কলারোয়া শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজে এক শিক্ষকের এমপিও সাময়িক স্থগিত করার সুপারিশ


প্রকাশিত : অক্টোবর ১৬, ২০১৯ ||

মনিরুল ইসলাম মনি: কলারোয়া শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজের বিএম কোর্সের ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্যাটার্ন বহিভূতভাবে নিয়োগ বৈধ নয় এবং তার সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি ও বিধি সম্মত নয় উল্লেখ করে উক্ত শিক্ষকের এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিল করা যেতে পারে এমন সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক অনিমেশ পাল। একই কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মফিজুর রহমানের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিন তদন্ত করে এ প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদনে কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এর ২৮.১.৭ ধারা মোতাবেক কেন তার এমপিও স্থগিত বা বাতিল করা হবে না সেই মর্মে তাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব প্রদানের জন্য শো-কজ নোর্টিশ প্রদান করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়া উপজেলার শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজের বিএম কোর্সের ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক কামরুজ্জামান প্যাটার্ন বহিভূত ভাবে ১৯৯৮ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং এই দীর্ঘ সময় অবৈধভাবে সরকারি টাকা উত্তোলন করে আসছে। পরে তার এ অবৈধ নিয়োগের এবিষয় তুলে ধরে একই কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মফিজুর রহমান বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রনালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। উক্ত অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তে আসেন খুলনা অঞ্চলের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক অনিমেশ পাল। পরে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন জানা দেন। উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি সুপারিশ করেন, এইচ এম কামরুজ্জামান ১৯৯৮ সালে নিয়োগকালীন সময়ে মাষ্টার্স সার্টিফিকেটে ৩য় বিভাগ, যা বিধি সম্মত নয় এবং প্যাটার্ন অনুযায়ী তার নিয়োগ বৈধ নয়, এছাড়া তার সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতিও বিধি সম্মত নয়।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, তার নিয়োগ অবৈধ ও প্যাটার্ন বহিভুত বিভাগীয় তদন্তে প্রমানিত হওয়ার পরও ১৯৯৮ সাল হতে অদ্যাবধি সরকারের লাখ লাখ টাকা অবৈধ ভাবে উত্তোলনে কলেজ কর্তৃপক্ষ সহায়তা করছে এবং এখনও পর্যন্ত সরকারী বিধি ও নিদেশনা লঙ্ঘন করে তার বেতন ভাতার সরকারী অংশ উত্তোলনের কাজে কলেজ কর্তৃপক্ষ সহায়তা করছেন। যাহা সরকারী কোষাগার তছরুপের সামিল। তারা বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এবিষয়ে জানতে শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজের বিএম কোর্সের ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক কামরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহুত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কলারোয়া শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফোন রিসিভ করেনি।