে আমি তা মানতে বাধ্য। এর বেশী আমার কিছুই বলার নেই।