জাপানে আঘাত হানতে শুরু করেছে টাইফুন ‘হাগিবিস’, নিহত ২


প্রকাশিত : অক্টোবর ১২, ২০১৯ ||

জাপানে ‘ক্যাটাগরি-৩’ মাত্রার শক্তিশালী টাইফুন হাগিবিসের তাণ্ডবে দেশটির সবচেয়ে বড় দ্বীপ হনশুতে দুই জন নিহত ও প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছেন। এর প্রভাবে টোকিওতে ৬০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড় বয়ে যাচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘূর্ণিঝড় হনশু দ্বীপের উপকূল দিয়ে স্থলভাগের দিকে উঠে আসে। এখন ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার গতি নিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়টি।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকেতে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবহাওয়া সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইতোমধ্যেই বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ক্ষয়ক্ষতি হওয়া হয়তো শুরু হয়ে গেছে। সবার জীবন রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’

রাজধানী টোকিওর পূর্বাঞ্চলে শনিবার ভোরে ঝড়ো বাতাসে গাড়ি উল্টে ৪০ বছরের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। জাপানের পূর্বাঞ্চলীয় একটি শহরে ভূমিধসে দুটি বাড়ি ধ্বংস হয়ে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখানে কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে এনএইচকে জানিয়েছে।

হাগিবিস ১৯৫৮ সালের পর থেকে টোকিওতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাপান সরকার। এই ভয়াবহ টাইফুনের কারণে ১৬০০ এর অধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। টোকিওর প্রধান দুটি বিমানবন্দর থেকে সব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বুলেট ট্রেনসহ বহু ট্রেনসেবা বাতিল করা হয়েছে। টোকিওর কাছে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থানীয় সময় সকাল ১১ থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

টাইফুনের তাণ্ডব শুরু হওয়ার আগে শনিবার সকালে টোকিও ও এর আশপাশের বহু লোক অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে। এর আগে স্থানীয় ষাট লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সন্ধ্যায় টাইফুন হাগিবিস জাপানের প্রধান দ্বীপ হনশুর উপকূল দিয়ে স্থলে উঠে আসে। পূর্ণ জোয়ার চলার সময় টাইফুনটি স্থলভাগের দিকে উঠে আসায় কয়েকটি নদীর পানি তীর ছাপিয়ে উপচে পড়ে। এতে টোকিওর নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে উষ্ণ প্রস্রবণের শহর হাকোনেতে ২৪ ঘণ্টায় ৯৩৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার (৩৭ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছে।

টোকিওসহ জাপানের ১২টি প্রশাসনিক এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। এসব এলাকায় কয়েক দশকের মধ্যে মাত্র একবার ঘটে এমন প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে এরই মধ্যে হাজার হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

টাইফুনের আশঙ্কায় জাপানে অনুষ্ঠিত রাগবি বিশ্বকাপের শনিবার অনুষ্ঠিতব্য দুটি ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফর্মুলা ওয়ান রেসের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

হাগিবিস শব্দের অর্থ ‘গতি’। ফিলিপিন্সের ভাষা ‘তাগালগ’ থেকে হাগিবিস শব্দটি নেওয়া হয়েছে।

গত মাসে জাপানে আঘাত হানে আরেকটি শক্তিশালী টাইফুন ফাক্সাই। ওই ঝড়ের কারণে রাজধানী ও আশেপাশের এলাকায় বিঘ্নিত হয় পরিবহন চলাচল। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ব্যাপক এলাকা। ওই ঝড়ের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার মধ্যেই এগিয়ে আসছে নতুন টাইফুন।