বেনাপোল সীমান্তে কমেছে চোরাচালান, বেড়েছে চাষ: বেনাপোল মাঠেই বসছে আখের হাট


প্রকাশিত : অক্টোবর ১৪, ২০১৯ ||

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): বেনাপোলে চার প্রজাতির সুমিষ্টি আখ চাষে সাফল্য পেয়েছে একটি গ্রামের প্রায় ৩শ’ চাষী। ঐ মাঠেই বসছে আখের হাট। বাড়ছে চাষ- লাভবান হচ্ছে চাষী ও ব্যবসায়ি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আখ যাচ্ছে এলাকার বাইরে। স্বচ্ছলতা ফিরেছে অনেক পরিবারে। গ্রামের মাঠেই আখের হাট বসায় নারী পুরুষেরা কেচাকেনা করছেন মিষ্টি আখ।
সীমান্ত ঘেরা গ্রাম বেনাপোলের পুটখালি। অস্ত্র মাদক পশু স্বর্ণ ও নারী শিশু পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিত গ্রাম পুটখালি। সীমান্তে বিজিবি বিএসফের কড়াকড়িতে কমে গেছে পাচার। তাই অনেকে ঝুকছেন আখসহ বিভিন্ন সবজি চাষে। গেন্ডারী লিপিস্টিক, কাজল, ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন প্রজাতির আখচাষে লাভবান হওয়ায় ঐ গ্রামের কয়েকশত কৃষকের পারিবারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। লাভবান হচ্ছেন তারা। খুশি চাষী ও ব্যবসায়িরা। কমদামে ভাল মানের পছন্দের আখ কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারাও। পুটখালি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: হাদিউজ্জামান বলেন সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান কমেছে, মানুষ আখ চাষে ঝুকছেনে। আখচাষে লাভবান হওয়ায় কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছে। চোরাচালান ছেড়ে অনেকে ব্যবসা ও চাষ করছেন। সহযোগিতা দিচ্ছেন কৃষি বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ।
মাঠের পাশে পথের ধারে বসেছে আখের হাট। উপকার পাচ্ছেন ক্রেতারা কম দামে সুন্দর আখ কিনতে পেরে খুৃশি ক্রেতা ও বিক্রেতারা। গৃহবধু আমেনা ও মৌসুমী বেগম বলেন, শুশুরবাড়ি থেকে যাচ্ছেন বাড়িতে। পথের ধারে আখের হাট থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন সুন্দর আখ। হাতেরকাছে কাছে আখ পেয়ে আনন্দিত তারা।
প্রতি বিঘায় ২৫/৪০হাজার টাকা খরচ করে আখ বিক্রি হয় দেড় লাখ টাকার। বাড়ির পাশেই মাঠের মধ্যেই আখের হাটে কোন ঝামেলা ও খরচ ছাড়াই বেচাকেনা হয় ভাল। তাই আখ চাষেই বেশী লাভবান তারা।
কৃষক মতিয়ার রহমান ও খোরসেদ আলম বলেন, আখ চাষে লাভবান হলেও পচা ও শুকনারোগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনেক আখক্ষেত। ঔষধে হচ্ছে না কাজ। তাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কিছুচাষী। তবে গত কয়েক বছর যাবত আখ চাষে লাভবান হয়েছেন তারা।
চাষী আমিনুর রহমান ও আব্দল খালেক বলেন ৩ বিঘা জমিতে আখ চাষ করে খরচ হয়েছে ৬০হাজার টাকা। তিনি দেড় লাখ টাকার আখ বিক্রি করেছেন। আরো ২লাখ টাকার আখ বিক্রির আশা করেন তিনি।
শার্শা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা বলেন, উপজেলায় বিভিন্ন প্রজাতির আখচাষ হয়েছে। ফলন ও দাম ভাল পাবে কৃষকেরা। তবে কিছু জমিতে আখে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকের পরামর্শ সহযোগিতা ও প্র্িরশক্ষণ দিচ্ছেন কৃষি বিভাগ। দিনদিন আখচাষে স্বাবলম্বি হচ্ছে চাষীরা। এলাকার আখ যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়।
উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩৫হেক্টর জমিতে হয়েছে আখ চাষ, জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গৌতম কুমার শীল।